Tuesday, March 3, 2026


 

অস্তিত্ব 
প্রতিভা পাল 

           মিতুলের ছোট একটা চারকোণা ফ্ল্যাটে আজ রিমির গৃহপ্রবেশ। 'অভিধান' অনাথ আশ্রম থেকে সে আজ নিজের বাড়িতে আসবে। মায়ের কাছে।

            স্কুলের সেই দিনটির কথা মিতুলের আজও মনে আছে। ক্লাস এইট। বন্ধুদের মুখে সে প্রথম জেনেছিল তার বাবা মা নিজের না। সে দত্তক নেওয়া সন্তান। বাড়ি ফিরে অসহায় রাগ, কান্না, অভিযোগ আরও কত কিছু। সেদিন মা-বাবার কোনও কথাই তাকে শান্ত করতে পারেনি। বেশ কিছুদিন স্কুল তো দূর স্নান, খাওয়া, ঘুমহীন। ক্লান্ত চেহারার মেয়েটি কী যেন একটি ঘোরের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। নিজেকে সামলে নেওয়ার প্রবল চেষ্টা করেও বারবার হেরে যাচ্ছিল। একদিন মা তাকে অনেক বোঝালেন- 'বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড়ো সত্যি আমাদের কাছে। জন্ম, অস্তিত্ব নির্ধারণ করে না। কাজ আমাদের পরিচয়।' কথাগুলো মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছিল সে। তখন তার ভিতরে আমূল একটি পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছিল। সেদিনের পর থেকে এই বিষয়ে কোনও প্রশ্ন করেনি মিতুল। আর কখনও। বরং মায়ের কথা মেনে সে নিজেকে গড়ে তুলেছে একজন ভালো মানুষ হিসেবে। 

           শহরের নামকরা একটি কলেজের বোটানি-র প্রফেসর মিস মিতালী বসু আজ স্বয়ং সম্পূর্ণ। তিন বছরের রিলেশনে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে। করোনার সময় বাবা মা চলে গেলেন। বাড়ি বিক্রি করে ফ্ল্যাটে শিফট করেছে সে। অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে- তার মতো কোনও অনাথ শিশুকে তার নিজের পরিচয়ে বাঁচতে শেখাবে। মায়ের নামে সে নাম রেখেছে সেই ছোট্ট মেয়েটির।
     
             ছোট্ট রিমিকে কোলে নিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা দিয়ে ঢুকে বাবা মায়ের ছবির সামনে এসে দাঁড়াল মিতুল। তখন তার মুখে একরাশ তৃপ্তি ছড়িয়ে পড়ছিল।

No comments:

Post a Comment