Tuesday, March 3, 2026


 

বোধোদয় 

মিত্রা রায়চৌধুরী

মা বিদিশা বাবা অরিন্দম। দুজনেই চাকুরীরতা। তাদের একমাত্র ছেলে অঙ্কুর। বয়স মাত্র তিন।বাচ্চাটিকে দেখাশোনার জন্য বাড়িতে রয়েছে একজন  আয়া। আধুনিক মা-বাবা জানে বাচ্চাকে সময় দেওয়া খুবই দরকার কোয়ালিটি নয় কোয়ান্টিটি টাইম বাচ্চার সাথে অতিবাহিত করলে বাচ্চার মানসিক ও দৈহিক বিকাশ ভালো হয়। সে বড় হয়ে ভালো মানুষ হিসাবে সমাজে পরিগণিত হবে। সঙ্গে সঙ্গে  তার ইচ্ছা শক্তির বিকাশ হবে, যা তাকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করবে।  কিন্তু জানাকে বাস্তবে রূপ দিতে তারা পারে না কারণ এক তো কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপের কারণে বাড়ি ফিরে আর এনার্জি থাকে না।  আরো একটি কারণ তাদের প্রবল মোবাইলে আসক্তি। বিদিশার সাজগোজ শপিং বন্ধুদের সাথে আড্ডা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটিভ থাকা সব ভালো লাগে কিন্তু বাচ্চাকে সময় দেওয়াতেই দারুণ অনীহা। অরিন্দমও তথৈবচ। নিয়মিত আড্ডা তাকে কাজের শেষে দিতেই হবে আর বাড়িতে ফিরে মোবাইল নিয়ে ঘুটঘুট করা তার নিত্য দিনের কাজ। মা ও বাবার সাথে একাত্মতা তৈরি হচ্ছে না বাচ্চার এটা কি তারা বুঝতে পারে না না বুঝেও বোঝেনা! অঙ্কুরের দাদু অনিমেষ বাবু ও দিদুন রিতা দেবী। মাঝে মাঝে এ বাড়িতে আসেন তারা তাদের অভিজ্ঞতার চোখে সবই বুঝতে পারেন কিন্তু বলতে গেলেই "মেয়ের সংসারে মাথা গলিও না তো " মেয়ের ঝাঁঝালো উত্তর। বাধ্য হয়ে চুপ থাকতেই হয়। অঙ্কুরের ঠাকুমা ও ঠাকুরদা প্রভাদেবী ও শান্তনুবাবুরও একই অবস্থা, দেখা সহ্য করা চুপ করে থাকা, দূরে থাকেন বছরে একবার ছেলে ছেলের বউ ও নাতির সাথে দেখা হয়। সবই বুঝতে পারেন খুব কষ্ট পান কিন্তু কিছুই করার নেই। তারা বুঝতে পারেন মা-বাবার সাথে সন্তানের কোনো বন্ডিং তৈরি হচ্ছে না। অবসর জীবন  এদের কাটবে চরম দুঃখে। তারা ভগবানের কাছে আকুল প্রার্থনা জানান যেন বিদিশা ও অরিন্দমের  শুভ বুদ্ধি জাগ্রত হয়।
                

No comments:

Post a Comment