কুর্নিশ তোমায় সন্তান
রাণা চ্যাটার্জী
সেদিন রবিবারের মাছের বাজারে উৎসুক ক্রেতার ইলিশ মাছ কেনার ভিড়ে আমিও ছিলাম। পেছন থেকে হঠাৎ এক কাতর গলায় কে যেন বলল, "বাবু এক টুকরো মাছ দেবেন, অসুস্থ বাবাকে খাওয়াবো।" এমন আবদার তো প্রায়শই কানে আসে কিন্তু এখানে বাবা শব্দটি জুড়ে দিয়েছে তাই পেছনে ঘুরে তাকালাম। দেখি একটা শীর্ণকায় লম্বা লোক, কাঁধে ছোট বাচ্চাকে চাপিয়ে হাত পেতে মাছের অনুরোধ করছে। মাছ দোকানী অমনি সরু কঞ্চিটা তুলে সপাত করে পিঠে এক ঘা দিতেই বাচ্চাটা ভয়ে কেঁদে উঠলো তার বাবাকে মার খেতে দেখে। রাস্তায় কত ঘটনার সাক্ষী হই আমরা, তবু এটা মনে দাগ কেটে গেছিলো সেদিন।
আরেকটা দিন অফিস যাচ্ছি, আরে সেই লোকটাই তো! আজ কোনও বাচ্চা ছেলে নয়, নিজের পিঠে বৃদ্ধ বাবাকে চাপিয়ে দেখি ঝুঁকে টলমল করে হাঁটছে। সামনে কিছুটা এগিয়ে দাঁড় করিয়ে বললাম, ``আচ্ছা তোমাকেই তো,সেদিন মাছ বাজারে দেখলাম।`` শান্ত হয়ে বললো, ``হ্যাঁ দাদা। বাবা পায়ে জোর পাচ্ছে না ,এদিকে ডাক্তারবাবু ভালো ভালো খাবার খেতে বলেছেন!`` কথাগুলো বলতে গিয়ে তার গলায় হতাশা ঝরে পড়লো, তবু যেন ওর মধ্যে একটা হার না মানা দৃঢ়তা, যেটা আমার শ্রদ্ধা কেড়ে নিচ্ছিল!তাকিয়ে দেখলাম নিজের ওজনের ভারে নুইয়ে যাওয়া অথচ নিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করা ছেলের পিঠে বসা বৃদ্ধ মানুষটির চোখে জল! এমন দৃশ্যে আমি ভীষণ বিহবল হয়ে গেলাম। ওরা হাসপাতাল যাচ্ছে জানতে পেরে একটা টোটো দাঁড় করে চাপালাম। বিশদে জেনে নিলাম শহরের কোনদিকে ওরা থাকে, ওদের পাশে দাঁড়াতে তো আমায় হবেই! নিজেকেই মনে মনে বললাম এ জীবনে অসহায় আরো কিছু মানুষকে যদি উজ্জীবিত করতে পারি আর কি চাই, এ খুশির ভাগ হবে না।

No comments:
Post a Comment