Tuesday, March 3, 2026


 

ফিরিস্তি এবং…
রাজর্ষি দত্ত
                                                                   

 ইলেকট্রিশিয়ান ছেলেটা, নাম গদাই, সব দেখে-টেখে বলল "ফিফটিন অ্যাম্পিয়ার সুইচ বোর্ড,  কপার কেবেল, আর কিছু টুকটাক... হাজার খানেক দিন - কিনে এসে কাজ ধরব।"    

বেরনোর সময় তালুকদার গিন্নি ডাক দিল "এই যে আরও দুইশ নাও, রাস্তায় ফলের দোকান পাবে। একটু কলা আর আপেল..."

ফিরে এসে কাজে ব্যস্ত ছেলেটির জন্য চা-বিস্কুট এনে তালুকদার গিন্নি বসলেন সোফায়।
 
" উফ্, আর পারি না ! আজকেই আবার কাজের মেয়েটা আসেনি। তোমার সারা হলে নোংরা ঝেড়ে চানে যাব।"      
-" চিন্তা নেই" গদাই বলে "আমি সাফা করে দেব"।  
-"বাঁচালে বাবা! আসলে আমরা দুই বুড়ো-বুড়ি বাড়িতে একলা। একমাত্র মেয়ে বিয়ে করে সেই জব্বলপুর। আগে তোমার কাকু সবই করত। এখন বয়স বাড়ছে আর খোকা হয়ে যাচ্ছে..."

চা খাওয়া শেষ হলে তালুকদার গিন্নি ছেলেটাকে বাথরুমে নিয়ে গেলেন। "দ্যাখো কেমন টপটপ করে জল পড়ছে! তুমি পারবে?"
গদাই-এর গলায় বিরক্তি -"এসব আমাদের কাজ না কাকিমা ! প্লাম্বার লাগবে।"
-"ও তাই?" অপর প্রান্তে হতাশা।
-"আচ্ছা, চেনা কাউকে বলে দেবখন "।    

তালুকদার গিন্নি  আবার খুলে বসেছেন অফুরান সমস্যা ও শখের ইস্তাহার  -   ওষুধপত্তর, ব্যাথার মলম , লক্ষ্মীর ফ্রেম, তালপাখা, বালিশের ওয়ার, জর্দার কৌটা, ত্রিফলা, কাঁচাগোল্লা ... ইত্যাদি।  
ঝালাপালা কানে গদাই বলে "আপনারা সবসময়ের লোক রাখুন...অথবা মেয়ের কাছে গিয়ে..."

সে কথার উত্তর শুনে ভেতরে ফুঁসে উঠে গদাই। এই সিনিয়র সিটিজেনদের নিয়ে যত লাফড়া! হাতে টাকা আছে - অথচ সঙ্গে কেউ নেই।    

এর মধ্যেই দুবার ফোন আসে গদাই-এর। জবাবে একবার “আমি রাস্তায়-”, অন্যবার “আপনার বাড়ির সামনেই !!” জানায়। শেষমেশ জলদি বেরুবার মুখে বড় নোটগুলি দেখে বলে – “ একি ! খুলা দিন...”    
“ কোথায় পাব বাবা ? তোমারটা রেখে বাকি টাকায় ওষুধটা অন্ততঃ…”

No comments:

Post a Comment