Saturday, January 2, 2021


 






সুপর্ণা চৌধুরী 
আলো


           পার্কস্ট্রিটের রাস্তা ধরে হাঁটছিল মন্দিরা। ২৪শে ডিসেম্বরের সন্ধ্যা, পার্কস্ট্রিট আলোয় আলোময়! আর কয়েক ঘন্টা পর বড়দিনের সেলিব্রেশান শুরু হবে। বান্ধবী শাওন ফুরফুরে মেজাজে পাশে হাঁটছে। কিন্তু  মন্দিরার আজ যেন বড় বেশি  ভারাক্রান্ত লাগছে নিজেকে। স্মৃতি তাকে কুরেকুরে খাচ্ছে। বাইরের এত আলোময়তার মধ্যেও  তার মনের কোণে জমাট বেঁধেছে অন্ধকার। 
            কিছুক্ষণ আগে মন্দিরা  আনন্দে ভাসতে ভাসতে শাওনের কাছে আসছিল আলোকময় রাস্তা ধরে। শাওন থাকে  পার্কস্ট্রীটের কাছেই। গোটা রাস্তাটা ভিড়ে থিক  থিক করছে। হঠাৎ সামনে একজন  এসে পথ আটকে ধরে। ভীড়ের মধ্যে রুমালে আড়াল করে অস্ত্র তুলে ধরে ভয় দেখিয়ে টাকা চায়। আতঙ্কে মন্দিরার মুখে কথা সরে না। কাছেই ওয়াকিটকি হাতে কলকাতা পুলিশের কিছু অফিসাদের জটলা। মন্দিরা তাঁদের ডাকবে কিনা চিন্তা করছিল। কিন্তু গলা যেন শুকিয়ে কাঠ! সহসা মন্দিরা পিস্তলবাজ ছেলেটিকে চিনতে পারে...এ যে তার ছোটবেলার সহপাঠী শৈবাল!  মন্দিরার মুখ থেকে আর্তনাদ বেরিয়ে আসে, 'শৈবাল তুই! " 
             রুক্ষ  গলায় শৈবাল বলে
- "অভাবে আলো নিভ গেছে জীবনের। বন্ধু চিনিনা, টাকাই চিনি।" জোর করে বেশ কিছু টাকা নিয়ে ভীড়ের মধ্যে মিশে গেল  শৈবাল। 
           মোটামুটি ভালো ছাত্র শৈবালের বিভিন্ন  স্মৃতি ভেসে  উঠছিল মন্দিরার মনে। পড়ার ব্যাপারে সানন্দে  সকল সহপাঠীকে সাহায্য করত সে। তার আজ এই পরিণতি!!! 
             দূর থেকে রাস্তায় মলিন পোষাকপরা এক বৃদ্ধাকে দেখা গেল। বৃদ্ধার পরনের পোষাক এই উৎসব আবহে বেশ জীর্ণ। উনি রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। একটু কাছে যেতে মন্দিরা হঠাৎ লক্ষ্য করে ওনার হাত ধরে রাস্তা পার করিয়ে দিচ্ছে শৈবাল! মাত্র ঘন্টা খানেক আগে যে অতবড় একটা কান্ড করেছে, তার লেশমাত্র চিহ্ন নেই শৈবালের মুখে। বৃদ্ধা আন্তরিক গলায় বললেন,
-- "তুমি আমাকে এই ভীরে খুব  হেল্প করলে, বাবা। তুমি আমার ছিনতাই হওয়া ব্যাগটাও ফিরিয়ে এনে দিলে! মে গড ব্লেস ইউ। এখনও আলো আছে মানুষের মনে, এখনও ভালো মানুষ আছে।"
           বৃদ্ধার আন্তরিক কথায় হঠাৎ আলোয় ঝলমল করে উঠল মন্দিরার ভিতরটা। এখনও পুরোনো শৈবাল তাহলে বেঁচে আছে! 


