Tuesday, March 3, 2026


 

ছেলেটির নাম অভিমন্যু
প্রদীপ সেন

আমার সাংবাদিকতা পেশার দৌলতে এ সমাজের হাঁড়ির খবর জানা। ঘুণেধরা খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে সমাজের ইমারত। ঝড় বইছে না, এই যা রক্ষে। নইলে নড়বড়ে ইমারত কবেই ধসে পড়ত। দুর্নীতি আর দুর্নীতি মাকড়সার জালের মতো পরিব্যাপ্ত নিচুতলা থেকে উপরতলা অবধি।

সব অধঃপতন আজকাল আর খবরের শিরোনাম হয় না। নানাভাবে ম্যানেজ করা হয় অঘোষিত মাৎস্যন্যায়। সাংবাদিক হিসেবে জানি যতটা প্রকাশ করতে পারছি না তার সবটা। আমাদের ওপর চাপ আছে। কিন্তু যেখানে রাজনীতি আর ভেস্টেড ইন্টারেস্টের প্রশ্ন জড়িত নেই সেখানেই আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারি।

সেদিন ডিউটি করতে ঘর থেকে উঠোনে পা রাখতেই দেখি উঠোনে ঠ্যালাভ্যান নিয়ে বছর বারোর একটা ছেলে। ঘেমে উঠেছে রীতিমত। মনটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল। ঠ্যালায় লাউ কুমড়োর ডগার আঁটি, ঢেঁড়স, আলু, বেগুন, উচ্ছে, কাঁচ কলা, লংকা ইত্যাদি।

বড্ড মায়া পড়ে গেল। এই তো সেদিন জাল ওষুধ, ভেজাল মেশানো মশলা আর ও কত দুর্নীতির খবর ছাপিয়েছে তার কাগজে। যে যেভাবে পারছে লুটছে, কামাই করছে। এখানে নিষ্পাপ শিশুটি সংসারের গন্ধমাদন বইছে।

আমার বিধবা মা নিরামিষাশী। আমাকে রোজ বাড়ি ফেরার পথে মায়ের জন্য শাক সবজি বাজার করতে হয়। মা উঠোনে ভিজে কাপড়চোপড় রোদ্দুরে মেলে দিচ্ছিলেন। আমরা দুজন এগিয়ে গেলাম। মা নিজের শাড়ির আঁচল দিয়ে ছেলেটার ঘর্মাক্ত মুখ মুছিয়ে দিয়ে বললেন - এখন থেকে আমরা সবসময় তোর কাছ থেকে আনাজপাতি কিনবো। তুই রোজ আসবি বাবা, কেমন।

সেদিন মা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আনাজই কিনেছিলেন। আমি বুঝতে পেরেছি কেন। ছেলেটির নাম জিজ্ঞেস করা হয়নি। ভাবছি ওকে নিয়ে একটি আর্টিক্যাল লিখব। তার নাম দেব অভিমন্যু।

No comments:

Post a Comment