লহো প্রণাম
মিত্রা রায় চৌধুরী
চারিদিকে অবক্ষয়ের ছবি। ধনী-দরিদ্র শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে মানবিকতা শৌর্য্য, ধৈর্য সহিষ্ণুতা হারিয়ে ফেলেছে। এখনো মানুষ জাত পাতের ঘেরাটোপে বন্দি। আমরা ভুলেই গেছি স্বামীজীর আত্মত্যাগের কথা। ভারতের ঘরে ঘরে আলো জ্বালাতে চেয়েছিলেন স্বামীজি ,। সেই কাজ করতে গিয়ে পদব্রজে ভারত ভ্রমণ করে তিনি ভারত তথা ভারতবাসীকে জেনেছেন। নিরন্ন মূর্খ দরিদ্র ভারতবাসী র সামগ্রিক উন্নতিকল্পে নিদারুণ কষ্ট সহ্য করে, নিজের জীবনই শক্তিকে নিঃশেষে বিলিয়ে দিয়ে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে অসময়ে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন।
আমরা তারই উত্তর সুরি রা তাকে নিরাশ করেছি। দিকভ্রষ্ট যুবসমাজ। আমরা তার আদর্শকে সত্যি কি অন্তরের স্থান দিয়েছি? তার জন্মদিন আসলে আমরা তার ছবিকে ফুলমালা দিয়ে সাজাই স্মরণসভা করি এতেই আমাদের দায় শেষ।
এই স্মরণ কি সত্যিই স্মরণ।! আত্মতুষ্টির নীরব আয়োজন।নিজেদেরকে বিবেকের সামনে দাঁড় করাই না। বিবেকানন্দ মানুষের মধ্যে ঈশ্বরকে দেখেছিলেন আমরা সেটা দেখতে ভয় পাই তাই নীরব থেকে সব অন্যায়ের সাথে আপোষ করে নেই।
ভারতবর্ষের যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু সংবেদনশীলতা কমেছে তাই আমরা লজ্জা পাই না। ক্ষুধার্ত অসুস্থ মানুষ দেখলে পাশ কাটিয়ে চলে যাই। তাদের আমরা বোঝা বলে ভাবতে শিখেছি। যেশক্তিকে স্বামীজি ধারণ করতে বলেছিলেন সে শক্তি আমরা আত্মস্থ করেছি ঠিকই কিন্তু তা হয়ে গেছে দুর্বলতার নগ্ন প্রকাশ।
স্বামীজি কি তো একবার নয় বারবার বলেছিলেন ভারতবাসীর মঙ্গল সাধনের নিমিত্ত আমি বারংবার মনুষ্য জন্ম লাভ করতে রাজি আছি। স্বামীজি এই সামাজিক চূড়ান্ত অবক্ষয়ের সময়ে তোমাকে আমাদের খুব প্রয়োজন।
লহ প্রণাম
মধ্য গগনে সূর্য সম দীপ্তমান
সুঠাম দেহ বলিষ্ঠ গড়ন
মানবপ্রেমী উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক
সপ্ত ঋষির এক ঋষি।
গুরুর একান্ত আহবানে
ধরাধামে পদার্পণ।
তার নির্দেশ মতো চলা শুরু
চলতে চলতে সব জঞ্জাল অপসারণ
মানব কল্যানে কৃচ্ছ সাধন।
নিজেকে নিঃশেষে বিলিয়ে দিয়ে
নিরন্ন মূর্খ দরিদ্র ভাই বোনেদের
মা নসিক জাগরনের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা।
গেরুয়া বসনধারী দীপ্ত ভঙ্গিতে প্রকট
সকলেরই আদর্শ স্বরপ,
ক্ষন জন্মা পুরুষ শ্রেষ্ঠ বীর সন্তান
তোমাকে জানাই মন
ভুলুন্ঠিত প্রণাম।

No comments:
Post a Comment