Thursday, April 3, 2025


 

জোৎস্না 
শাশ্বত ভট্টাচার্য 

১. 

জোৎস্না তুমি আমাকে ভালোবাসোনা.
কেনো?
আমি রোদে দাঁড়িয়ে থাকি..
২.
রোদ 
তুমি চশমা পড়া ছেড়ে দাও
তোমাকে কালো দেখায়।
৩.
পূর্ণিমা তুই অনেক ফর্সা
অমাবস্যা কে আমরা আলিঙ্গন করি,
অন্ধকারে বেশি প্রেম হয়।।


 

পুতুলনাচের বাকিকথা
       তন্ময় ধর 


সুতোর এক অদৃশ্য টানে 
       পুতুলটি উধাও হল আমার সামনে 
নেভানো অডিটোরিয়ামের হাওয়া 
      ভেদ করল আমার দেহবোধ
 
দর্শকাসনের সর্বকনিষ্ঠ ছারপোকাটি 
     আমায় কামড়ে দিল 

আমার রক্তের নির্মমতা 
    প্রশ্নের বাইরে নিয়ে গিয়ে 
       সাজ আর সংলাপ বদলে দিল 

তারপর

তারপর বহুদূর শোকেসের ভেত‍র ঘুমিয়ে
   কথা না-বলতে শিখলাম  

আরো দূরে কোথাও একটি ঘোষণা শেষ হল।।


 

ব্যারিকেড
নাহিদ সরদার

এক কলম পেরুলেই মান্নানের দোকান ছিল ;
সেখানে কাফিনে মোড়ানো ফুল পাওয়া যায়।
মৃতের শরীরে রাখা ফুলগুলো 
আহত হয় দেয়ালে লেগে,
যে-পথে লাশ নিয়ে বাড়ি ফেরে স্বজনেরা
সেই পথে পুলিশের ব্যারিকেড।

অথচ এই পথে আমার প্রিয়সীর হাত ধরে হাঁটব বলে কত রক্ত দিয়েছিলাম।


 

ও সীমান্ত 

বর্ণজিৎ বর্মণ 


ভবিষ্যতের কোন সীমানা নেই
 ভাবনার কোন শেষ নেই

 তোমার আশ্চর্য অঙ্কনের হাত

 তুমি উড়ন্ত পাখির পালকে আঁকতে চাইছো মানুষ 

জান- তোমার এরকম পাগলামো দেখে 
আমার খুব রাগ হয় 

আমার খুব আনন্দ হয় 

কেননা মানুষ যদি আকাশ ছোঁয়ার ভাবনা না ভাবে 

তাহলে মানুষ কিভাবে পাখি হবে

 তোমার ইচ্ছার গতিতে 
আমি স্বপ্নের বীজ বুনি 
ভাঙ্গা ব্রিজের টুকরোগুলো রেখে দেই যত্নে
যতই অন্ধকার হোক 
শব্দের তো একটা আলো আছে। 

সে আলোতে আমরা মানুষ হবো

 আমরা পাখি হব আগামী ভবিষ্যতে


 

রূপকথার পরী

জয়তী ব্যানার্জী 


কেউ কি একা থাকতে চায় ?
তবু যেন কখনো কখনো 
          ভিটের মধ্যেও একা লাগে ;
কাছে থেকেও কেউ 
   থাকে না যে পাশে !
ঠিক এমনি ভাবেই 
    একদিন পাড়ি দেয় 
     অবলা এক নারী ।

হ্যাঁ অবলা ____
      কেউ কি বলে সে কথা ?
     কেন বলবে না গো ?
      নারী তো অবলা ই,
তার তো সবেতেই বাধা -
            হাসতে মানা ,
             গাইতে মানা ,
               পড়তে মানা ,
                  যেতে মানা 
আর যে মানা প্রাণ খোলা হাসিতে ।
স্বপ্ন দেখাতেও তো তার নেই অধিকার ।
সে যে মাতৃগর্ভ থেকে বেরিয়েই 
   ললনা নামে ক'রে আত্মপ্রকাশ ।

তারপর, তারপর ভেলা দেয় ভাসিয়ে __
যে ভেলায় বেহুলা নিয়ে চলে 
তার সতীত্ব কে।

কিন্তু সব কিছুই তো পাল্টে যায়। 
উল্টে দেখো পাল্টে গিয়েছের মতোই, এক অচেনা অজানা রাতে তুমি চিনিয়ে দিলে 
রাধার পর বাড়া আর বাড়ার পর রাঁধা ই শুধু নয়;

