লক্ষ্মণরেখা
নির্মাল্য ঘোষ
ঘরের কলিঙ বেলটা অনেকক্ষণ ধরে বাজাচ্ছিল রিপন - কিন্তু কোনো সাড়া পাচ্ছিল না। অফিস থেকে ফিরতে দেরী হয়েছে। সুদীপ্তা কি নেই বাড়িতে? কিছু তো বলেনি!!! ফোন ও ধরছে না।
রিপন অফিসার মানুষ - বেসরকারী ব্যাঙ্কে। ফিরতে প্রায় দিনই দেরী হয়। বেল বাজালেই সুদীপ্তা দরজা খুলে দেয়। তাহলে আজকে? কি হল? ক্ষিদেও পেয়েছে খুব। কি মুস্কিল!!!
সুদীপ্তা রিপনের বিয়ে হয়েছে এক বছর হল। লাভ ম্যারেজ। এমনিতে ওরা হ্যাপি কাপল। তবে মাঝে মধ্যে ঝগড়া ঝাটি সব স্বামী স্ত্রীর মধ্যেই হয়। তাতে কি?
প্রায় পনের মিনিট হয়ে গেল - দরজা খুলছে না সুদীপ্তা। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ -আলো জ্বলছে। তাহলে??? নানা রকম দুশ্চিন্তা মাথায় উঁকি দিতে লাগল। পাড়ার লোককে ডাকবে কি না ভাবতে লাগল! কিন্তু, কেমন যেন একটা সঙ্কোচ হচ্ছে। বিপদে সঙ্কোচ করলে তো চলবে না... নিজের মনকে বোঝাল রিপন। আরেকবার শেষ চেষ্টা করে পাড়ার লোককে ডাকতেই হবে। বেশ কয়েকবার বেল বাজিয়ে এবার খুব জোরে জোরে দরজা ধাক্কা দিল রিপন।
দরজা খুলে গেল। সুদীপ্তা সামনে দাঁড়িয়ে। চোখে মুখে বিস্ময়!!!
"এত জোরে দরজা ধাকাচ্ছ কেন? "
" কখন থেকে ডাকছি তোমাকে খেয়াল আছে???" মুখ বিরক্ত করে রিপন বলে উঠল - "শুনতে পাওনা - কি করছিলে?"
অবাক এবং নির্বিকার চোখে সুদীপ্তা বলে উঠল - " কেন? Face book reel বানাচ্ছিলাম। আরেকটা মোবাইল silent ছিল। তোমার কিনে দেওয়া নতুন মোবাইল দিয়ে video করছিলাম আমার। কালকেই monetize হয়েছে ফেস বুক। ভালো কণ্টেণ্ট না দিলে টাকা আসবে কি করে? "
"তোমার এত টাকার কিসের দরকার? আমি তো যথেষ্ট ভালো income করি... তোমাকে হাত খরচও ভালো দেই... তাহলে???" রিপনের চোখে মুখে বিস্ময় ও বিরক্তি!!!
"তাতে কি? নিজেকে প্রকাশ করতে কে না চায়???" সুদীপ্তা দরজা খোলা রেখে মুখ বেঁকিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল।
রাগে, দুঃখে, বিরক্তিতে, হতাশায় রিপন নিজের হাতে ঝোলানো অফিসের ব্যাগটা দূরে ছুঁড়ে মারল।

No comments:
Post a Comment