Tuesday, March 3, 2026


 

শাস্তিদাতা 
মিঠু অধিকারী 


বনবস্তির ১০ নং লাইন আজ থমথমে । গত রাতে আবার হানা দিয়েছিলো দাঁতালটা ।এবার আর  রক্ষে নেই । পায়ে পিষে মেরেছে মাতালটাকে ।


রাত তখন বেশি নয়, সবে দশটা বেজেছে ।বন জঙ্গল এলাকায় ঘরের বাতি নিভতে শুরু করেছে ।  সুখি রাতের এটো  বাসন মেজে  ঘরে ঢুকে  দেখে , মেয়ের  বেদম  জ্বর । সন্ধ্যে থেকেই চুপচাপ বছর তিনেকের ছোট্ট মেয়েটি । সর্দি লেগেছে । এখন তো গা পুড়ে যাচ্ছে । কি করবে ভেবে পায়না সুখি । ঘরে ঔষধ নেই । বুড়ি শাশুড়ী ঘুমিয়ে কাদা ।

 দেরি না করে , দরজাটা বাইরে থেকে খিল দিয়ে  দুলু কাকার বাড়ির দিকে হাঁটা দিল সুখি ।   একটু দুরে দুলু কাকার বাড়ি ।  উনি এলাকার মোড়ল মানুষ । জ্বর , পেটখারাপ , মাথা ব্যথার দাওয়াই থাকে তার কাছে । পরে সকাল হলে সেন্টারে নিয়ে যাবে মেয়েকে । মেয়ের বাবা  ছয় মাস হল ভুটানে কাজে গেছে । তারপর থেকে সুখির   উপর সব ভার ।

জ্বরের বড়ি নিয়ে দ্রুত পায়ে হাঁটছিল সুখি । হটাৎ পথ আটকায় বুধন । কিছুদিন ধরে খুব বাড় বেড়েছে বুধন । পার্টি করে বেশ টাকা কামিয়েছে । লাইনের মেয়ে , বৌরা এখন ভয়ে থাকে ওর । কখন যে কাকে নিজের লালসার শিকার করবে কে জানে !  পয়সার বড় জোর এখন ।

বুধন বলে ,”চল আমার ঘর , আজ রাত তোর আর আমার “। সুখি হিস হিসিয়ে বলে ,”পথ ছাড় , ঘরে ছুয়ামনের জ্বর ।” বুধন হাত  টেনে ধরে বলে ,”চল নোট দিব  নোট , জ্বর পালাবে ।” কাছে এসে সুখি কে জাপটে ধরে ।

কি এক আসুরিক শক্তি নেমে আসে সুখির শরীরে । এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়  দৌড়ে  পালায় । 

বনপথে তখন মানুষজন নেই । কিন্তু আশেপাশে ছিল সে । মাতাল বুধন কিছু বোঝার আগেই হয়তো পিষে দিয়েছে ওকে ।

 বনবস্তির জুড়ে শুধু  ফিসফাস । বনদফতর এর লোকজনের আনাগোনা।   সুখি মেয়েকে বুকে চেপে ধরে । দুহাত কপালে ঠেকায় বলে ,” রক্ষা কর মহাকাল , তুমিই পার শাস্তি দিতে , শান্তি দিতে ।”

No comments:

Post a Comment