@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





প্রতিভা পাল সেন

আশার সাঁঝবাতি

 সময়ের আহ্নিকগতি মেনে,মুহূর্তদের অবাধ-বিচরণ;
একরাশ কালো-ধোঁয়ার ঘূর্ণিপাকে-
যখন রাত নামে জীবনের-স্রোতে
চিলতে-রোদের উষ্ণতা,তপ্ত দুপুর আঁকে;
আশার-আঁচে মন সেঁকে নেয় 
আগামীর পরিধি,অপেক্ষার-অবাধ্যতায়!

কত কান্নার-আর্তনাদে,আজও ভারাক্রান্ত পৃথিবী!
অবলীলায় বাতাসে ওড়ে,মৃত্যুর-ফানুস!
স্মৃতির বলিরেখায়,ক্ষতর কালশিটে দাগ এখনও উজ্জ্বল;
সময়ের-চাকা ঘুরছে প্রতিনিয়ত,নিশ্চুপ-নির্দ্বিধায়!

বিষণ্ণতার-চৌকাঠ পেরিয়ে,মুক্ত-আকাশ পেতে চায় জীবন;
প্রশ্বাস নিতে চায় মন,সব বাধা সরিয়ে;
দমবন্ধ-নৈঃশব্দ্যের কাটাকুটি-খেলায়
কতই না পুড়েছে, সাঁঝবাতির-সলতে!
এবার চিরুনি-তল্লাশি হোক,ছায়াপথের আঁকেবাঁকে;
আঁধার-শেষে ঠিক হাসবে ভোরের সূর্য-
নতুন দিনে,নতুনের পাহারায়....


@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





বাণী প্রসাদ নাগ
দুর্দিন

সমাজের নানা রঙে ছিল ভালোবাসা
হারিয়েছে সেই দিন, দুর্দিনে সম্বল নিরাশা
শিক্ষিত বেকারেরা অনশন আন্দোলনে
টাকাই শিক্ষার মাপকাঠি কর্মসংস্থানে।

ছেলেমেয়ে বসে ঘরে পড়াশোনা গেছে দূরে
দাম নেই আনাজের, চাষীকে চিন্তাটা ছেঁকে ধরে
চারিদিকে হানাহানি ,প্রাণহানি প্রতিদিন
ক্ষমতার লোভে ছোটা, আসবে কি সুদিন?

সামনে ভোটের লড়াই, কেবা আসে কেবা যায়
গোলা বারুদের কবলে উলু খাগড়ার বাঁচা দায়
চারিদিকে উড়ছে টাকা ক্ষমতার লোভে
সাধারণ জনগণ জ্বলছে মনে মনে ক্ষোভে।

@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭







 অনুনয় চ্যাটার্জি

শীতের মজা পিকনিকে

গত শীতে বনভোজনে গেলাম লোহাগড়
বনের পথে ছুটল গাড়ি, মনে খুশির ঝড়।
শহর থেকে অনেক দূরে, কমছে বাড়ি-ঘর
সকাল সকাল দখল নিলাম মেচি নদীর চর।
নদী, পাহাড়, জঙ্গল আর সবুজ চায়ের বাগান
দু'পা গেলেই পড়বে চোখে নেপাল দেশের নিশান।
উনুন জ্বেলে, খুন্তি নেড়ে শুরু হল রান্না
এই একটা দিনে সবাই যেন ভজহরি মান্না!
ভাত-মাংস-ভাজার সাথে ছিল মিঠে চাটনি
বন্ধুরা একসঙ্গে হলে কোথায় লাগে খাটনি!
রান্নাশেষে গরম গরম খেলাম ভূরিভোজ
এক নিমেষে মাংস উধাও, পাচ্ছে না কেউ খোঁজ!
খাওয়ার পরে যেই না এল বাসন ধোয়ার পালা
একে একে পড়ল কেটে বুঝে বিষম জ্বালা!
শেষবিকেলে সবাই মিলে একটু ঘোরাঘুরি
আসছে বছর আবার হবে, এবার তবে ফিরি। 


@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





রীতা মোদক
শুভ নববর্ষ 
 
তুষার শৃঙ্গে সূর্য্যেরশ্মির প্রথম  স্পর্শ 
ধূসর জীবনে রঙিন  স্বপ্ন দেখায় ...

