গতানুগতিক
সুধাংশু চক্রবর্তী
সবজি ব্যাপারী চন্দ্রনাথ সবে পসরা সাজিয়ে বসেছে। মন্দা বাজার। গুটিকতক খুচরো পয়সা সঙ্গে রাখতে হয়। বউ-এর লক্ষ্মীর ভাঁড় ভেঙ্গে খুচরো পয়সাগুলো সঙ্গে এনেছে। খদ্দেরকে খুচরো ফেরত দিতেই হয়।
‘টাকা ছাড় চন্দ্রনাথ’ শুনে চোখ তুলে মস্তানদের নেতা ধিনাকে দেখে চন্দ্রনাথের হাত-পা অসাড় হয়ে এলেও মগজ নীরবে কাজ করে চলেছে। এলাকার মস্তানদের ফুর্তির খরচ ব্যাপারীদেরই জোগাতে হয়। আপত্তি করলে ভরা বাজারেই মেরে আধমরা করে ছাড়ে। তেমন ঘটোনা চন্দ্রনাথের সামনেই বার কয়েক ঘটেছে। স্থানীয় নেতার ভোট মেশিন বলে পুলিশ এদের টিকিও ছুঁতে পারে না।
চন্দ্রনাথ দ্রুত ভাবতে থাকে কি করা উচিত। ভাবতে ভাবতেই ঠাণ্ডা মগজ তাকে বার্তা পাঠায়। তোরা এমনিতেই মরে আছিস চন্দ্রনাথ। খামোখা মরার ভয় পাচ্ছিস কেন? প্রতিবাদ কর। নইলে আজীবন এমন অত্যাচার সইতে হবে তোকে। চন্দ্রনাথ সেইমত সাহসে ভর করে বলে - এখনো বউনি হয় নি ধিনা।
চন্দ্রনাথ দেখছে ধিনার হাতের হকিস্টিকটা উঠে আসছে তার মাথার ওপর। এরপর কি হতে পারে সেটা জানে বলে চন্দ্রনাথের মত বাজারের ভয়ভীত ব্যাপারীরাও চরম মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করছে।
এতকিছুর পরও আজকের সভ্য সমাজ মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাচ্ছে, এ আই আরও উন্নত করছে এবং নির্দোষ হতদরিদ্র চন্দ্রনাথেরা প্রতিবাদের মাশুল গুনে চলেছে।

No comments:
Post a Comment