দোলের ফুল
দোল এগিয়ে আসছে। শরীরটা ভালো নেই। পেটে ক্যান্সার হয়েছে, যন্ত্রণাটা বেড়েছে। শ্বাসকষ্ট হয়, বুকে চিন্চিন্ ব্যথা অনুভব হয় কখনো। তার স্বামী রতনকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে বললেও স্বল্প রোজগারে ভালো চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয় রতন। গ্রামের এক কবিরাজকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করলেও ক্রমশঃ শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় দোলার। ছোটো একটি মেয়ে আছে। কিছু হলে মেয়ের কি হবে? গাছগুলো পরিচর্যার অভাবে মৃতপ্রায়। কিভাবে ওদের বাঁচিয়ে রাখা যায়। এই চিন্তায় হটাৎ স্ট্রোক করে দোলার। হৃদস্পন্দন নিমেষেই বন্ধ হয়ে যায়। কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা বাড়ি। রতন জানায় শ্মশানে নেওয়ার আগে ফুলেদের কোলে দোলার নিথর দেহ যেন রাখা হয়। কিন্তু দোলার সাথেই বাহারি ফুলের গাছগুলোও যে স্বর্গযাত্রা করেছে। রঙিন ফুলে সুসজ্জিত বাড়ির স্বপ্ন হয়তো চিরকালের জন্য ভঙ্গ হয় রতনের।
এক বছর অতিক্রান্ত। ফাল্গুন এসেছে। পলাশ, কৃষ্ণচূড়া গায়ে আবীর মেখেছে। আগের বছর দোলের সময় দোলার চলে যাওয়াটা এখনো মেনে নিতে পারছে না রতন। উঠোনের সামনে বসে অশ্রুভরা জলে স্মৃতিচারণ করতে থাকে। হঠাৎ চোখ যায় উঠোনের এক কোণায়। বেশ কয়েকটি রঙিন ফুলের গাছ স্বেচ্ছায় জন্মেছে। গাছের লাল, হলুদ ফুলগুলো যেন মনের আনন্দে গাইছে "ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়"। কাছে গিয়ে অবাক দৃষ্টিতে গাছগুলোকে জড়িয়ে ধরে রতন। গাছেরা যেন বলতে চাইছে, ফুলের রূপে দোলের সময় দোলা এসেছে। দোলা আজ নেই, কিন্তু ওই ফুলের মাধ্যমে দোলার স্পর্শ হয়তো ছুঁয়ে যায় রতনকে।

No comments:
Post a Comment