সে জানে কিভাবে স্বপ্ন দেখতে হয় !
আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হয়।

যে দেশে তিলোত্তমা অভয়ার জন্য মোমবাতি মিছিলে 
হই আমরা শামিল ,
এই দেশে র জিনকে কুক্ষিগত করে 
স্বপ্নের ডানায় ভেসে বেড়ায় কঙ্কাবতী। 

সফর শেষে স্বপ্নের ডানায় ভর দিয়ে ,
বলে হাসি মুখে _
"মহাকাশকে বড় করব যে মিস"!

তখনই যেন মনে পড়ে যায় ,
সার্থক জনম আমার 
     জন্মেছি এই দেশে।


সূর্যের দেশ ভারত বর্ষ ।
    যে দেশে দ্রৌপদী পেরেছে
     পৌরষত্বকে ধ্বংস করতে, 
    সীতা তার সতীত্বকে রক্ষা করতে আপোষ করেনি ,
     আবার তিলোত্তমা পেরেছে 
আপামর জনসাধারণকে 
দুঃশাসনের বেড়াজাল দেখিয়ে দিতে ।

আর তুমি ,
তুমি দেখিয়েছো 
যে বয়সে ঘরে বসে 
      কাটাকুটি খেলার সময় ;
সেখানে তুমি 
নয় নয়টা মাস তোমার নিজস্ব পরিসর, সেই গহ্বর---- মাতৃগর্ভের থেকে বেরিয়ে এসে দেখিয়ে দিলে ,
      দ্বিজ শুধু পুরুষরাই হয় না ;
হতে পারে 
     রূপকথার পরীরাও।।


 

নইলে বাঁচবে না
শ্যামল বিশ্বাস লামশ্যা


 
সম্পর্কটি ফুরিয়ে যাওয়ার আগে অন্তত একবার এসো
সব ভুলে ভুলগুলো নিয়ে কথা বলে ভুল শুধরাতে চাই
ভয় হয় চোখের জলে ঝাপসা হয়ে না যায় স্বপ্নগুলো
নিষ্পাপ সরল শিশুর মত অবুঝ হৃদয়টাকে কে বুঝাবে
তোমাকে পাওয়ার আশায় দিন রাত যার একই বায়না
কেউ জানেনা সময় ঋতু আবহাওয়া কখন বদলে যাবে।


 

দৃশ্য বদল

প্রতিভা পাল 


মেঘলা বিকেল-ব্যালকনি, বৃষ্টির কথকতা

আনত চাহনির ছিঁটেফোঁটা রোদ 

গোধূলি ছোঁয় হঠাৎ যেন !

চৈতী হাওয়ায় চিরুনি তল্লাশি, প্রশ্ন সাজে

নিখোঁজ মনের খোঁজে, 

বিষণ্ণ-সন্ধ্যা নামে রাতের সুরে 

স্লেট রঙা আকাশের গায়ে। 



সবুজ তখনও আবছা রঙিন, মেঘের কাজল চোখ

খামখেয়ালি ডানার ভিড়, ফেরার পিছুটানে  

বজ্রকঠিন শব্দ ঘিরে নির্নিমেষ রাতের অবয়ব। 


আঁধারের ঘোমটা ঢেকে সময় বৃদ্ধ হলে

চিলেকোঠায় জমে ঋতু ঋণ,

ঠিক যেমন এক-একটি তারিখের শেষে 

যাপন আগলে রাখে স্মৃতির যাবতীয় ! 


আর্দ্রতা সমস্ত শুষে সকাল সূর্য-প্রখর আবার,

শূন্য ক্যানভাসে নতুন দিনের কানাঘুষো।

বৈশাখী-সুর শোনা যায় অদূরে কোথাও !

আদুরে বিকেল রঙে ক্লান্তি ওড়ায় ব্যস্ত শহর !


আমি ভালবাসা মাপি প্রতিটি দৃশ্য বদলে,

আমি মিলেমিশে যাই প্রকৃতির অন্তরালে….. 


