Tuesday, March 3, 2026


 

ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ড

লিপিকর


- “৪২৩২০১”

- “১৫৫৪৩৫”

- “৩১৭৮৯৩”

- “এগুলো কী? আমাকে এইসব নাম্বার মেসেজ করেছিস কেন? বলেছিই তো তোর সঙ্গে আমি কোনও যোগাযোগ রাখতে চাই না।”

- “এগুলো আমার অনলাইন ট্র্যান্স্যাকশ্যনের ওটিপি। এখন তো বাইরে বেরোনোর উপায় নেই, তুইও কথা বন্ধ করে দিয়েছিস, তাই প্রচুর কেনাকাটা করে দেউলিয়া হওয়ার চেষ্টা করছি।”

-”ওসব গ্যাসলাইটিং অন্য কাউকে করিস! আমাকে জ্বালানো বন্ধ কর! নইলে …”

-”নইলে কী? আমাকে ব্লক করবি? সে তো তুই শুনিয়েইছিস আমার নম্বর তুই আমার মতই তোর জীবন থেকে মুছে ফেলেছিস পুরোপুরি। আমি এই চ্যাটটা এখন থেকে স্ক্রিব্ল প্যাড হিসেবে ব্যবহার করব, তুই যা পারিস করে নে …”

অপরপক্ষ বিরক্তিবশতঃ উত্তরদানে বিরত থাকে। জানে, এই কথোপকথন আসলে একটি রেজ বেট -  তিক্ত কলহে ঢুকিবার টোপ। কিন্তু কেন কে জানে, ব্লক টিপিতেও তাহার অঙ্গুলি থমকায়! আহা, তবু তো অহরহ টের পাওয়া যাইবে অপরদিকের মানুষটি এখনও আছে। একটি সচল কার্ড লইয়া একটি জীবিত মানুষ … এই অনির্দিষ্ট লকডাউনে সেই জানাটুকুই বা কম কী?

অতএব ৬ অঙ্কের সংখ্যারা জমিতে থাকে। সেগুলিতে নীরবে নীল টিকজোড়া পড়িতেছে, প্রেরকের শ্যেন দৃষ্টিতে তাহা ধরাও পড়ে। অথচ, “গুড মর্ণিং” লিখিলে বা কোনো মীম পাঠাইলে তাহা দর্শনমাত্র বার্তাটি উভয়ের আলাপের ইতিহাস হইতে উড়িয়া যায়।

তাহার পরে, দ্বিতীয় ঢেউয়ের তীব্র প্রকোপের সময়ে একসপ্তাহ কোনো ওটিপি না দেখিতে পাইয়া অপরপক্ষ নিজেই একটি ৬ অঙ্কের সংখ্যা লিখিয়া পাঠায়, কিন্তু পূর্বজনের উচ্ছসিত সমস্ত বাক্যালাপ প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করে। 

ধীরে ধীরে প্রথমজন অনুধাবন করে, অপরপক্ষ নিজ জীবনে তাহাকে ঠিক কতটুকু পরিসর দিতে প্রস্তুত। অতঃপর পরস্পরের সহিত অন্য কোন বাক্যালাপে অনিচ্ছুক দুইটি মানুষ অতীতের প্রেমজ বেদনা হৃদয়ে চাপিয়া যন্ত্রজাত ৬ অঙ্কের সংখ্যাগুলিকে যান্ত্রিকরূপে নিজেদের বৈদ্যুতিন কথোপকথনের উপসংহারে জুড়িতে থাকে।

No comments:

Post a Comment