একটা আমন্ত্রিত   বইমেলার বিকেল 
নবীন প্রবীনের মিলনে 
কবিতার অক্ষরগুলি ছন্দ খুঁজে পায় । 

অন্ধ বাগানে  প্রজাপতির পাখা ভাঙা ব্যর্থ  জীবন 
হাড়ি বাঁধে খেঁজুর রসের আশায় ...

 এক সময়   হিমেল সকাল আসে 
প্রাচীণ  স্মৃতি  ডুবে যায় খেঁজুর  রসের হাঁড়িতে 

পুরনো ব্যাথা ভুলিয়ে দিয়ে 
নতুন করে বাঁচাতে শেখায়   জীবন 
হিমেল বাতাসে এসে  কানে কানে বলে ----
"শুভ নববর্ষ , 
ইংরেজী বাংলায় মিলে মিশে 
 ভালো থেকো সবাই । "


@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





শিল্পী- অনুস্মিতা বিশ্বাস












@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





সুনন্দ মন্ডল
তৃষ্ণা
                  ‎     
প্রতি পদ্ম পাপড়ি মেলে
সূর্যের দিকে চেয়ে হাসে।
প্রতি ভোরও তাকিয়ে থাকে
সূর্য ডানা মেলার আভাসে। 

প্রতি অভ্যাসে নিজেকে সাজায়  
ভুলগুলো মাপি আত্মবিচারে।  
বছর পেরিয়ে যায় প্রতি শীত মেখে  
নতুনের আগমন ঘটে বসন্তের আচারে। 

বিনম্র সভ্যতার বুকে আঁচড় মোচড় 
থাকুক না লালিত বিতৃষ্ণা। 
সব ভুলে গিয়ে, মেপে ফেলি চলো  
আগামীর বৃষ্টিতে মেটায় তৃষ্ণা।  

তৃষিত হৃদয়ের পদ্ম জাগুক  
নব আশায় সঞ্চারিত সব শুভ হোক। 
মহামারী পেরিয়ে অতিমারী দমিয়ে 
আকাশে আসন্ন ভোরের আলো ফুটুক। 


@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





 
অশোক সরকার
বাইপাস 
                  

জীবন টা আজ বাইপাস হয়ে গেছে,
সময়ের স্রোতে, অগোছালো পথে---
জীবন টা আজগুবি গল্পের কাহিনী হয়েছে।।

  পশ্চিমী জীবনের টানে, ভুলেছি আপনে,
  ভুলতে বসেছি বন্ধু-সংস্কৃতি-আত্মীয় স্বজনে---
 সময়ের করাল স্রোতে, জীবনের বাইপাস পথে।।

এদিক ওদিক হায়! চোখ যেই দিকে চায়,
মন ভীষণ ছোটে, ভালো জীবনের আশায়---
সত্যি জীবন টা এক বাইপাস পথ হয় যায়।।

    যন্ত্রের স্রোতে, মানুষ আজ অলসও বটে,
   সর্বক্ষণ জীবন সংগ্রাম প্রতিযোগিতার পথে---
   মানুষের মানবতাও আজ বাইপাস পথের মতো
   ............. পাশ কাটিয়ে চলেছে।।


@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





পলাশ পাল
পাওনা

কুড়ি ঘুরে একুশ এলো
নতুন আশা নিয়ে।
সময় ভুলে সময় আসুক
শোক ভুলিয়ে দিয়ে।

ব্যস্ততার অবসর ভেঙে
জীবন মহলে এসো।
নতুনত্বের নতুন আলো
একটু ভালোবেসো।

নতুন বছরে নতুন সাজে
ভ্রমরেরা গান গায়।
নতুন ফুলের সুবাস পেয়ে
মধু খুঁজতে যায়।

আহত জোনাকি সুস্থ হয়ে
আলোয় ভরিয়ে দাও।
আগামীর বার্তা মুখস্থ করে
এদিকে শুনিয়ে যাও।

সাফল্যের দিন গুনতে গুনতে
সুখের সুবাস মেখো।
নতুন বছরের পাওনা গুলো
নতুন করেই রেখো।

@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭



 






