Tuesday, March 3, 2026


 

হঠাৎ দেখা 

আরাত্রিকা বন্দ্যোপাধ্যায়

শহর তখন বিকেলের শেষ আলোয় নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছিল। ভিড় বাসে জানলার ধারে বসে মৌ ভাবছিল, আজকের দিনটা বোধহয় আর পাঁচটা একঘেয়ে দিনের মতোই কাটবে। কিন্তু নিয়তি বোধহয় অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। কলেজ স্ট্রিটের সেই পুরনো বইয়ের দোকানটার সামনে সে যখন নামল তখন, আকাশ হঠাৎই একটু ম্লান হয়ে আসছিল। 
বইয়ের স্তূপের মধ্যে একটা ধুলোমাখা কবিতার বই খুঁজছিল সে। ঠিক তখনই উল্টোদিকে হাত বাড়াল অন্য কেউ। একই বইয়ে দুজনের আঙুল ছুঁয়ে গেল এক মুহূর্তের জন্য। মৌ মুখ তুলে দেখল, একজোড়া উজ্জ্বল চোখ আর এক চিলতে দ্বিধামাখা হাসি। ছেলেটি আলতো করে হাত সরিয়ে নিয়ে বলল, "আপনি নিতে পারেন, আমি পরে আসব।"
মৌ কোনও কথা বলতে পারল না, শুধু দেখল বইয়ের হলদেটে পাতার গন্ধে এক অদ্ভুত মায়া জড়িয়ে আছে। বাইরে তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ছাতাটা ব্যাগেই ছিল, কিন্তু সেটা খোলার কথা মাথায় এল না। দোকানের চালের তলায় দুজনে দাঁড়িয়ে রইল পাশাপাশি। কোনও ভূমিকা নেই, কোন পরিচয় নেই, শুধু বৃষ্টির শব্দের মধ্যে একটি নিঃশব্দ আলাপের জন্ম হল। 
সেই প্রথম দেখা কোনও রূপকথা ছিল না। কিন্তু অদ্ভুত সজীবতা ছিল। বৃষ্টির জল আর পুরনো বইয়ের ঘ্রাণ মিশে গিয়ে সেই মুহূর্তটি যেন স্থির হয়ে গেল। কয়েক মিনিট পর বাস এলে ছেলেটি ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল। রেখে গেল শুধু এক পশলা ভালোলাগা।
মৌয়ের মনে হল, সব প্রথম দেখায় কথা হতে হয় না, কিছু ছোঁয়া থেকে যায় মনে—যাকে ভুলে যাওয়া যায় না কোনও দিন। প্রথম দেখার মুহূর্তগুলো বোধহয় সব সময় একটু অন্যরকমই হয়। ঠিক যেন ডায়েরির পাতায় হঠাৎ পড়ে যাওয়া এক ফোঁটা কফির দাগ। মোছা যায় না, আবার ফেলতেও ইচ্ছে করে না।

No comments:

Post a Comment