নিসর্গের কবিতা/ স্বপ্নপূরণের অক্ষর: সঞ্জয় সোম
প্রকাশক: চালচিত্র
লিটিল ম্যাগাজিন
নিসর্গের কবিতা/ স্বপ্নপূরণের অক্ষর: সঞ্জয় সোম
প্রকাশক: চালচিত্র
মুজনাই
অনলাইন ফাল্গুন সংখ্যা ১৪৩২
সম্পাদকের কথা
টালমাটাল এই অবস্থা। ঘরে, বাইরেও। এবারের বসন্ত আদৌ নিয়ে এলো না মধুদিন। বরং `মাশরুম ক্লাউড`-এ বোমাবৃষ্টির অকাল বর্ষা মধ্যপ্রাচ্যে। আঁচ এসে পড়ছে এত দূরেও। আহত হচ্ছে অর্থনীতি। নেমে যাচ্ছে প্রত্যাশার সূচক। ইতিমধ্যে রাজ্য উত্তাল বিশেষ নিবিড় সংশোধনী ঘিরে। এই যুদ্ধ থামবে কবে কে জানে। এছাড়াও শিয়রে নির্বাচন। আর বঙ্গের নির্বাচন মানেই সেই হানাহানি, মৃত্যু। সব কিছু মিলিয়েই পাতা ঝরা বসন্ত সত্যিই ঝরিয়ে দিচ্ছে আমাদের আশা-আকাঙ্খা।
ফাল্গুন মাসের অনলাইন মাসিক এই সংখ্যায় প্রচুর অণুগল্প পাঠিয়েছেন আপনারা। আমরা আপ্লুত। আক্ষরিক অর্থেই কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপের লেখকদের লেখা আমরা পেয়েছি। মুজনাই যে এভাবে সকলের বুকে বয়ে চলেছে সেটা বুঝে সত্যিই আনন্দিত আমরা। কয়েকজনের লেখা রাখতে পারিনি মাত্রাতিরিক্ত শব্দসংখ্যার জন্য। কিছু লেখা বাদ রাখতে হয়েছে পত্রিকার নিজস্ব ভাবনায়। যে লেখাগুলি স্থান পেল, সেগুলি অণুগল্প হিসেবে কতটা উত্তীর্ণ হয়েছে সেই বিচার অবশ্যই আপনাদের।
রেজিস্ট্রেশন নম্বর- S0008775 OF 2019-2020
হসপিটাল রোড
কোচবিহার
৭৩৬১০১
ইমেল- mujnaisahityopotrika@gmail.com
প্রকাশক- রীনা সাহা
সম্পাদনা, প্রচ্ছদ ছবি, অলংকরণ ও বিন্যাস- শৌভিক রায়
এই সংখ্যায় আছেন যাঁরা -
চিত্রা পাল, অমলকৃষ্ণ রায়, শ্যামলী সেনগুপ্ত, সুদীপ দত্ত,
মঞ্জুশ্রী ভাদুড়ী, গৌতমেন্দু নন্দী, রীনা সাহা,
মৈত্রেয়ী নন্দী, কবিতা বণিক, পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়, নির্মাল্য ঘোষ,
রীনা মজুমদার, লীনা চন্দ, অর্পিতা মুখার্জী চক্রবর্তী, রাজর্ষি দত্ত, মৌসুমী চৌধুরী,
লিপিকর, মিঠু অধিকারী, প্রদীপ কুমার দে, জনা বন্দ্যোপাধ্যায়, পর্ণা চক্রবর্তী,
আরাত্রিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, উৎস চক্রবর্তী, শ্রুতি দত্ত রায়, অমিতাভ চক্রবর্ত্তী,
তুহিন শুভ্র ভট্টাচার্য্য, সোমা দাশ, স্বপন সিংহ,
শ্রাবণী সেনগুপ্ত, মনোরঞ্জন ঘোষাল, প্রতিভা পাল,
শুভেন্দু নন্দী, কুণাল গোপ, অর্পিতা গুহ মজুমদার, মহঃ সানোয়ার,
সোমনাথ মুখার্জী, সুস্মিতা দত্ত রায়, আদিল হোসেন মাহি, রিয়া চ্যাটার্জী,
অভিজিৎ সেন, তন্ময় কবিরাজ, মিত্রা রায়চৌধুরী, অনুষ্টুপ রায়,
অনিতা নাগ, প্রদীপ সেন, মনোমিতা চক্রবর্তী, রথীন পার্থ মণ্ডল, অভিমন্যু,
সায়ন্তন ঘোষ, সুদেবী গোস্বামী, মজনু মিয়া, সুদীপ ঘোষাল, রাণা চ্যাটার্জী
অনলাইন ফাল্গুন সংখ্যা ১৪৩২
অভিশাপ
মৈত্রেয়ী নন্দী
"এর ফল তুক্যে ভুগ্যতে হবেক। মারাংবুরু কাউখ্যে ছাইড়ব্যেক লাই রে! কাউখ্যে না!” মাথা নেড়ে বিড়বিড় করে বকতে বকতে সিধো বুড়ার পাকানো কালো শরীরটা অন্ধকার জঙ্গলের ভেতর সেঁধিয়ে যায়।
অস্বস্তি নিয়ে তাকিয়ে থাকি আমি।
শালগোড়াতে তেজস্ক্রিয় মৌলের খনি আবিষ্কৃত হয়েছে। ফ্যাক্টরি বসানোর জন্য অনেকটা জমি চাই।
গাঁওবুড়া সিধো হাঁসদার সঙ্গে নরমে-গরমে অনেক আলোচনা করেও তাকে টলানো যায়নি। তার এক কথা, সাঁওতালরা আজন্মকাল এই জঙ্গলে মারাংবুরুর পূজা করে। ফ্যাক্টরি হলে মারাংবুরুর অভিশাপ লাগবে।
আদিবাসীদের অন্ধ বিশ্বাস! শেষপর্যন্ত জোর খাটাতেই হল। কোর্টের অর্ডার এনে পুলিশের সাহায্যে জঙ্গল কেটে জায়গাটা ঘিরে পাঁচিল তুলে দিলাম।
সিধো বুড়া সহ শ’খানেক সাঁওতাল নর নারী পাথরের মূর্তির মত দাঁড়িয়ে সবটা দেখল।
ফেরার পথে আদিবাসী ড্রাইভার সেঙ্গেল বলল, “স্যার এই ক’টাদিন একটু সাবধানে থাকবেন।”
“কেন?”