 অমিতাভ সরকার 

একটা নতুন উড়ান


একটা নতুন সকাল,একটা নতুন উড়ান

যা পাখি যা, মেঘ কুয়াশার দেশে

বরফ ঝরা গোলক থেকে ডানায় ভেসে,

জীবন হেথা মাস্কে ঢাকা পড়ে জানি

মৃত্যু যেথা রাতদিন দেয় হাতছানি।

আশার আলো নিয়ে আয় তুই রাতের শেষে।


পাখিরে তুই পরিযায়ী আজ একা না
মানুষও আজ পরিযায়ী নেই ঠিকানা,
তোর শাবকের তবু বাঁচার খোলক আছে 
পরিযায়ী শিশু জন্মায় পথের মাঝে।
তোর উড়ানে আশার আলো মেলুক ডানা ।

মৃত্যু হেথা রাজ্নীতির সিঁড়ি গড়ে
মনুষ্যত্ব, সম্পর্ক ছিন্ন করে,
বাতাসে অক্সিজেন, ফসলে জমি ছয়লাপ
শিশুর হাসি আর সকল বুকে গোলাপ --
নতুন দিনে এই আশাতে আসবি উড়ে।

রোগ প্রতিরোধী ওষুধ আসুক মোদের করে
অস্ত্র সকল শোভা পাক শুধু যাদুঘরে,
রাজনীতি হোক গঠনমূলক, সৃজনশীল 
ধর্ম হোক কল্যাণকামী, সহনশীল।
ঐক্যসুরে বাঁধা হোক নতুন গান
একটা নতুন সকাল, একটা নতুন উড়ান।।

@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





পার্থ রায়
টান


কেউ কি আমায় পেছন থেকে টানে?
বৃষ্টি নামা শ্রাবণ টুপটাপ
চিরদিনের  ফুলে জলের ছাপ
মুখতো হারায় ছায়ার আবরণে

কেউ কি তবে পেছন থেকে টানে?
নিজের কাছে বসি যখন একা
হারিকেনের আলো ছায়ায় দেখা
সেও কি ভাসায় নৌকো সাগর পানে

সত্যিই কেউ পেছন থেকে টানে?
আমি দেখি চপল ব্যস্ততায়
একমাত্রিক রঙের প্রলেপটাই
ভালোলাগার নিয়ন্ত্রণ জানে

কেউ তো ঠিকই পিছন থেকে টানে
আমি বলি ভূবনমোহিনী
সব রাস্তা যাদের আমি চিনি
চেনা নামে ডাকছে কানে-কানে

কে যেন তাই পেছন থেকে টানে
অখণ্ড এক চালচিত্র যেন
ফিরিয়ে আনে দৃশ্যকাব্য - কেন
মেলাতে চাই আজ শ্রাবণের মানে

আমাকে যে পেছন থেকে টানে
সে তো রোজই তোমার বাড়ি যায়
গল্প গাঁথা সহজ মুগ্ধতায়
তুমি আজও মেদুর সেইখানে

আমাকে সে পেছন থেকে টানে 
সে আমাকে পেছন থেকে টানে


@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





মধুমিতা শীল মন্ডল

বর্ষবরণ 

শুভ প্রভাতের আলিঙ্গণে,
বর্ষিত শোভা, সিঞ্চিত প্রাণে, 
জগত মাঝারে দীপ্ত কিরণে, 
রঙ-মশালের  ছটা।।
স্বপ্ন -রঙীন সার্থকতায়
বহমানতার প্রজ্ঞা।।
সুনীল  আকাশ,শীতল বাতাস
শ্যামল মাঠের গানে,
বাইব তরী জোয়ারের টানে,
উঠবে নিনাদ-ঝংকার ।। 
নব সৃষ্টির  নব উল্লাসে  
বন্ধন হোক জয়।। 
দূর্বিষহ বিদায়-ক্ষণ
বিকশিত আলোক মাঝারে,
বর্ষ বরণ।। 

          
@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 






মাথুর দাস

নতুন বছর নতুন কিছু


নতুন বছর নতুন কিছু ভাবতে গেলে

আঁকড়ে ধরে মগজটিকে চিন্তা কিছু,

খেই হারিয়ে সে-ই করোনা পিছু পিছু

করেই ধাওয়া হাওয়ার বেগে এলেবেলে ।


নতুন বছর কী-ই বা হবে নতুন মোড় !

