শিকার
সোমা দাশ
উফফ্, ডোপামিন ডোপামিন! প্রতি রাতে অজয়ের ফেভারিট টাইম পাস ফেসবুক-ইনস্টায় সুন্দরী বুদ্ধিমতী মেয়েদের প্রোফাইল দেখা, তাদের সাথে আলাপ জমানো।
এক মাস আগে খুঁজতে খুঁজতে এই প্রোফাইলটা পেয়েছিল সে। খুব ক্রিয়েটিভ মেয়েটা। চোখটা মায়াবী। একটু বিষন্ন আর অনেকটা রোমান্টিক। দেখা গেল, সেও কেমিস্ট্রির স্টুডেন্ট, একই ইউনিভার্সিটি র। ব্যস, চটপট ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে দিল। একসেপটেডও হয়ে গেল। মজার কথা, মেয়েটার নামও যেন অজয়ের নামের সঙ্গে মিলিয়েই জয়শ্রী। অদ্ভুত না? খরস্রোতা নদীর মত দ্রুত এগোতে থাকে তাদের আগলভাঙা গল্পকথা। মাঝে মাঝে সেন্স অফ হিউমারের নুড়ি-পাথর, টুকরো খুনসুটি ঝগড়া। মনে অদ্ভুত উচাটন। আর পারছে না অজয় এই টান কাটাতে। আজকাল সে আর নিত্য নতুন প্রোফাইলের সন্ধান করে না। জয়শ্রী কে একটা গান ডেডিকেট করে পাঠিয়েছে, ‘ভালোবাসার মরসুম’। সে না বুঝলে এবার অজয় সরাসরি বলবে মনের কথা, বলবেই।
এদিকে পূর্ণিমা রাতে ছাদে জয়শ্রী বসে আছে। পরনে গাঢ় নীল শাড়ি। চুল অল্প অল্প উড়ছে হাওয়ায়। চাঁদের ঠিক নিচে ডানদিক ঘেঁষে আজ একটা অত্যুজ্জ্বল লালচে-বেগুনি জ্যোতিষ্ক। তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে জয়শ্রীর চোখ জ্বলে উঠল। সেই চোখে স্পষ্ট প্রতিবিম্বিত অজয়ের ছায়া, তার কর্মকান্ড। আর তার মনের ভাবনা গুলোও জয়শ্রী ডিকোড করে ফেলছে।
এক মিনিট, তা তো নয়! আসলে উল্টো! জয়শ্রী যেটা ভাবাতে চাইছে অজয় ঠিক সেটাই ভাবছে আর করছে! আর কিছুক্ষণের মধ্যেই অজয় প্রপোজ করবে, জানাবে সে তার শ্রীকে 'ভালোবেসে ফেলেছে, ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছে'। শ্রী প্রথমে রিফিউজ করবে তারপর অজয়ের অস্থিরতা তুঙ্গে উঠিয়ে একসেপ্ট করবে। সেই সর্বগ্রাসী টান অজয়কে টেনে আনবে এই বাড়িতে। আর তারপর…
জয়শ্রীর চোখে লাল-বেগুনি আলো খেলা করে। ঠোঁটের কোণে হাসি চওড়া হতে হতে অন্ধকারেও তার ঝকমকে সাদা দাঁত স্পষ্ট দেখা যায়।

No comments:
Post a Comment