 

অর্ধসত্য

মাথুর দাস


মিথ্যার থেকে সত্য খারাপ

হয় যদি-ই তা অর্ধ ।

অর্ধসত্য সর্ব ক্ষেত্রেই

ক্ষতি করায় সমর্থ ॥


মিথ্যা তবু যায় তো ধরা

কখনো কোন ধাপে ।

অর্ধসত্য নিশ্চিতভাবে

দিকভ্রান্তি-ই মাপে ॥



 

   ক্ষত 
  অভিজিৎ সেন 

দৃশ্যে দৃশ্যান্তরে, মৃত শাবকের মতো বেঁচে থাকে ক্ষত 
ডানার ঝাঁপটায় সময়ের মৃত্যু নেমে এলে 
পশুদের পায়ে ভর দিয়ে মানুষেরা যায় হেঁটে 
নীরব শব্দেরা গড়িয়ে চলেছে সময়ের টানে 
মাটির মায়ায় মিশে যেতে হয় মাটিতেই 
পরিযায়ী উদ্বাস্তু আবারও ফিরে যায়, যাযাবর জীবনে....

তবু একটি পাখি উড়ে এলো 
সাঁঝ নিকষ আঁধার চিড়ে
ঠোঁটে এক টুকরো সোনালী খড়কুটো....

সময় গড়িয়ে যাবে...
ক্ষতও মিলিয়ে যাবে...
শুধু দাগ, স্মৃতির আবর্তে যাবে ঘুরে...


 

চ্যালেঞ্জিং নারী

বেলা দে 


বয়স যে একটা সংখ্যা মাত্র
তুমিই প্রমাণ করলে
আবার নারী, 
আকাশ জমিন এক করে
বুঝিয়ে দিলে --
চেষ্টা আর ইচ্ছেশক্তির জোর থাকলে
দুর্মর পরিকল্পনাও সফল হয়,
নীরব নির্জন বিপদজনক হাওয়ায় 
ধ্বজা উড়িয়ে বিজ্ঞানের জয়।
অসমসাহসী বীরাঙ্গনার অভিযান, 
স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকার, 
যুগ যুগান্তর ধরে রাখবে
অম্লান ইতিহাস, 
প্রজ্ঞাসমৃদ্ধ হবে চরাচর। 


 

অন্তর্কথন

উৎপলেন্দু পাল 


আমার বেঁকে যাওয়া মেরুদন্ডের শাখায় 
নাম গোত্রহীণ পরিযায়ী পাখিদের ভিড় 
ফলবতী গাছটার নুয়ে পড়া ডালগুলোয় 
এখন পাতা ঝরার বার্ষিক উৎসব চলছে 
মনের প্রান্তরের ঘাসগুলো শুকিয়ে গিয়ে 
রোজ মরুভূমির সাথে মিশে যাবার পণ 
তবুও কখনো কখনো আকাশপারে দেখি 
হাসি মাখা এক চিলতে সোনালী রোদ্দুর 
আবারও নতুন করে বসন্ত দেখবো বলে 
হেলে পড়া দেয়াল আঁকড়ে দাঁড়িয়ে আছি । 


 

আটপৌরে বসন্ত
শ্রাবণী সেনগুপ্ত 

বসন্তকে দেখতে সবাই
ছুটছিল ছুট‌্ পায়ে
হঠাৎ করে কুর্চি এসে
হাত ছোঁয়ালো গায়ে
ঘেঁটু ফুলও পাশটি নিল 
ছুট্ দুটি পা থমকে গেল।
ফাগুন যখন আশেপাশে
শ্রান্ত কেন সুদূর আশে !
আটপৌরে রঙের সুবাস
শরীর মনে বসন্ত বাস,
উঠুক নেচে পূর্ণিমা রাস 
ছোট্ট খুশি পাওয়ার বিলাস।


 

যুদ্ধ তো থেমে গেছে বহুদিন
তু হি ন  কু মা র  চ ন্দ 

যারা রক্ত ছিটিয়ে গেছে এতদিন,তারা আজ মৃত্যু ভয়ে ঘরে বন্দী হয়ে আছে।
চারপাশে ছিটানো তাস,রক্তমাখা ক্ষুধার্ত ছোরার পাশে পড়ে আছে পচা গলা লাশ।
লেখা নেই লাশটার গায়ে সেটা হিন্দু না মুসলমানের।

কুকুরের হাঁটা চলায় রক্ত সোঁকা সর্বভুক মাছির মিছিল, 
দেশ ছাড়ার সময় অতনু পাকরাশি বলেছিল সব দেশ সমান,গোবরের এপিঠ আর ওপিঠ। 

বাতাসের শনশন শব্দ বদলে গেছে,
এখন সে শব্দ গোপন আলাপের আয়োজনে লাগে।
মিতাদের পুকুর পাড়ের লটকার গাছটায় বসন্তবৌরি ডেকে যেত সারাদিন ধরে। 
এখনো কি ডাকে সেই পাখি মিতাদের গাছে?
এখনো কি পুকুরের একপাশে বসে কাঁদে কাদেরের মা!