আত্মসুখের চিন্তা যত মানুষ জনের ।

কেই বা ভাবে অভাব বলো অভাজনের ?

সব মিলিয়ে সবই তো সেই খাড়া-বড়ি-থোড় ।


'এইটি হবে' 'ওইটি হবে', ওসব শুধুই তত্ত্বকথা ;

স্বার্থটুকু জড়িয়ে থাকে, থাকবে আরো তীব্র হয়ে ।

দূষণ-ভেজাল-প্রতারণা, ভাবছ তা কি যাবে ক্ষয়ে ?

শুনতে হবে বচ্ছরভর শান্তিবাণীর কথকতা ।


মনকে বলি, 'আশাবাদে মন ভরো না' ?

পর ক্ষণেই কাঁপতে থাকি আতঙ্কে যে !

আসছে নাকি নঈ বছরে দ্বিগুণ তেজে

এই করোনার ডিউ-পার্টটি 'নিউ-করোনা' ।


@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 






শিল্পী- সৌমিতা সাঁতরা 




















@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭



 





পার্থ সারথি চক্রবর্তী 
আবেশ

এক নিবিড় স্বপ্নে জড়িয়ে ধরেছিলাম 
       তোমাকে, আমার আবেশ দৃষ্টিতে,
রিক্ত হাতে বারবার দু'জনে চেয়েছিলাম 
      সমুদ্রের ঝিনুক, কোন এক উষাকালে।
কতগুলো চারাগাছ , যেগুলো লাগিয়েছি
     আমাদের রুক্ষ্ম হৃদয়ের শুষ্কভূমিতে।
আঙুলছোঁয়া শূন্যতার পাখায় ভর ক'রে
       পাড়ি দেয় এক অচিন আকাশে।

প্লেটোনিক কাহিনীর গন্ধে ভরপুর সকালে,
বসে পড়ি পাত পেতে- 
               সুসজ্জিত ব্যান্জনে বিভোর হয়ে। 


@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





বিজয় বর্মন

একুশের আয়না

বিষে ভরা বিশ চির নিদ্রায়,
সে এক দীর্ঘ ইতিহাস,
স্মৃতির সরণিতে বিশ্ব দরবার।

জীবন দর্শনের, এক ছোট্ট জানালায়
দেখি সাহিত্য বাসর।

নীল আকাশ দিগন্তরখায় 
মাটির সাথে কথা বলে,
পাহাড় নদী ছড়িয়ে দেয়,
স্নিগ্ধতার বাতাস,
জীবনের পরিভাষায় মৃত্যুই শেষ কথা নয়।

উপলব্ধির চোখে ধরা পড়ে,
ভাটিয়ালি সুরে পার ভাঙ্গা মুহূর্ত,
মর্মস্পর্শী হৃদয় গেয়ে উঠে ভাওয়াইয়া,
দরিয়া গানে একাকিত্বের যাপন।

কুয়াশার চাদর সরিয়ে খেজুর পাতা, 
শীতল বাতাসকে বলে সায়োনারা,
তিস্তা তোর্সার পারে,
সবুজের সাথে সোনালী রোদের মিতালী,
ভালো থাকার ডাক দিয়ে যায়।

একুশের আয়নায় দেখি,
আনন্দ আর শান্তির প্রতিবিম্ব।

@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





শতাব্দী সাহা

অকপট

উন্মত্ততার গভীর স্রোতে
ব্যাপন অভিস্রাবণ সব একাকার
দিকবিদিক জ্ঞানশূণ্য ছোটাছুটির
ভয়ার্ত কন্ঠস্বরের অবিশ্রান্ত হাহাকার ।


লড়াইটা খোলা ময়দানে
মতামত তবুও বাক্সবন্দী 
সবাই হতে চায় রাজা উজির
তাই তো যায় বদলে ছককাটার ফন্দি ।


অনন্তদিন জুড়ে নিরবিচ্ছিন্ন পরম্পরা
নয়তো সৃষ্টির তথাপি দন্ডমুন্ডের কর্তার
প্রতিশ্রুতি আর পূরণের ব্যবধানে
সূচনা হবে কি নব বার্তার!


