Tuesday, March 3, 2026


 

প্রিয়াঙ্কা
অর্পিতা মুখার্জী চক্রবর্তী

আলো ঝলমলে এক পৃথিবীর মাঝখানে সময় দাঁড়িয়ে তখন। ডান পাশে ঘরের মানুষটি জানলা ঘেঁষে ঝুঁকে পড়ে বিভিন্ন কায়দায় বাইরের দৃশ্যপটকে ক্যামেরাবন্দী করতে ব্যস্ত। পেছনে অল্প দূরত্বেই মেয়ে জামাই রয়েছে।বাঁ দিকে মেয়েরই বয়সী তরুণীটি হাসমুখ সফট টয়টিকে কোলে রেখে মাথা এলিয়ে দেওয়ার ফাঁকে কখনো আমার দিকে হাসি হাসি মুখে চেয়ে থাকছে। হাসি ফিরিয়ে দিলেও মনে আমার হাসি নেই এতটুকুও। মহা গোলযোগের অন্য এক পৃথিবীর বাসিন্দা আমি তখন। আমার সঙ্গে যেকোন মুহূর্তে যে কিছু ঘটতে পারে।তারমধ্যে বেশ কিছুটা দূরত্বে দাঁড়িয়ে সুবেশা সুন্দরী আকস্মিক কিছু সম্ভাবনা আর সতর্কতার যে সমস্ত বাণী আওড়াচ্ছে,আরও একগুচ্ছ ভয়ে আত্মারাম খাঁচাছাড়া প্রায়।

হঠাৎ দেখি,পাশের তরুণীর সফট টয় নাচানাচি করছে আমার হাতের ওপর। এতক্ষণ চুপটি করে বসে থাকা তরুণীটি একনাগাড়ে তার পুতুলের নাম থেকে শুরু করে পুতুল ঘিরে নিজের যাবতীয় বৃত্তান্ত আমাকে হিন্দিতে শোনাতে শোনাতে পুতুলটিকে নাচাচ্ছে আমার কোলে, হাতে। পাগল নাকি! হতবাক আমি সবকিছু ভুলে ফ্যালফ্যাল করে দেখছি।মুহূর্তের জন্য কানটা বন্ধ হয়ে খুলে গেল আবার। অবাঙালি মেয়েটি দুহাতের যাবতীয় উষ্ণতা দিয়ে আমার হাত চেপে ধরে বলে উঠল, 'টেকঅফ হয়ে গেছে আন্টি..এই পুরো যাত্রাপথে আমি আপনার সাথে আছি, পাশে আছি..আরও অনেক গল্প হবে।'

তারপর গল্প অনেক হয়েছিল বিমানের পরবর্তী সময়টুকুতে। ঘর ছেড়ে অনেক দূরে উচ্চমানের চাকরি সামলে সঙ্গে প্রায় সারাবছরই ট্রেকিং-এ ব্যস্ত ঝকঝকে স্মার্ট তরুণীটি কেমন আপন করে নিল সাদামাটা এই আমাকে! সেই মুহূর্তে আমার ভয়ের বাসাকে কেমন ভেঙে গুড়িয়ে দিল!  সময়টা কোথা দিয়ে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না। 

এয়ারপোর্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসবার পথে যতক্ষণ চোখ যায় ফিরে ফিরে তাকালেই মেয়েটির ছলছলে চোখের শেষ দেখাটুকু আর তার হাত ধরে নেক পিলো সফট টয়ের অবিরাম হাত নেড়ে চলা ভারাক্রান্ত করছিল মনকে। প্রথম দেখা সম্পূর্ণ অচেনা সহৃদয় ভিন রাজ্যের এই মেয়েটি অনেক সম্পর্ককে ডিঙিয়ে হৃদয়ের আত্মীয়তার গ্রন্থিতে বিনিসুতোয় বাঁধা পড়ছিল থেকে থেকে।

No comments:

Post a Comment