নষ্ট মানুষ
অমলকৃষ্ণ রায়
মানুষ কি কখনও নষ্ট হতে পারে? পারে। কী করে? ভিন্ন জাতির স্পর্শজনিত কারণে। সেটা কী করে হল? ভিন্ন জাতির সেনাবাহিনী পাড়ায় তাঁবু গেড়েছিল, পুকুরের জল খেয়েছিল। গোলা থেকে খাদ্যশষ্য লুটপাট পর্যন্ত করেছিল। তারা তো এখন আর নেই। কামতাপুর রাজ্য আক্রমণ করে কবেই অন্যত্র চলে গেছে। চলে গেলেও সমাজপতির কাছে তারা এখন পতিত, যাকে বলে নষ্ট। সোজা কথায় ধর্মহীন। এখন তাদের কী করা উচিত? কী করলে তারা নিজের ধর্মে আবার ফিরে আসতে পারবে? ফেরা তো কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তবে একটা কাজ করতেই পারে। কী সেটা? আরব দেশ থেকে কোনও পীরবাবা ধর্মপ্রচার করতে এতদঞ্চলে এলে তার কাছে দীক্ষা গ্রহণ করতে পারে। তাতে অন্তত ধর্মহীন কলঙ্কটা ঘুচে যাবে। ‘নষ্ট’ নামটা তখন এক অলংকাররূপে পৃথক জাতি সত্তার পরিচায়ক হয়ে দাঁড়াবে। পদবির মতো বংশ পরম্পরায় সেটিকে বয়ে বেড়াতে পারবে। কিন্তু তারা তো এককালে আমাদেরই মানুষ ছিল। একই সামাজিক অনুষ্ঠানে একই পংক্তিতে বসে অন্ন গ্রহণ করেছি। একই আসরে ঈশ্বরের নামগান করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছি। একটা সামান্য কারণে তারা অচ্ছুৎ হয়ে গেল! কী করবে বলো। এটাই সমাজিক বিধি। জানি এতে তাদের কোনও দোষ নেই। সেনাদের সামরিক শক্তি তাদের উপর স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়েছিল। ঠিক একইভাবে একটা হাতির বাচ্চা যখন লোকলয়ে হারিয়ে যায়, তখনও তো তার কোনও দোষ থাকে না। শুধু একটু অন্যমনস্কতার কারণে দলছুট হয়ে যায়। তারপর তাকে লোকালয় থেকে জঙ্গলে ফেরালেও তার মা কি তাকে সন্তানরূপে গ্রহণ করে! এরইমধ্যে স্বপ্নাদিষ্ট মানসপটে দৃশ্যান্তর ঘটলো। স্পষ্ট দেখলাম, আরব দেশ থেকে জনৈক পীর বাবা পতিত গাঁয়ে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করতে এসেছেন। ধর্মহীনেরা ‘নস্যশেখ’ নামে তার পদতলে আশ্রয় পেয়ে সমস্বরে আল্লাহর ‘জিকির’ (নামজপ) উচ্চারণ করছেন।

No comments:
Post a Comment