আনন্দ
মৌসুমী চৌধুরী
গত চারদিন ধরে তাদের মন্দির সাফাই অভিযান পর্ব চলছিল। মন্দিরের পুরোহিত এবং ট্রাস্টিরাও সে বিষয়ে খুব সাহায্য করেছেন জয়দের। আজ শিবচতুর্দশী, একটু পরেই শুরু হবে ভক্ত সমাগম। খুব ভোরবেলায় মন্দিরে ঢুকে চারদিকে তাকিয়ে জয় দেখল মন্দির চত্বরটা একেবারে ঝকঝক করছে। কুচকুচে কালো গ্রানাইট পাথরে তৈরি শিবলিঙ্গটা যেন আরও চকচক করছে। শিবলিঙ্গের ওপর যে সাদা রঙের তিনটি সমান্তরাল রেখা বা ত্রিপুণ্ড্র দেখা যায় সেটাও জুঁইফুলের মতো একেবারে
সাদা ধপধপে হয়ে উঠেছে। শিবলিঙ্গের পিছনে জয়রা অ্যালুমিনিয়ামের চওড়া একটি চ্যালেন তৈরি করে দিয়েছে যাতে করে মহাদেবের মাথায় দুধ ঢালার সঙ্গে সঙ্গেই তার পুরোটা সোজা গিয়ে পড়ে
তার নিচে রাখা একটা বড় ড্রামে।
আগে থেকেই সব সরঞ্জাম নিয়ে তৈরি ছিল জয় ও তার বন্ধুরা। সারাদিন ধরে তারা ভক্তদের ঢেলে যাওয়া দুধ সংগ্রহ করল। তারপর সেটা সঙ্গে সঙ্গেই বড় বড় ছাঁকনিতে ছেঁকে, খুব ভালোভাবে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে দু'শো গ্রাম ওজনের ছোট ছোট বোতলে ভরে ফেলল। আর মন্দিরে সমাগত ভক্ত দলের কাছ থেকে পাওয়া কড়া পাকের সন্দেশ বা প্যাড়াগুলোও তারা জমিয়ে বাক্সবন্দি করে ফেলল।
ফাল্গুন মাস। বাতাসে কোন একটা নাম না জানা ফুলের উল্লসিত গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। গোধূলির কমলারঙা ম্লান আলো ঘিঞ্জি বস্তিটার টালির চালের ঘরগুলোর মাথায় ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে। দুধের বোতল আর মিঠাই হাতে বাচ্চাগুলো বহুদিন পর যেন একটু কলকাকলিতে মেতে উঠেছে। বাতাসে ভাসছে তাদের আনন্দঘন সুমিষ্ট কিচির মিচির। সেই আনন্দ আষ্টেপৃষ্ঠে ছুঁয়ে দিচ্ছে জয়কে। ভীষণ আনন্দে তার ভিতরটা যেন কানায় ভরে উঠছে! হঠাৎ জয়ের মনেহল ঘিঞ্জি বস্তির নর্দমা থেকে উঠে আসা দুর্গন্ধটাও আর নাকে লাগছে না তো!

No comments:
Post a Comment