যুদ্ধ তো থেমে গেছে বহুদিন আগে,
এখনো কি ফতেমার সাথে -
ভাব আছে গোপাল গায়েনের? 
বুড়িগঙ্গায় বয়ে যায় লজ্জার ইতিহাস,
যারা রক্ত ছিটিয়ে গেছে সারাদিন,
তারা আজ মৃত্যু ভয়ে ঘরে বন্দী হয়ে আছে।
তারা আজ মৃত্যু ভয়ে ঘরে বন্দী হয়ে আছে।


 

তখন অতিথি 
সুপ্রভাত মেট্যা 


চল ছিল, দুয়ারে দাঁড়ালে কেউ
বসতে দিও জল ও বাতাসা দিয়ে।
একটা তালপাতার পাখা এগিয়ে দিও।
কথা বিনিময় করো, হালকা হাওয়ায়।
দুপুর ঘনিয়ে এলে, ভাত না খাইয়ে 
ফিরিয়ে দেওয়া কি ঠিক হবে?
অতিথি মানে তো নির্ভর সম্পূর্ণতায় 
তোমাকে-ই চাই? তাই না?
কথা ও কণ্ঠে ঝড়ো আওয়াজ তুলবে সবাই।
দেওয়াল কাঁপিয়ে ছেলেমেয়েরা ছুটে আসবে।
আজ আমাদের উৎসব, 
উৎসব আমাদের আজ, বলে, মনে হবে সবার।

সেসব তো নেই-ই; উল্টে এখন
পেটের আগুনে,
যৌবন সেঁকতে সেঁকতে যখন একটি মেয়ে,
জল শুকিয়ে নুন ফুটে ওঠা বুকে দাঁড়ায়, শান্ত দুয়ারে,
আমরা তাকে রাত্রির কথা বলি।
পুঁথিগন্ধময় জ্ঞানী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাই।
আমরা ক'জন তখন 
অতি সন্তর্পনে ফিসফিসিয়ে কথা বলি, 
গুচ্ছ, এখানে-ওখানে!


 

মনের পাসপোর্ট

মোঃ আব্দুল রহমান 

অনুভূতির রঙ অচেনাই রয়েছে
স্পর্শের ঘ্রাণ এখনো তালাবন্দী
বিরহ আর আবেগে চির ভাটা পড়েছে
ভিসা নিয়েছিলাম আজীবন একসাথে রব
ভালোবাসায় গাঁথা হবে ফুলশয্যা
স্বপ্নেরা সাজাবে রঙিন গোলাপ
ইচ্ছেরা ডানা মেলবে যৌবনের সাগরে
সবটাই বৃথা --- মনের পাসপোর্ট মেলেনি
যদি একবার খোলা যেত হৃদয়
পাসওয়ার্ড দুটি মনের যদি একই হত
এ ফাগুনে আগুন জ্বলত না বুকে ---
দেহেও দাবানল নয় --- এ যেন নিষিদ্ধ পাসপোর্ট!




 

রঙের আগুন 

প্রাণেশ পাল 


দিগন্তের ওই দূর সীমানায়
মন ভেসে যায় কোন মোহনায়,
ফুলের মাঝে রঙের আগুন 
হৃদয় মাঝে লাগল ফাগুন।

আকাশ জুড়ে শিমুল, পলাশ, 
বইছে মনে রঙিন বাতাস, 
ডাকছে কোকিল উদাস দুপুর, 
সুর তোলে ওই বাসন্ত নূপুর।

রঙের মাঝে রঙের খেলা
আবীর খেলায় কাটবে বেলা,
দিগন্ত জুড়ে খুশির ছোঁয়া,
বইছে প্রেমের ফাগুন হাওয়া।