"আমাদের বিশ্বাস এই পৃথিবীর প্রতিটা অনু পরমাণু জীবন্ত। গাছ, পাথর, জল, পাহাড়, মাটি সবার অনুভূতি আছে। প্রকৃতিই আমাদের বোঙ্গা।”
এসবের সাথে আমার সাবধানে থাকার কী সম্পর্ক? কথা বাড়ালাম না। গেস্ট হাউসে পৌঁছে গেছি ততক্ষণে।
রাত গভীর। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছি। হঠাৎ মেঝে থেকে উঠে এল খসখস আওয়াজটা। কান পাতলাম। মেঝেতে টর্চের আলো ফেলেই এক লাফে উঠে বসলাম। ঘরের ভেতর এত সবুজ ঘাস, ছোট ছোট ঝোপ? পাগল হলাম নাকি? নাহ্, ঠিকই দেখছি! আতঙ্কে দম বন্ধ হয়ে আসছে! চোখের সামনে গাছগুলো লকলকিয়ে বড় হচ্ছে। অন্ধকারেই টের পেলাম ঘর ভরে যাচ্ছে। তিলধারণের জায়গা থাকছে না। জানালাগুলো সব বন্ধ। উঃ! একটু বাতাস! হিস্ হিস্ শব্দে শাখা-প্রশাখা বাড়িয়ে ওরা এগিয়ে আসছে। জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম।
দুদিন পর কলকাতার সব দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতার খবর, শালগোড়াতে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারের রহস্যমৃত্যু। ময়না তদন্তে জানা গেছে কার্বন মনোক্সাইড পয়জনিং। কারণ জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।
গোপন ছিল যা...
শোধবোধ
বডি
গৌতমেন্দু নন্দী
"---কীরে আর কতক্ষণ লাগবে ?"
আনন্দ
মৌসুমী চৌধুরী
বৃক্ষপ্রাণা
ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ড
লিপিকর
- “৪২৩২০১”
- “১৫৫৪৩৫”
- “৩১৭৮৯৩”
- “এগুলো কী? আমাকে এইসব নাম্বার মেসেজ করেছিস কেন? বলেছিই তো তোর সঙ্গে আমি কোনও যোগাযোগ রাখতে চাই না।”
- “এগুলো আমার অনলাইন ট্র্যান্স্যাকশ্যনের ওটিপি। এখন তো বাইরে বেরোনোর উপায় নেই, তুইও কথা বন্ধ করে দিয়েছিস, তাই প্রচুর কেনাকাটা করে দেউলিয়া হওয়ার চেষ্টা করছি।”
-”ওসব গ্যাসলাইটিং অন্য কাউকে করিস! আমাকে জ্বালানো বন্ধ কর! নইলে …”
-”নইলে কী? আমাকে ব্লক করবি? সে তো তুই শুনিয়েইছিস আমার নম্বর তুই আমার মতই তোর জীবন থেকে মুছে ফেলেছিস পুরোপুরি। আমি এই চ্যাটটা এখন থেকে স্ক্রিব্ল প্যাড হিসেবে ব্যবহার করব, তুই যা পারিস করে নে …”
অপরপক্ষ বিরক্তিবশতঃ উত্তরদানে বিরত থাকে। জানে, এই কথোপকথন আসলে একটি রেজ বেট - তিক্ত কলহে ঢুকিবার টোপ। কিন্তু কেন কে জানে, ব্লক টিপিতেও তাহার অঙ্গুলি থমকায়! আহা, তবু তো অহরহ টের পাওয়া যাইবে অপরদিকের মানুষটি এখনও আছে। একটি সচল কার্ড লইয়া একটি জীবিত মানুষ … এই অনির্দিষ্ট লকডাউনে সেই জানাটুকুই বা কম কী?