অস্থিরময়তা স্বভাব  সময়ের
ধারাপ্রবাহের আগল ভেসে যায় ঝট্পট্
সত্যিমিথ্যার মরুভূমিতে এ কোন সততার মরীচিকা !
জিজ্ঞাসা আজ অকপট।


@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭



 





শাবলু শাহাবউদ্দিন 
বিজয়ের টানে

জয় পরাজয়ের শঙ্কা নিয়ে এসে ছিলেন বীর সন্তান 
সৃষ্টিকর্তা মহান তিনি রেখেছিলেন তাদের মান 
রক্ত দিয়ে শক্ত হাতে ভাঙলেন পাষাণের ধ্যান 
নয়টি মাসের কষ্ট শেষে ফিরে পেলেন বিজয়ের উদ্যান ।

শত শত মা উৎসর্গ করে দিলেন দামাল বীর সন্তান 
ক্লান্ত নেই, জীবন দিয়ে অস্ত্র নিয়ে হাতে 
পাক হানাদার হঠিয়েছে কঠিন সাহস তাতে
বীর বাঙালি কঠিন সাহস অস্ত্র ধরে হাতে
জীবন দিছে যুদ্ধ করে পাক হানাদার মাঠে।

আয় সবে আয় গাইরে আজ বাংলা বিজয়ের গান
বীর সেনারা দিয়ে গেছে বাংলা মোদের দান 
কলঙ্কের আজ কাল পতাকা নাইরে বাংলার প্রাণে 
জয় উৎসবে মেতে উঠবো বাংলা বিজয়ের টানে ।

@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 





লুবনা আখতার বানু
নববর্ষ

অন্ধিকার অন্ধক ফুরোলে শেষে,
নববর্ষ আজ হাজির শান্তির বেশে-
চলো সবাই সাজি সুন্দর সাজ,
আমরা ভীষণ আনন্দে আজ।
পুরোনো দুঃখগুলোর হোক আজ মরন।
সবাই মিলে নতুন বছরকে চলো করি বরণ-
অনেক স্বপ্ন আজো শিশির কনায়,
মন উড়তে চায় করে ভর ঐ পাখির ডানায়।
আবারো জীবন সাজাই স্বপ্নের মেলায়,
আনন্দে মাতি দূর নীলিমায় রঙিন ভেলায়-
সুখ-সমৃদ্ধি আজ আসুক হেসে,
নতুন প্রভাতের ঐ গন্ধবহে ভেসে।

@ মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭







সুতপা রায়

শুভদিন বড়দিন

আসছে আবার বড়দিন প্রতিবারের মত
বছর ভরে আসুক নতুন প্রভাত যত।
সারাবছর অতিমারী কেড়ে নিল বহু প্রাণ 
উৎসব তাই আছে থেমে সকলের মন ম্লান।
বিদেশ থেকে ধেয়ে এল মারণ রোগ করোনা
কেড়ে নিল সামাজিকতা জীবন হল যন্ত্রনা।
উন্নয়ন আর অগ্রগতির নেই কোনো তুলনা
লোভ প্রবৃত্তির লড়াইয়ে দেশে দেশে ছলনা।

রাজার রাজা যিশু জ্বালাও মনে আলো
প্রযুক্তি  বিজ্ঞান  এখন যে বড়ই কালো।
সান্তাক্লসের ঝুড়ি ভরে আসুক প্রতিষেধক
প্রতিরোধের  ক্ষমতায় মানুষ জয়ী হোক।
বিষে বিষে বিষক্ষয়ের বছর নিপাত যাক
নতুন করে দেশবাসী একুশকে পাক।
আসল সুদিন বড়দিন তোমার আমার
মাতুক সবাই আনন্দেতে শুভদিন সবার।

@ মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭







 

মজনু মিয়া

কাঁদছিল সেই শিশু 

 ভীষণ শীতে ঘুম ধরে না 
ক্ষিধায় পেটে, র, মানে না 
মশার জ্বালাতন, 
বাবা গো মা গো বলে সে 
কাঁদছে সারাক্ষণ! 