বসন্তের এই পাতাঝরা
হৃদয় থাকুক প্রেমে ভরা,
ফাগুনের-ই মাতাল হাওয়া
হৃদয় মাঝে হারিয়ে যাওয়া।


 

সুখের খোঁজে

অর্পিতা মুখার্জী 


হারিয়ে যাওয়া সরল অতীতের দিন
আর খুঁজে পাওয়া যায় না,
অনভ‍্যস্ত জটিলতায় ভরা
নির্মম বাস্তবের আয়না।
চলার পথটাও একটা গন্ত‍ব‍্য খোঁজে
আলো নিভে আসা শেষবেলায়,
আশ্রয় পাওয়ার সুখে পথ এটুকুও ভোলে-
গন্তব‍‍্যে পৌঁছালে তার নিজের অস্তিত্ব ফুরায়।
দুঃখ গুলো গিলতে পারলে
সুখের নাকি হদিশ মেলে,
কবিতারা বোধহয় জন্মায় তাই
চোখের জলের সুখমহলে।
আজীবন সুখ খুঁজতে গিয়ে 
দুঃখরা কখন হয়ে ওঠে আপন,
শুধু এগিয়ে চলার বাস্তব যুগে...
প্রিয় স্মৃতির সাথেই সুখের উদযাপন।


 

আমার বাড়ির পেছনের এক প্রিয় কোণে

দীপাঞ্জন দত্ত


আমার বাড়ির পেছনের এক প্রিয় কোণ-
সেখানে ঈশ্বর বসে থাকে, পাশে ভাঙ্গা চাঁদ।
আমি চুপটি করে দেখি।

অনুযোগে তাঁকে বলি-

কি দিয়েছো আমায়, যে দাম্ভিক হবো?
মাটি আঁকড়ে থেকে যা পেয়েছি
আকন্ঠ ভরে নিয়েছি। আমি তৃষ্ণার্ত। 

কিঞ্চিত মনস্তাপের গভীরতা মাপি।
আলুথালু কাপড়ে আমি একা থাকি। 

আমার বাড়ির পেছনের এক প্রিয় কোণে-
আমার ঈশ্বর বসে থাকে। 

- এবং আমায় দেখে।


 

জ্বর

সুনন্দ মন্ডল


শৈবালের গায়ে জ্বর এসেছে

জলের কোলে বোঁটা।

শরীর জুড়ে কাঁপন দেখ 

বৃন্তে শীতলতা।


কাকেরও দেখি জ্বর হয়েছে

ঘুম ভাঙে নি আজ।

সকাল ছুঁয়ে প্রচন্ড রোদ 

দেখায় নিজের সাজ।


 

জীবনের  সৌন্দর্য 
পাঞ্চালী  দে  চক্রবর্তী

বিগত  বছরের  মনঃকষ্টগুলোকে  
আবর্জনার  পাত্রে  ভরে  নদীতে  ফেলে  দিয়ে  আসলাম।  
ভাবলাম  — “বাঁচা   গেল”!
বাঁচা   কি  সত্যিই  গেল?
ভাবনাটাই  কি  শুধু  সার  নয়?
আসলে  দুঃখ,যন্ত্রণা ,মনঃকষ্টরা  রক্তবীজের  মতো।  
কিছুতেই  জীবন  থেকে  বিদায়  হতে  চায়  না। 
কোনো  না  কোনো  ভাবে  ওদের  সাথে  ঠিক  দেখা  হয়ে  যায়।  
আসলে  ওরা  আছে  বলেই  জীবনে  লড়াই  আছে । 
আর  জীবনে  লড়াই   আছে  বলেই 
জীবন  এতো  সুন্দর । 


 

বসন্তের ডাক 
 চন্দ্রানী চৌধুরী

ফাল্গুনের এক শেষ বিকেলে 
কোমল এক পশলা বৃষ্টি 
ধূলি ধূসরিত গাছের পাতাগুলোকে 
স্নান করিয়ে দিয়ে গেলো
অসময়ের ঝোড়ো বৃষ্টিতে 
কাক ও স্নান সেরে নিল আনন্দে
ঝরে যাওয়া কৃষ্ণচূড়ার মাদুর ঐ রাস্তায়
বসন্তের বৃষ্টিতে ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধে 
মন আনচান করে উঠল
সূর্যের আধো আলোর রশ্মি ছুঁয়ে থাকতে ইচ্ছে করে
গাছতলা দিয়ে একাকী পায়চারী করি
কাঠগোলাপ ম ম গন্ধে আমাকে অবশ করে দেয়  
বুকের গহীনে টুপটাপ আওয়াজ
কে যেন মিহি সুরে ডাক দিয়ে যায়
চকিত চাহনি খুঁজে খুঁজে হয়রান...


