বড় গল্পের মতো...
রীনা সাহা
কয়েকশো মাইল দূর থেকে রোজ একবার ঘরটায় ঢুঁ মারে বুবুর মা। গোটা ফ্ল্যাটের একভাগ হয়তো হবে। ষড়ভুজ শেপের ঘর। রট আয়রনের খাট, স্টীল আলমারি, আলনা, একটা টুল, দু'তাকের প্লাস্টিক সেল্ফ আর ভারী মিষ্টি দুটো মানি প্ল্যান্ট। একেবারেই সাধারণ। তবুও বুবুর বাবা-মায়ের কাছে ওদের এই যাযাবর আস্তানা অনেকটা হেনরীর গল্পে আঁকা শেষ পাতাটার মতো... মৃত শিল্পীর মাস্টারপিস।
কিন্তু বুবুদের নিজের বাড়ি অনেকটাই বড়। ওর নিজের অজন্তা- ইলোরা মার্কা ঘরটাও ফ্ল্যাটের ওই ঘরটার চেয়ে বড়। রোজ সকালে ঝাঁট দিতে গিয়ে ফাঁকা বিছানায় হাত বোলায় বুবুর মা। গন্ধ শোঁকে।কান্না পায় না রোজ। তবুও ছাদে যায়। হেঁটে আসে রোদের দিকটায়। অর্ধেক ছাদ জুড়ে পুজোর ফুলগাছ, কিছু শাকসবজি, একটা কলম চারার হিমসাগর, আর একটা বনসাই টাইপের লেবু গাছ। লেবু হয়েছিল একবার। এবারও অনেক গুটি ধরেছে। লেবু না হলেও পাতার জন্যই গাছটাকে যত্নে রাখতে হয়। আড় মাছের মাথা দিয়ে বেগুনের মাখামাখি তরকারি। ওপরে লেবু পাতা দিয়ে খানিকক্ষণ ঢেকে রাখলেই পুরো তরকারিতে লেবুর ফ্লেভার। বুবুর বাবার খুব প্রিয় পদ।
প্রতিবছর দোলের সময় বুবু আসে। বন্ধুদের সঙ্গে রঙ খেলতে বেরোয়। বেরোবার আগে মাকে নিয়ে ছাদে যায়। গায়ে,মাথায় নারকেল তেল মাখিয়ে দেয় মা।সেই ফাঁকে নতুন, পুরনো গাছগুলোতে আঙুল ছোঁয়ায় বুবু।
রঙ খেলে ফিরে এলে রঙ তোলার পালা। টমেটোর টুকরোর সাথে অ্যালোভেরা জেল আর নারকেল তেল মিশিয়ে দলাইমলাই। বুবুর গা জ্বালা করে। মায়ের হাত ছাড়িয়ে পালাতে চায়। পালাবে কোথায়! এ বাড়িতে তো বাঙ্কার নেই!
এবছরই প্রথম মুকুল এসেছে গাছটায়। ছাদ জুড়ে বসন্ত...অ্যালোভেরা,পাকা টমেটো। ওমানে যুদ্ধ।এবার তাই আসা হবে না বুবুর। তবে ওর মতোই কেউ একজন আসবে। বুবুর মায়ের অ্যালিস। অপেক্ষায় ওয়ান্ডারল্যান্ড, বুবুর ঘর, বুবুর ছাদ।

No comments:
Post a Comment