শাস্তিদাতা
মিঠু অধিকারী
বনবস্তির ১০ নং লাইন আজ থমথমে । গত রাতে আবার হানা দিয়েছিলো দাঁতালটা ।এবার আর রক্ষে নেই । পায়ে পিষে মেরেছে মাতালটাকে ।
রাত তখন বেশি নয়, সবে দশটা বেজেছে ।বন জঙ্গল এলাকায় ঘরের বাতি নিভতে শুরু করেছে । সুখি রাতের এটো বাসন মেজে ঘরে ঢুকে দেখে , মেয়ের বেদম জ্বর । সন্ধ্যে থেকেই চুপচাপ বছর তিনেকের ছোট্ট মেয়েটি । সর্দি লেগেছে । এখন তো গা পুড়ে যাচ্ছে । কি করবে ভেবে পায়না সুখি । ঘরে ঔষধ নেই । বুড়ি শাশুড়ী ঘুমিয়ে কাদা ।
দেরি না করে , দরজাটা বাইরে থেকে খিল দিয়ে দুলু কাকার বাড়ির দিকে হাঁটা দিল সুখি । একটু দুরে দুলু কাকার বাড়ি । উনি এলাকার মোড়ল মানুষ । জ্বর , পেটখারাপ , মাথা ব্যথার দাওয়াই থাকে তার কাছে । পরে সকাল হলে সেন্টারে নিয়ে যাবে মেয়েকে । মেয়ের বাবা ছয় মাস হল ভুটানে কাজে গেছে । তারপর থেকে সুখির উপর সব ভার ।
জ্বরের বড়ি নিয়ে দ্রুত পায়ে হাঁটছিল সুখি । হটাৎ পথ আটকায় বুধন । কিছুদিন ধরে খুব বাড় বেড়েছে বুধন । পার্টি করে বেশ টাকা কামিয়েছে । লাইনের মেয়ে , বৌরা এখন ভয়ে থাকে ওর । কখন যে কাকে নিজের লালসার শিকার করবে কে জানে ! পয়সার বড় জোর এখন ।
বুধন বলে ,”চল আমার ঘর , আজ রাত তোর আর আমার “। সুখি হিস হিসিয়ে বলে ,”পথ ছাড় , ঘরে ছুয়ামনের জ্বর ।” বুধন হাত টেনে ধরে বলে ,”চল নোট দিব নোট , জ্বর পালাবে ।” কাছে এসে সুখি কে জাপটে ধরে ।
কি এক আসুরিক শক্তি নেমে আসে সুখির শরীরে । এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় দৌড়ে পালায় ।
বনপথে তখন মানুষজন নেই । কিন্তু আশেপাশে ছিল সে । মাতাল বুধন কিছু বোঝার আগেই হয়তো পিষে দিয়েছে ওকে ।
বনবস্তির জুড়ে শুধু ফিসফাস । বনদফতর এর লোকজনের আনাগোনা। সুখি মেয়েকে বুকে চেপে ধরে । দুহাত কপালে ঠেকায় বলে ,” রক্ষা কর মহাকাল , তুমিই পার শাস্তি দিতে , শান্তি দিতে ।”

No comments:
Post a Comment