 

তিনটি কবিতা 

পাপড়ি দাস সরকার


সময় চিত্র


পুরোনো দলিল ঘেঁটে সে বলল কবেই তো বলা হয়ে গেছে

আমরা যা বলেছি এতকাল সেকি শুধু নদীতে ডাঙ্গা ফেলে দেওয়ার জন্য
আর রাস্তা উড়ে যাবে শহর আকাশে
নাকি সাদা কাগজে অজশ্র লিখে পায়রা নির্মাণ হবে শুধু

ইহা সম্ভব




বীজমন্ত্র

ক্রমশ অযোগ্য হয়ে উঠি।
আবছায়া মোড়ে ধীরে ধীরে নিভে যায়
        প্রেম ও প্লাবন
আর কালো কালো খরষ্টি অক্ষর দিয়ে
         ধরে রাখি ব্যার্থতা আমার


বৃষ্টি নেমে এলে
আমার অক্ষর গুলি কখনো বীজ হবে
আর বিদর্ভের শান্ত নীল মর্মরিত ভোরে
         মৃত্তিকার গর্ভ ছিঁড়ে
অঙ্কুরের কান্না শোনা যাবে...।




অন্তরাল

সিসিফাসের মত
বারবার পাথরটাকে গড়িয়ে তুলছি পাহাড়ের ওপর,
আর বারবার তা গড়িয়ে পড়ছে নীচে।
লোনা ঘাম লেগে
আমার চোখ দুটো জ্বলছে,
ক্লান্ত ঘোড়ার আহত নিঃশ্বাসে
জ্বলে যাচ্ছে অধরোষ্ঠ,
পুড়ে যাচ্ছে আমার জিহবা -আমার সমস্ত আর্ত জিজ্ঞাসা
আমার ঘাড়ের রোয়া বেয়ে
চুইয়ে নামছে শ্বেদবিন্দু;
পাহাড়ের চড়াই রাস্তায় সর্পিল পাকদন্ডি বেয়ে
ফের ঠেলে তুলছি পাথরের গোলা,


এবার ঠিক পৌঁছে যাবো প্রার্থিত চূড়োয়।


 

দীর্ঘশ্বাস

মহঃ সানোয়ার 


অভিমান ভারি হলে ছায়াকে মাড়িয়ে যাবে,
মাটিকে আঁকড়ে থাকা ফ্যাকাসে রোদ্দুর তা জানে।

বুকের ভিতর পুড়ে যাওয়া ইতিহাসও জানে,
অতীত নিয়ে ডুবে থেকে লাভ নেই কোন ।

শুধু শরীর ছাপিয়ে ওঠা দীর্ঘশ্বাস জানেনা
মাঝ রাতে ভেঙ্গে যাওয়া স্বপ্নের শেষটা কেমন হতো!

হয়তো অগুনতি মানুষের ভিড়ে
হঠাৎই একদিন দেখা হবে কোন ব্যস্ত স্টেশনে 
কালো হয়ে নেমে আসা সন্ধ্যার আগে।

কিছু না বলেও অনেক কিছু বলে যাবে
স্তব্ধ বাতাস,
স্থির ল্যামপোষ্ট,
চলতি ট্রেন আর
চোখের উপরে উড়ে আসা চুলগুলো।


 

আহত কোকিল 
  তপন মাইতি

কন্ঠস্বরে জাদু আছে লাজুক রাঙা নত 
ভরদুপুরে চৈতী গাছে কোকিলা আহত।
কাকের বাসায় গেল উড়ে নেবে একটু সুযোগ
কাক ঝাড়ুদার বাসায় ঘুরে নামল ভীষণ দুর্যোগ।
মনে মনে দুষ্ট অতি ধরা পড়লে নত
ডিমটা পেড়ে করবে ক্ষতি অলস ঢাকার ক্ষত।
বুকের ভেতর হিম্মত ছিল শিমুল পলাশ পথে 
এই বসন্তে কেড়ে নিল নিজের বাচ্চা হতে।
নাটক করে পরিপাটি ধরতে পারে কা কা 
কাক প্রেমিকার হল মাটি বাসা এখন খাঁ খাঁ!
কাকতাড়ুয়া প্রেমিক মনে চৈতী মুগের ফুলে
ভালবাসা পুড়ছে বনে নিজের একটু ভুলে।
জ্যোৎস্না রাতে মায়ার চোখে হাতফস্কে অন্ধকার
ভাঙা মনে বিচ্ছেদ রোখে?চৈত্রে সব বন্ধদার।


