Tuesday, March 3, 2026


 

ঙের রাগ

কবিতা বণিক

অষ্টমঙ্গলায় পর্না বরের সাথে এসেছে বাপের বাড়ি। বড় মেয়ে তৃণা, বড় জামাই তুষার ও এসেছে। সব আত্মীয় স্বজনেরা আনন্দে মেতে উঠেছে। অষ্টমঙ্গলার অনুষ্ঠান শেষে খাওয়াদাওয়ার পর, পরের দিন রঙ খেলার সাবধানতার আলোচনা চলছে। বাড়ির কর্তা রঙ খেলা পছন্দ করেন না। সেই জন‍্যে বাড়িতেই বসন্ত উৎসব পালন হবে। প্রচুর ফুল আনা হয়েছে নিজেরা সাজবে আর স্টেজ সাজাবে। নাচে, গানে, কবিতায়, এক টুকরো শান্তিনিকেতনের আবহাওয়া তৈরি করার রিহার্সালও শুরু হয়ে গিয়েছে। পরদিন প্রত‍্যেকে যখন তৈরি, বাড়ির অনেকেই বসেছে দর্শক আসনে। স্টেজে উঠেছে নাচ, গানের দল। এমন সময় বড় জামাই তুষার পেতলের বড় পিচকারী ভরে লাল রঙে সবাইকে রাঙিয়ে দিল। এখনকার দিনে ঐ দৃশ‍্যটা যেন এ.কে. 47. চালানোর মত। রাগে ফেটে পড়লেন কর্তা। বড় জামাইকে তুলোধোনা করছেন। গিন্নীমা, কিছুতেই সামাল দিতে পারছেন না। হঠাৎই কেউ বলে উঠল “যাঃ রঙ তো নেই! গায়েব?” ততক্ষণে বড় মেয়ে, জামাইকে নিয়ে ঘরে খিল দিয়েছে। গিন্নিমা একচোট নিলেন ওটা ভ‍্যানিশিং রঙ ছিল। তবে জামাইয়ের চেয়েও মেয়েকে মানাতে খুব বেগ পেতে হয়েছিল বাবার। রঙের রাগ তো উড়ে গেল। কিন্তু রাগের এই রঙ ভ‍্যানিস করতে পারলেন না মেয়ের বাবা। শেষে মেয়ের প্রতিজ্ঞা- কোন উৎসবে সে আর থাকবে না।

No comments:

Post a Comment