Tuesday, March 3, 2026


 

একটা শিমুল গাছ এবং
   তুহিন শুভ্র ভট্টাচার্য্য

শিমুল ফুলে ফুলে ধূসর সবুজ ঘাস বিছানো মাঠটা রাঙা হয়ে উঠেছে। সেই রাঙা সবুজ মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে শিমুল গাছটা একা।আর তার নীচে বসে একটা একা মেয়ে। চোখ তার উদাসীন,মুখ তার বিবর্ণ। বসন্ত বিকেলের পরে আসা রোদ্দুর তার বিষাদময় মুহূর্তের চিত্র এঁকে দিচ্ছে।
‘একত্রিশ বছরের মেয়ে বিয়ে করার নাম নেই, আমরা মরলে তোকে দেখবে কে? কার আপেক্ষায় জীবনটা নষ্ট করছিস ? কার?’ কথা গুলো বিরহ গীতের মতো বেজে চলেছে একলা মেয়েটার কানের কাছে।

বছর সাতেক আগে। এমনি এক বসন্তের বিকেল। এই মাঠ,এই একলা শিমুল গাছ। মাঠ জুড়ে ফুল ছিটিয়ে রেখেছে গাছটা আর গাছটার নীচে বসে এক প্রেমিক যুগল। ছেলেটার কাঁধে মেয়েটা মাথা রেখে বলে উঠেছিল,‘তুমি আমায় ভুলে যাবে না তো?ফিরে আসবে তো? আমি কিন্তু অপেক্ষা করে থাকবো।’ ছেলেটা আশ্বাসের সুরে বলেছিল,‘দেখিস আমি ঠিক ফিরে আসবো, আসবোই।’

ছেলেটা কথা রেখে ফিরেই আসছিল, কিন্তু আসার পথে বাসটা যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদের অন্ধকার তলিয়ে যাবে, সে কী আর সে কথা জানতো। তারপর কতো বর্ষা আসে, বসন্ত আসে, আবার চলেও যায়।আবহমান চক্র ঘুরে চলে। 

শিমুল গাছটা সেই একাই দাঁড়িয়ে আছে। আর আছে একটা মেয়ে। যে মেয়ে সেই বসন্ত দিনটার স্মৃতি আঁকড়ে বসন্তের পর বসন্ত কাটিয়ে দিচ্ছে। যে মেয়ে বিকেল করে সেই শিমুল গাছটার তলে এসে বসে একা।মুখ তার উদাসীন,চোখ তার অপেক্ষারত, বিকেলের পরে আসা রোদ্দুর তার বিষাদময় মুহূর্তের চিত্র এঁকে চলেছে চিত্রশিল্পীর মতো করে।

No comments:

Post a Comment