সন্তান
রীনা মজুমদার
সাত বছর বয়সে লক্ষ্মী মাকে হারিয়েছে।
দুমাস পরে বাবা লক্ষ্মীকে মামা মামীর কাছে রেখে চলে যায়। বাবা তার নতুন সংসার পেতে নেয়।
লক্ষ্মীর খুব মায়ের জন্য মন কাঁদে। মামা-মামীর দশ বছরের সংসারে বড়ই নিঃসঙ্গ তাই খুব খারাপ ব্যবহার মামী করে না। লক্ষ্মীও মামীর সঙ্গে কাজে হাত লাগায়। সরল লক্ষ্মীর জীবনটা কেমন এলোমেলো হয়ে গেল। মায়ের স্বপ্ন ছিল অনেক পড়াশোনা করাবে। চেয়ে থাকে ছোট্ট জীবন আকাশের দিকে। বাবার আদর সব সব যেন কেড়ে নিল তার কাছ থেকে ভাবে নিস্পাপ ছোট্ট মনে।
একদিন রাতে লক্ষ্মী খাবার খেয়ে কলতলায় বাসন ধুতে ধুতে দেখে অন্ধকারে একটি বেড়ালের মায়াবী চোখে তাকিয়ে আছে। মা খুব বেড়াল ভাল বাসত।
তিনদিন ধরে মামী রাতে খাওয়ার সময় খেয়াল করে, লক্ষ্মী বাটির দুধটুকু লুকিয়ে কলতলায় চলে যায়।
একদিন লক্ষ্মী বেড়ালকে দুধ খাইয়ে পেছন ফিরতেই দেখে মামী দাঁড়িয়ে আছে। মামীর ভয়ে লক্ষ্মী বলে ওঠে মা বলত ওরা মা ষষ্ঠীর বাহন। এই ঠাকুরের দয়াতেই আমি লক্ষ্মী হয়ে মায়ের কোলে এসেছি।
পরদিন রাতে খেতে বসে লক্ষ্মী দেখে দুটো বাটিতে দুধ। 'এক বাটি তোর জন্য, আরেকটি যা দিয়ে আয়'
মামীমা দু হাত জোড়া করে কপালে রাখে। আর বিড়বিড় করে বলে, তুই আমার কোলের লক্ষী।

No comments:
Post a Comment