পৌষের শীতে গাও কেঁপে যায় 
বাড়ি ঘরের ঠিক কোনো নাই 
কে দেয় আশ্রয় আর?
এই দুনিয়ায় জন্ম নিয়ে 
ঠ্যাকা হলো তার!

কেনো বলো ঠ্যাকা হবে? 
মানুষই তো আসবে ভবে 
সেও এক জন মানুষ, 
মানুষ ভেবে মানুষ হয়ে 
আমরা হবো হুঁশ! 

@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭







 

পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় 

বর্ষ শেষে 

মাঠ ভরেছে সোনার ধানে 
হিমেল বাতাস আসছে ধেয়ে, 
চা'য়ের কাপে উঠছে তুফান 
শ্লোগান মিছিল ডাইনে বাঁয়ে। 

একতারাতে সুর উঠেছে 
সাজছে বাউল বর্ষশেষে,
স্বপ্ন নিয়ে বেচা কেনার 
বছর ফুরায় এক নিমেষে। 

অনাহারে মরছে বা কেউ 
ধুঁকছে শ্রমিক পাটের কলে,
রাজনীতি টা বাগিয়ে নিতে 
ব্যাস্ত সবাই ছলে বলে। 

চা বাগানের সব কুমারী 
উধাও কোথায় কে বা জানে,
তাপসীরা হারিয়ে গিয়েও
জর্জরিত প্রশ্ন বাণে। 

আসুক নতুন বছর হেসে 
রক্ত যেন নিচ্ছে শুষে, 
মনখারাপের খবর যেন
আর আসে না এই একুশে। 


@ মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭







 

বিজন মজুমদার

স্বর্গ সুবাসে ঘেরা


দুহাজার কুড়ি বিদায় নিল

করোনা করোনা করে
দুহাজার একুশে সেই আতঙ্ক
থাকবে কি ঘরে ঘরে?

পুরনো বছর বিদায় নিয়ে
নতুন বছর এলে
আনন্দ গানে মাতোয়ারা হই
পিছুটান সব ফেলে!

সব কিছু ফেলে স্বপ্ন এখন
একটাই শুধু চোখে
করোনা যেন আর না থাকে
নববর্ষের আলোকে ।

মানুষে মানুষে যে ব্যবধান
গড়েছিল ভাইরাস
ব্যবধান ভুলে নতুন বছরে
নিতে পারি যেন শ্বাস!

চাইনা চাইনা নতুন বছরে
আতঙ্কে চলাফেরা
দুনিয়া হোক ঠিক ভয় মুক্ত
স্বর্গ সুবাসে ঘেরা ।

@মুজনাই অনলাইন পৌষ সংখ্যা ১৪২৭


 









অরবিন্দ মাজী,
ঘুমের দেশে

ঘুমের দেশে স্বপ্নের প্রান্তরে, 
উড়ন্ত পরির মতো উড়ে এসে-
জুড়ে বসলো হৃদয়ের কোনে, 
হাহাকারে ভ'রে গেলো নিঝুম মাঝরাত... 

নির্বাক দুঃসহ যন্ত্রনায় কাতর-
অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলো-
স্বপ্নের গাঙচিল আকাশ পানে-
স্থির ধ্রুবতারাকে যন্ত্রণার সাক্ষী রেখে... 

কখনো-সখনো মানুষের স্বপ্নে , 
স্থির গাঙচিল কিম্বা উড়ন্ত পরি-
খেলা করে হৃদয়ের এক কোনে, 
নিঝুম মাঝরাত যখন একাকী পথ হাঁটে... 


@মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন পৌষ সংখ্যা , ১৪২৭