বইমেলা ও মেয়েটা
মজনু মিয়া
করিম ভাই, মেয়েটা কাঁদছে কেন?
আর বলো না,ওকে বই মেলায় নিয়ে যাও! আমি কাজে সারতে পারি না টাকা পয়সাও হাতে নাই। কী করে ওকে বই মেলায় নিয়ে যাই, তুমিই বলো তো রহিম মিয়া?
করিম ভাই, মেয়েটা হয়তো, কোনো বই পছন্দ করেছে, তাই সে বই মেলায় যেতে চাইছে, সেখানে গেলে পাবে। কিনে আনতে চায়। আসলে টাকা পয়সা সব সময় থাকে না আবার বই মেলাও সারা বছর হয় না।তুমি এক কাজ করো, কালকে আমার সাথে দেখা করে তারপর মেয়েটাকে সাথে করে বই মেলায় নিয়ে যেইও। কাঁদিস না মা, যাসনি দু দিন পর।
এ কথা শোনে মেয়েটা খুশিতে দৌড়ে খেলতে গেলো আর বান্ধবিদের বলতে গেলো। তার পর কানে কানে কী যেন কী রহিম মিয়া করিম মিয়া কে বলে গেলো। যেমন কথা তেমন কাজ, মেয়েটাকে সাথে নিয়ে বই মেলায় রওনা দিলো। যথা সময়ে মেলায় গেলো; ভিতরে বই দেখে মেয়েটার খুশির আর সীমা রইলো না।
কত রকম বই যে মেয়েটা দেখে, তার আনন্দ দেখে করিম মিয়া নিজেও খুশি। ঘুরতে ঘুরতে অনেক দেখা হলো মেয়েটার; পছন্দের বই হলো, ভূতের ছড়া, ভূতের গল্প আরো অনেক অনেক ছড়া গল্পের মজার মজার সব বই। একে একে চার পাঁচটা বই কিনতে চাইলো। করিম মিয়া কিনে দিলো। অবশেষে করিম মিয়া নিজেও একটা উপন্যাস ও কবিতার বই কিনলো। আরো অনেক বই তার ভালো লাগলো কিন্তু সামর্থ নাই তাই চলে এলো।
এখন মেয়েটার স্কুলে পড়ালেখা কম, খেলাধুলা হবে তাই, এ সময়ে মেয়েটা সময় পেলেই বই পড়ে আর খলখল করে হেসে উঠে,আবার ছড়া পড়ার তালে তালে নাচে; কি ভালোই লাগছে তার, এ অবস্থা দেখে করিম মিয়া ক্ষণে হাসে, আবার চুপ করে,এ দৃশ্য রহিম এসেও যখন চুপেচুপে দেখে তখন সেও আনন্দ পায় আর মেয়েটাকে কাছে ডেকে আদর করে বলে, তুমি অনেক বড় হও মা।

No comments:
Post a Comment