বডি
গৌতমেন্দু নন্দী
"---কীরে আর কতক্ষণ লাগবে ?"
" ---আর আধাঘণ্টা মতো সময় লাগবে--"
"----ইলেকট্রিক চুল্লিতে বডি তো বিশ-পঁচিশ মিনিট আগেই ঢুকল। এতো তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে?!"
---এই কথোপকথন চলছে সুদীপ্তর দুই বন্ধু বিশ্বজিৎ ও দেবাশীষের মধ্যে।
করলা নদীর ধারে শ্মশানের বিশ্রাম কক্ষের পরিসরে তার বন্ধু সহ পাঁচ ছয় জন শ্মশান যাত্রীদের সাথে বসে আছে সদ্য মাতৃহারা সুদীপ্ত।
গভীর রাতেও হ্যালোজেনের হলুদ আলোতে শ্মশানের সেই নিস্তব্ধতা,গা ছমছমে পরিবেশ এখন আর নেই। তবুও মা কে হারিয়ে এক অব্যক্ত শূণ্যতা গ্রাস করে চলেছে সুদীপ্ত কে।
সুদীপ্ত ভাবছে তার দুই বন্ধু, বিশ্বজিৎ ও দেবাশীষ যারা ছিল তার মা অর্থাৎ মাসীমা অন্ত প্রাণ, তাদের
কাছে আজ কী অনায়াসে তার মা ,আর মাসীমা নয়,"বডি" তে রূপান্তরিত হয়ে গেল! শুধু ওরা নয়, যখন শববাহী গাড়িতে মা কে তোলা হচ্ছে তখনও সেই উচ্চারণ ----" এই সাবধানে তোল বডি..."!
কী নির্মম বাস্তব! জীবন্ত মানুষ কে বাঁচিয়ে রাখতে কতো উৎকন্ঠা,উদ্বেগ! আর প্রাণহীন হলেই নিথর শরীর টা কত তাড়াতাড়ি সৎকার করা যায় তার ব্যস্ততা!
সুদীপ্ত ভাবতে থাকে কয়েক ঘন্টা আগেও তো সে ভাবতে পারেনি এইভাবে হঠাৎ সে মাতৃহীন হয়ে পড়বে। অথচ কত হাজার ভোল্টের তপ্ত আঁচে পুড়ে যাচ্ছে তার সেই ভাবনা! সুদীপ্ত ভাবতে থাকে সেই ভাবনা, অনুভূতি সত্যি কি পুড়ে যায়, না পোড়ানো যায়!
সুদীপ্ত মাথা তুলে তাকিয়ে থাকে চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার দিকে। সে দেখতে পাচ্ছে "বডি" নয়, মায়ের জীবন্ত শরীরটা মিলিয়ে যাচ্ছে রাতের অন্ধকারে অজানা এক "লোক"-এর দিকে।

No comments:
Post a Comment