সেরা
শুভেন্দু নন্দী
বঙ্কু কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে কলকাতায় গিয়েছিলো বইমেলায়। তার মায়ের অনুরোধে তাদের সঙ্গী ছিলেন অমলকাকু। পাড়ার ছোট -বড় সকলের অমলকাকু। হাজারের বেশী প্রকাশনী সংস্থার বুকষ্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখতে দেখতে অবশেষে দু -তিনটে বই কিনেছিল বঙ্কু। মা -বাবার কাছ থেকে কিছু অর্থের সুরাহা করেছিল তার সখের বইগুলো কিনতে। খেলার কুইজ, কার্টুন আর স্বপনকুমারের গোয়েন্দা বই। শহর ঘেঁষা বর্ধিষ্ণু গ্রামে বঙ্কুর বাস। গ্রামের বেশীর ভাগই কৃষিজীবী। পড়াশোনায় তার তেমন মনোযোগ নেই। কোনও রকমে ক্লাস উৎরে যাচ্ছে। স্কুলে খেলাধুলায় তার ভালো পারফরমেন্স। শিক্ষকেরা তাকে ভালোবাসেন। রাজ্যস্তরে প্রতিযোগিতার জন্য বেশ কিছুদিন পাড়ার মাঠে অনুশীলন করছে বঙ্কু। বড়সড় রেসের "হিট" হবে। দশজন অংশ গ্রহণ করবে তাতে। নেবে মাত্র একজনকে।
বাবা সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। সকালে চাষবাস। তারপর গ্রাম থেকে দূরে এক মুদিখানার কর্মচারী। মা সংসারের জন্য প্রাণপাত করে যাচ্ছেন। ছেলে মিলখা সিং ও উইনসাইন বোল্টের পরম ভক্ত। পড়ার সময় ওঁদের ছবিই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বাবা-মার তাতে ঘোর অপছন্দ। আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত দিন। মাঠে লোক জড়ো হয়েছে।
বঙ্কু দৌঁড়চ্ছে- সঙ্গে আরও নয় জন। বঙ্কুর বাবা দুপুরবেলায় ফিরছিলেন কাজের শেষে মাঠের পাশ দিয়ে। চিৎকার শুনে তাঁর মনে হোলো "তবে কি আজ বঙ্কুর খেলা?" তার জন্যই তার দিবা রাত্রি অনুশীলন? মাঠে ঢুকেই বাবা ধাবমান বঙ্কুকে দেখতে পেলেন। " বাঃ! ছেলেটাতো বেশ জোরে দৌঁড়োচ্ছে " কিন্তু লক্ষ্যস্থলে পৌঁছুতে পারেনি। তার স্থান দ্বিতীয়তে। পরাজয়ের গ্লানিতে বঙ্কুর চোখে জল।
-আরে! কাঁদছিস কেন? আমার চোখে তুই-ই সেরা! ঐ দেখ, সবাই দাঁড়িয়ে তোকে বাহবা দিচ্ছে। এ পারাজয় নয় - তোর জয়ের খিদে আরও বাড়িয়ে দেবেরে এতে আগামীতে। দুঃখ
এটাই- এতদিনে তোকে আমরা গুরুত্ব দিইনি " বাবা বললেন।
বঙ্কুর চোখে আবার জল।

No comments:
Post a Comment