Tuesday, March 3, 2026


 

পোস্ট বাক্স

অনিতা নাগ


আমাদের ছোটবেলাটা ছিলো বড় সহজ আর সাবলীল।ছোট ছোট খুশি আর আনন্দে ভরা ছিলো সেই দিনগুলো। মনে পড়ে এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়ের কথা। হলদে রঙের মোটা আয়তাকার এক কাগজ, নাম তার পোষ্টকার্ড! তখন চিঠিই ছিলো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম, পোষ্টকার্ড ছিলো সবচেয়ে সুলভ। মনের কথাটি লিখে, প্রাপকের ঠিকানা লিখে লালরঙের বড়ো বাক্সটায় ফেলে দিলেই হলো! কি যে রহস্য মাখা ছিলো ওই বাক্সটায়! ভেবেই পেতাম না ওই বাক্সটার মধ্যে দিলে কেমন করে তা পৌঁছে যায় গন্তব্যে! সেই পোস্টকার্ড কতো বার্তা পৌঁছে দিতো। মাঝে মাঝে আমাদেরও সুযোগ হতো দু'লাইন লেখার। তারপর লেখা হলে সেই পোস্টকার্ড পোস্ট বাক্সে ফেলা হতো। তারপর অপেক্ষা উত্তর আসার। বাড়ীর সদর দরজার সামনে একটা কাঠের বাক্স লাগানো ছিলো। বাক্সটার নীচে একটা কাটা জায়গা ছিলো, যেখান দিয়ে দেখা যেতো ভিতরে কিছু আছে কিনা! ছোট্ট তালা লাগানো থাকতো। দুপুর গড়িয়ে যখন বিকেল হতো তখন খাঁকি জামাপ্যান্ট পরা পিওন কাকু আসতো ব্যাগ বোঝাই চিঠি নিয়ে। ঠিক বাড়ীতে ঠিক চিঠিটা কি'করে যে পৌঁছে দিতেন, ভেবে কূলকিনারা পেতাম না।

এখনও পোষ্ট নিয়ে পোষ্টম্যান আসেন। রেজেষ্ট্রি চিঠি বা স্পীডপোষ্ট আসে। কলিং বেল বাজিয়ে দিয়ে যান। চিঠির বাক্স দেখার উত্তেজনা হারিয়ে গেছে! বড় যে পোস্টবাক্স, তাতে সময় লেখা থাকতো। মনে পড়ে ঐ বাক্সটার সামনে নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে অপেক্ষা করতাম। নির্দিষ্ট সময়ে বড় বাক্সটা খোলা হতো, তা থেকে বেরুতো গোছাগোছা পোষ্টকার্ড, নীল রঙের ইনল্যান্ড লেটার, ডাকটিকিট আটকানো কতো রকমের খাম। সে'সব ব্যাগে ভরে নিয়ে যেতেন পোষ্টম্যান কাকু। অবাক হয়ে ভাবতাম আর মনে মনে বলতাম, ‘ রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে’

আজ সবই গল্পকথা। কতো ছোট ছোট আনন্দ আমাদের জীবনকে আলোকিত করে দিতো। সেই স্মৃতিটুকু আগলে রেখেছি মনের মণিকোঠায়।

No comments:

Post a Comment