Tuesday, March 3, 2026


 

কনটেন্ট
শ্রুতি দত্ত রায়

বছর দশেকের একটা ছেলে। স্টেশনের মেইন গেটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। পরণে আধময়লা টিশার্ট ও একটি ধুলোমাখা বারমুডা। হাতে লাল, কমলা, সবুজ রঙের লজেন্সের বয়াম। কাঁধ থেকে আড়াআড়িভাবে নেমে এসেছে একটা তাপ্পিমারা ভারী ঝোলা। ছেলেটির চোখে ঈগলের দৃষ্টি। একটু আগেই স্টেশনে থেমেছে ছয়টার লোকাল। কোল্ড ড্রিংকসের বোতলের ছিপি খুললে যেমন হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে আসে বুদবুদ, তেমনি কামরাগুলো থেকে পিলপিল করে বেরিয়ে আসছে অগুন্তি নিত্যযাত্রী। ছুটছে মূল ফটকের দিকে। তাদের মাঝেই একজনকে ছেলেটার দরকার। 

      প্রায় দেড়মাস আগের একটি ঘটনা। কামরায় ঘুরে ঘুরে ছেলেটা যখন লজেন্স বিক্রি করছিল, লোকটা ওকে দাঁড় করিয়ে শুনতে চেয়েছিল ওর এত ছোট বয়সের জীবনযুদ্ধের কথা। ভিডিও করেছিল সেসব। অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

    ওই তো লোকটা। চেক শার্ট আর জিন্স প্যান্ট পরে ভিড়ের স্রোতে ভেসে আসছে। ছেলেটা স্রোতের প্রতিকূলে গা ভাসালো।
" কাকু আমাকে চিনতে পারছো? ওই যে তুমি একদিন আমার ভিডিও তুললে,,,," ছেলেটা বড়দের পায়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোল। 

"ফটো তোলার সময় তুমি যে বলেছিলে লোকে নাকি আমাকে এখন থেকে অনেক হেল্প করবে,,,, আর,,, কখনো বিপদে পড়লে সবচেয়ে আগে যেন আমি তোমাকে জানাই? জানো, আমার মায়ের খুব অসুখ। কাজে যেতে পারে না। চারদিন হলো ঘরে টাকা নেই। বোনটা খালি খিদেতে কাঁদে। তোমার ভিডিও দেখে প্রথমে কয়দিন লোকে বেশি করে লজেন্স কিনছিল। কিন্তু এখন আর কেনে না। আমাকে একটা কাজ দেবে কাকু?"
"কেন রে? তোর ভিডিও তো কবেই ভাইরাল , একদম সুপারহিট। এত করলাম তোর জন্য, তবু কোনো লাভ হলো না? দেখ, যাতায়াতের পথে তোর মত এমন কত কনটেন্টের ভিডিও তুলি। সবাইকে কি আমার একার পক্ষে হেল্প করা সম্ভব? আচ্ছা আমি নাহয় তোর স্টোরিটা একটু অন্যভাবে আবার আপলোড করে দেব, বুঝলি?" কপালের ঘামের সাথে জড়িয়ে থাকা অস্বস্তিটুকু রুমালে একবার মুছে নিল লোকটা। তারপর তড়িঘড়ি মিলিয়ে গেল জনসমুদ্রে। পেছনে পড়ে রইল ওর মলিন কন্টেন্ট। হাতে তার স্বচ্ছ বয়াম। সেখানে বন্দি সবুজ, কমলা, লাল রঙের স্বপ্নেরা। বিক্রির অপেক্ষায়।

No comments:

Post a Comment