মধু নাম
অর্পিতা গুহ মজুমদার
করোনা কালের শেষ দিকে দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর পর শৈশবকালের বন্ধু সুমনকে খুঁজে পেয়েছে ঝিনুক। সুমনই প্রথম ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়।প্রথমে ঝিনুক ঠিক চিনতে না পারলেও পারসোনাল ডিটেইলস এ গিয়ে আশির দশকের সেই ছোট্ট মফস্বল শহরে প্রাইমারী স্কুলে একসাথে পড়া সুমনকে চিনতে পেরেই তৎক্ষনাৎ অ্যাকসেপ্ট করে। সেও তো কতই না খুঁজেছে সুমনকে কিন্তু টাইটেল দেবের পরিবর্তে দে লিখে সার্চ করতো। উচ্ছ্বসিত সুমন ও ঝিনুকের মধ্যে মেসেঞ্জারে চলে " পুরনো সেই দিনের কথা " এবং প্রায়ই ফোনালাপ।
ঝিনুকের মনে পরে দুজনেই গল্পের বইয়ের পোকা ছিল, বই আদান -প্রদান চলতেই থাকত।তখন ক্লাস ফোর কি ফাইভ সুমন একবার 'অরণ্যদেব ' কমিকসের বইটা ফেরত দেবার সময় বলেছিল, " জানিস, তোকে না আমার একদম ডায়ানার মতো লাগে।" খুব লজ্জা পেয়ে সুমনের হাত থেকে বই নিয়েই ঘরে দে ছুট। বলা হলো না ডাকাবুকো সুমনকে "তোকেও না আমার অনেক সময় অরণ্যদেব মনে হয়।" এরপর ক্লাস সিক্সে উঠতেই সুমনের ব্যাংক চাকুরে বাবার বদলি হয়ে অন্য এক দূরের শহরে পোস্টিং এবং দীর্ঘ এত বছর সুমনের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
সেদিন ফোনে এটা সেটা কথার মাঝে ঝিনুক বলে, "সুমন গতকাল তুই মেয়ের সাথে যে ছবিটা পোস্ট করেছিস খুব সুন্দর। তোর মেয়ের নাম কী রেখেছিস রে?" হঠাৎ যেন থমকে যায় সুমন। কিছু মুহূর্তের নীরবতা ভেঙ্গে সুমন উত্তর দেয়, " ওর নাম ঝিনুক।"
ফোনের এ প্রান্তেও মুহূর্ত থমকে যায়। দীর্ঘকালের অবরুদ্ধ কোন দখিনা বাতাস যেন ঢেউয়ের অনুরণন তোলে ঝিনুকের বুকের মধ্যে।নিজেকে সামলে ঝিনুক বলে, "আজ রাখি।"

No comments:
Post a Comment