উপহার
চিত্রা পাল
একমাত্র মেয়ের বিয়ে, তাই কাউকেই নেমন্তন্নর লিস্ট থেকে বাদ দিচ্ছে না সুপ্রভা। তারমধ্যে ওর ছোটকাকার ছোট মেয়ে মণিও বাদ যায়নি। মণির নামে বিয়ের নেমন্তন্ন পত্র দেখে সুধীনবাবু বলেই ফেললেন, তুমি একেও আনতে চাইছো, দেখো তখন আবার কোন গন্ডগোল না হয়। সুপ্রভা বলে, সে তখন দ্যাখা যাবে। ও আমার কোলেই বড় হয়েছে, ওকে বাদ দিই কি করে। না না ওকে আমি বাদ দিতে পারবো না।আসলে ওর নিজের পছন্দের বিয়ে আর আর্থিক অবস্থাও তেমন নয় সব মিলিয়ে মণিকে সবাই দূরেই রেখে ছিল।
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন এসে গেলো। মণি বিয়ে বাড়িতে যেন এলো, দেখলো জয় করলো এমনতর। আইবুড়ো ভাত থেকে বৌভাত সবেতেই মণি একেবারে কাজেকর্মে হৈচৈ করে আনন্দ করে একেবারে মাতিয়ে রেখেছিলো। পরের দিন সকালে যখন বিদায় নিল, তখন সকলের চোখে জল।সবাই বলছে তুই আর দুটো দিন থেকে যা না।
দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পরে সবাই বসলো উপহারের পসরা নিয়ে। কে কি দিয়েছে তা আর একবার করে দেখে নেওয়া। সবাই সবায়েরটা দেখলো, কিন্তু মণি কি দিয়েছে তা খুঁজে পাওয়া গেলো না। বেশ খানিকক্ষণ পরে মেয়ে লিলি একঘুম দিয়ে এসে দ্যাখে উপহারের ঢিবির মধ্যে সবাই মণির উপহার খুঁজছে।লিলি বলে ,’তোমরা কি খুঁজছো গো?’ তখন সেজমাসী বলে,’হ্যাঁরে, মণি কি দিয়েছে রে?’ লিলি বলে,ওমা,সেতো আমি মাকে দিলুম মা বললে, রেখে দে। তখন সুপ্রভা বলে, কোনটা বলতো?লিলি বলে, ওই যে রুপোর চাবির রিং।রুপো না মাথা কি একটা যেন। তখন হলো উল্টো কথাবার্তা। অনেক নিন্দেমন্দ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য। সুপ্রভা বলে একটা মেয়ে ক দিনযে আনন্দে হাসিতেকাজেকর্মে বাড়িটাকে ভরিয়ে দিয়েছিলো সেটা কি কম,সেটাই তো বড় পাওয়া।

No comments:
Post a Comment