 

একটি কাল্পনিক চরিত্র আর একটি বাস্তবিক জিজ্ঞাসা
সৌরভ দত্ত

কথায় বলে না 'শান্তির ঘুম'!

সদ্য প্রাপ্ত কোনো শান্তি যখন মনকে আহ্লাদিত করে

আমার না, রাতে বিছানায় শুয়ে কিছুতেই ঘুম আসে না।
রাত গড়িয়ে ঘুম আসার সময় প্রায় পেরিয়ে যায়।
শিল্পনগরী থেকে শিলিগুড়িগামী নাইট সুপার বাসগুলো
হয়তো বোলপুর রামপুরহাটের যানজটময় চৌহদ্দি পেরিয়ে
গভীর রাতে ঐ সেই ওমরপুর পৌঁছে
ঠান্ডা মোটা চালের ভাত, সাথে নেতিয়ে পড়া কাঁচা পেঁয়াজ,
অতি হলুদের ডালের জল, তরকারি কোনো,
চিকন মাছের পিস আর তার ট্যালটেলে ঝোলে
যাত্রী খদ্দেরদের লোকঠকানো নৈশভোজ খাইয়ে
নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা বিলম্বে লক্ষ্যে পৌঁছবে বলে
শেষরাত করে গঙ্গা পেরোনর তাগিদে ফারাক্কার পথ ধরে,
তবু ঘরের বিছানায় আমার কিছুতেই ঘুম আসে না।
আঁধার ঘরে আমি সুখের আলোকিত জগতে বাস করি
আর পরিতৃপ্তির বন্যায় নিজেকে‌ দিব্যি ভাসিয়ে দিয়ে
ডুব সাঁতারে চলতে চলতে অলীক সুখে সময় কাটাই।
কী যে এক শান্তির বাতাবরণ শরীর ও মন জুড়ে চলে যে
বিস্মৃত হই কখন উপনীত হয়ে পড়েছি ভোরের দোরগোড়ায়।
অথচ, এই আমিই, এক গুচ্ছ চাপের মুখে যখন রীতিমতো
বিপর্যস্ত, ত্রস্ত, মানসিকভাবে অ-সুস্থ প্রায়,
এলোমেলো ঘুমিয়ে ভোর গড়িয়ে সকাল হলেও
চোখ মেলে চাপের পৃথিবীর দিকে তাকাতেই মন চায় না।
তখন অ-শান্তি থেকে বাঁচার ঠিকানাই যেন ঘুমের দেশ।
কেমন এক বৈপরীত্যের সমাহার না!
মেলে না আমার নিজের হিসেবগুলোঃ ঘুম নাকি অনিদ্রা!
শান্তি যদি কারণ হয়, বিনিদ্র রজনী তার ফল,
আর অ-শান্তি যদি কারণ হয়, ঘুমই তখন আশ্রয়।
... ... ...
কিন্তু তাহলে চির শান্তির জন্য না-ফেরার দেশের মানুষজন
চিরনিদ্রায় শায়িত হয় কেন?


 

ঈদের আহবান

নবী হোসেন নবীন


ঈদের এ নতুন চাঁদের আলো ঝলমল করে

পৌঁছে যাক সবার ঘরে ঘরে অন্তরে অন্তরে।

কোনো ঘর যেন ডুবে না যায় ক্ষুধার অন্ধকারে


কী হবে আমারে দাওয়াত করে?


কেউ যদি থেকে যায় অনাহারে।


তার চেয়ে সেই ভালো


যার ঘর হতে বাতাসে ভেসে আসেনি 


পোলাও এর ঘ্রাণ


তারেই করো আহবান


তোমার রকমারি খাবারে।


তোমার মাংস পোলাও এর ঘ্রাণ


কারো চোখে যেন না বহায় বেদনার বান


এই হউক এবারের ঈদের আহবান।