Tuesday, March 3, 2026


 

তোমার সন্ধানে

তন্ময় কবিরাজ 


বিভুবাবু অবসর নিয়েছেন। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার ছিলেন। এখন আর প্র্যাকটিস করেন না। পাড়ার মানুষজন এলে সাহায্য করেন। ভালো নামডাক ছিল। মানুষের কষ্ট দেখতে আর ভালো লাগে না। একমাত্র ছেলে বিদেশে থাকে। বউও গত মাসে গেছে ছেলের কাছে। ছ মাসের আগে ফিরবে না। বিভুবাবু একাই থাকেন। সকালে পাড়ার এক মহিলা এসে বাড়ির টুকিটাকি কাজকর্ম করে দিয়ে যান।বাকিটা সময় বই পরেই সময় কাটান। গ্রামের লাইব্রেরিতে বিভুবাবু নিয়মিত যান। খুব মন দিয়ে রবীন্দ্রনাথ সমগ্র পড়ছেন। কলেজে পড়ার সময় বিধানচন্দ্র রায়ের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। তাঁর কাছেই রবীন্দ্রনাথের অনেক গল্প শুনেছিলেন। কিন্তু সে ভাবে পড়া হয়নি বাবার ভয়ে। বিভুবাবা আর্মিতে কাজ করতেন। উঁচু গলায় সাবধান করে দিয়েছিলেন, "পড়াশোনা করছ তো মন দিয়ে পড়বে। ওই সব ফালতু কবিতা টবিতা পড়তে যাবে না।" এখন বাবাও নেই, আর সেই শাসনও নেই। নিজের মত করে রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে চান তিনি। গত সপ্তাহে উপন্যাসগুলো শেষ করলেন। কবিতা, গল্প আগেই শেষ হয়েছিল। প্রবন্ধটা সবে ধরেছেন। তবু যেন মনে হচ্ছে মানুষটাকে বোঝা যাচ্ছে না। একটার সঙ্গে একটা দ্বন্দ্বের জন্ম হচ্ছে। গভীরে গিয়ে রাস্তা হারিয়ে ফেলছেন বিভূবাবু। সমস্যার কথা একদিন লাইব্রেরীয়ানকে জানালেন, "রবীন্দ্রনাথকে কিছুতেই বুঝতে পারছি না। কিন্তু আমি তো মোটামুটি সবই পড়ে  ফেলেছি।" হাসলেন প্রবীণ লাইব্রেরীয়ান। বলেন, ``দাদা সূর্যের কাছে কি অত সহজে যাওয়া?গঙ্গার জল কি এক নদীতে বয়ে যায়? শুধু তাঁর জার্মান বিষয়ে জানতে হলে মার্টিন কেমচেনকে পড়তে হবে।" বুঝতে পারলেন বিভুবাবু। ঘাড় নাড়ালেন, "বুঝলাম দাদা। শুধু তাঁর লেখায় তিনি নেই। অনেকটা আমাদের প্রফেশনের মত। এমবিবিএস তো শুধু তো একটা ডিগ্রি। আসল খেলা তার পরেই শুরু হয়।প্র্যাকটিস!"



No comments:

Post a Comment