ফেরার আগে যে নীরবতা
আদিল হোসেন মাহি
ফেরা কখনও কেবল দূরত্বের হিসাব নয়; ফেরা মানে নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক পুরোনো নাম উচ্চারণ করা।
বহু বছর পর আরিব যখন শালবন–এর মাটিতে পা রাখল, তার মনে হলো—এই মাটি তাকে মনে রেখেছে। মানুষেরা ভুলে যায়, জায়গা ভুলে যায় না। বিকেলের আলো গাছের ফাঁক দিয়ে নেমে এসে তার কাঁধে হাত রাখল, যেন বলল—“তুমি দেরি করেছ, কিন্তু আসেছ।”
তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকা। সেখানে সাফল্য শব্দে মাপা হয়, সময় টাকায়। মানুষ উঁচুতে ওঠে, কিন্তু ভেতরে কোথাও নিচে নেমে যায়। আরিবও উঠেছে—পদে, মর্যাদায়, ব্যস্ততায়। শুধু নিজের ভেতরের শিশুটিকে কোথায় যেন রেখে এসেছে।
নদীর ধারে মায়া দাঁড়িয়ে ছিল। কোনো অভিযোগ নয়, কোনো প্রত্যাশা নয়—শুধু একটি স্থির উপস্থিতি।
“শহর কি তোমাকে নিজের করে নিয়েছে?”—তার প্রশ্ন ছিল নরম, কিন্তু গভীর।
আরিব উত্তর দিল না। নদীর দিকে তাকিয়ে থাকল। জল বয়ে যাচ্ছে—তার নিজের ছন্দে। সে বুঝল, নদী কখনও শহরে যায় না; শহরই একদিন নদীর কাছে ফিরে আসে স্মৃতির ভেতর।
মায়া বলল, সে শিশুদের শেখায় স্বপ্ন দেখতে। আর শেখায়—স্বপ্ন যেন শেকড় কেটে না ফেলে। কারণ ডানা থাকলেই উড়া যায়, কিন্তু মাটি না থাকলে নামা যায় না।
গোধূলি ধীরে ধীরে অন্ধকারে ঢেকে গেল। তারা পাশাপাশি হাঁটল, কথা কম, নীরবতা বেশি।
সেদিন আরিব বুঝল—ফেরা মানে জায়গায় ফিরে আসা নয়; ফেরা মানে সেই মানুষটিকে খুঁজে পাওয়া, যে কখনও বদলায়নি।
আর মানুষ যত দূরেই যাক, তার ভেতরে একটি গ্রাম চিরকাল অপেক্ষা করে।

No comments:
Post a Comment