অতএব ৬ অঙ্কের সংখ্যারা জমিতে থাকে। সেগুলিতে নীরবে নীল টিকজোড়া পড়িতেছে, প্রেরকের শ্যেন দৃষ্টিতে তাহা ধরাও পড়ে। অথচ, “গুড মর্ণিং” লিখিলে বা কোনো মীম পাঠাইলে তাহা দর্শনমাত্র বার্তাটি উভয়ের আলাপের ইতিহাস হইতে উড়িয়া যায়।
তাহার পরে, দ্বিতীয় ঢেউয়ের তীব্র প্রকোপের সময়ে একসপ্তাহ কোনো ওটিপি না দেখিতে পাইয়া অপরপক্ষ নিজেই একটি ৬ অঙ্কের সংখ্যা লিখিয়া পাঠায়, কিন্তু পূর্বজনের উচ্ছসিত সমস্ত বাক্যালাপ প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করে।
ধীরে ধীরে প্রথমজন অনুধাবন করে, অপরপক্ষ নিজ জীবনে তাহাকে ঠিক কতটুকু পরিসর দিতে প্রস্তুত। অতঃপর পরস্পরের সহিত অন্য কোন বাক্যালাপে অনিচ্ছুক দুইটি মানুষ অতীতের প্রেমজ বেদনা হৃদয়ে চাপিয়া যন্ত্রজাত ৬ অঙ্কের সংখ্যাগুলিকে যান্ত্রিকরূপে নিজেদের বৈদ্যুতিন কথোপকথনের উপসংহারে জুড়িতে থাকে।
বনবস্তির ১০ নং লাইন আজ থমথমে । গত রাতে আবার হানা দিয়েছিলো দাঁতালটা ।এবার আর রক্ষে নেই । পায়ে পিষে মেরেছে মাতালটাকে ।
কে…
পর্ণা চক্রবর্তী
আধো ঘুমের মধ্যে সদর দরজা খোলার আওয়াজ শুনতে পেলো রাত্রি।শুভর এখন নাইট শিফট চলছে। অফিসে কাজের খুব চাপ।
বাড়ীর একটা চাবি শুভর কাছে থাকে। রাত্রিকে স্কুলের জন্য অনেক সকালে উঠতে হয়। তাই ও তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ে।
ঘুমের ঘোরে রাত্রি শুনছে টেবিলে চাবি রাখার আওয়াজ। বেড রুমের দরজাটা ক্যাঁচ শব্দে খোলা হলো,বন্ধ হলো। বাথরুমে জলের আওয়াজ, রাত্রি পাশ ফিরল। অন্ধকার ফিকে হচ্ছে।
পা টিপে টিপে হাঁটছে শুভ।
রাত্রি যেন একটা মাছের মতো ,ঘুমের সাগরে কখনো ভাসছে, কখনো ডুব দিচ্ছে গভীরে।শুভ পাশে এসে শুলো। অভ্যাস মতো রাত্রির গায়ে আলতো করে হাতটা রাখলো একবার।
টয়লেটে গেলে হতো। কিন্তু রাত্রির দুচোখে বড়ো ঘুম,ইচ্ছা করছে না। শীত করছে, গায়ের চাদরটা হাতড়াচ্ছে। শুভ কুঁকড়ে শুয়ে থাকা শরীরটাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিল।
উফ! কে ভীষণ জোরে জোরে দরজা ধাক্কাচ্ছে,চিৎকার করছে।
রাত্রি ধড়মড় করে উঠে বসল। ঘরে হালকা অন্ধকার।ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে দরজাটা খুলল রাত্রি।
“লক্ষী দি? কি হয়েছে ,দরজা ধাক্কাচ্ছ কেন ?
গেট খোলা ? কে ওখানে? পুলিশ ?
কি হয়েছে? এই সময় আমার বাড়িতে, আপনারা ? কেন? অজানা ভয়ে রাত্রির হাত, পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।
ওরা যেন কিসব বলছে । রাত্রির মাথাটা ঘুরছে, কিচ্ছু বুঝতে পারছে না।
লক্ষীদি কাঁদছে ।
রাত্রি পাগলের মতো শোবার ঘরে ছুটে গেলো। আলো জ্বালালো, বিছানাটা খালি ,কেউ শুয়ে নেই।
“কি যা তা বলছেন আপনারা। একটু আগে এখানেই তো ছিল ,আমার পাশে শুয়ে ছিল।” রাত্রি কাঁদছে হাউ হাউ করে।
শুভ,শুভ…. বারান্দা, পাশের ঘর গোটা ফ্ল্যাট ….নেই।
তবে কে এসে শুলো আমার পাশে ?
কে আমার গায়ে হাত রাখলো?
ভোর হয়ে আসছে।রাত্রির আর্তনাদে শান্ত ভোর মুহূর্তে অশান্ত হয়ে উঠল।
লক্ষ্মণরেখা
স্বপ্ন
লীনা চন্দ