Tuesday, March 3, 2026


 

দৌড়

অভিজিৎ সেন


দৌড়, দৌড় স্বপ্ননীল আরও জোড়ে, পৌঁছেও গেলো। স্বপ্ননীল আনন্দে লাফিয়ে উঠলো, দেখলো বিছানায় বসে আছে। বুঝলো স্বপ্ন দেখছিল। স্বপ্ননীল নবম শ্রেণির ছাত্র।পরীক্ষায় প্রথম তাকে হতেই হবে, এমনই পাহাড় পরিমান চাপ মাথার উপরে। প্রতিটি বিষয়ে দুটো,কোনোটির তিনজন করেও শিক্ষক আছেন। ছেলেকে যন্ত্রের মতো গড়ে তুলতে চায় তার বাবা মা । প্রতিযোগিতার দৌড়ে প্রথম না হলে ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার। স্বপ্ননীল কৃত্রিম ছাঁচে পড়ে কৃত্রিমতা, অস্বাভাবিকতাকেই স্বাভাবিক সত্য বলে ধরে নিয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে চলেছে ক্রমশ সমাজ‌ থেকে, প্রকৃতির রূপ-রস‌-গন্ধ-বর্ণ ও স্পর্শের মতো অনাবিল আনন্দ থেকে। স্বপ্ননীল লাটিমের মতো অনবরত ঘুরে চলেছে। প্রথম হতেই হবে । দিনেরাতে সেভাবেই তাকে অনুশীলন করতে হয়। অথচ এসবের বাইরে একটি পৃথিবী আছে। সমাজ আছে। মনমুগ্ধকর প্রকৃতি আছে। সৌন্দর্য আছে। নদী আছে। ভোরের সূর্যোদয় আছে। পাখির কলকাকলি আছে। না স্বপ্ননীলের জীবনে এসব আবেগের কোন স্থান নেই । সে পড়া মুখস্ত করতে পারে কিন্তু সাহিত্য সৃষ্টি করার ক্ষমতা নেই। বিদ্যালয়ের 'অঙ্কুর' পত্রিকায় সায়ন অনায়াসে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ লিখতে পারে। যদিও ছাত্র হিসেবে সে মধ্যমানের,সেও নবম শ্রেণির ছাত্র। স্বপ্ননীল, সায়নকে মনে মনে হিংসে করে । এখানে সায়ন তার থেকে এগিয়ে । সায়নকে সে হারাবেই। কিন্তু সাহিত্য সৃজনে সে অক্ষম। শেষে অনেক বুদ্ধি খরচ করে একটি লেখা পত্রিকায় সে দিল। একটি কবিতা। গভীর ভাবব্যঞ্জক একটি কবিতা। আশ্চর্য ! সায়নের কবিতার থেকেও সুন্দর ! সকলেই তার প্রতিভার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ‌ কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ নয় ! স্বপ্ননীল 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে' ব্যবহার করে কবিতাটি পত্রিকায় দিয়েছিল। পত্রিকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক সেই 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে' কাজে লাগিয়ে ধরেও ফেলেন ।

No comments:

Post a Comment