প্রজাতন্ত্র দিবস পালন হলেও বিপ্লবীরা যোগ্য সম্মান পায়নি আজও?
বটু কৃষ্ণ হালদার
জানুয়ারি মাস একদিকে ভারতবর্ষের কাছে অত্যন্ত গৌরবের কারণ এই মাসেই বাংলা মায়ের কোল উজ্জ্বল করে এসেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।যাঁরা শুধুমাত্র ভারত বর্ষ নয় সমগ্র বিশ্বজুড়ে আলোচিত। আবার অন্যদিকে এই জানুয়ারি মাস অত্যন্ত বিষাদের কারণ এই মাসেই বহু বিপ্লবীদের ফাঁসি হয়েছিল।
স্বাধীনতা লাভের পর ভারতে পালিত হয়ে আসছে প্রজাতন্ত্র দিবস।কিন্তু এই দেশের জনগণ কে যাঁরা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা প্রদান করে গেলেন তাঁরা কি যোগ্য সন্মান পেয়েছে?কারণ এই জানুয়ারি মাসেই বহু বিপ্লবীরা ফাঁসির মঞ্চে জীবনের জায়গায় গেয়েছেন।অনেক বিপ্লবীদের নিষ্ঠুর ভাবেই হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মহান বিপ্লবী মাস্টার দা সূর্য সেন ও তারকেশ্ব র দত্ত। এদের কি মনে রেখেছি আমরা?
স্বাধীন,গণতান্ত্রিক,ধর্মনিরপে ক্ষ ভারতে ২৬ শে জানুয়ারী দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিবস হিসাবে পালন করা হয়।দেশের রাষ্ট্রবাদী জনগণ হিসেবে এই দিন টি প্রত্যেক ভারত বাসীর পালন করা উচিত।এই দিন পালনের জন্য বিশেষ ভাবে প্রস্তুতি নেন সেনা বাহিনীর জোওয়ানরা।প্রতিটি ভারতবাসীর জন্যই ২৬ জানুয়ারি দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।কুচকাওয়াজ, বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।ভারতকে ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্ত করা কোনও সহজ কাজ ছিল না। দেশের বীর সন্তান, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ, বলিদানের ফসল স্বাধীনতা। ২৬ জানুয়ারি দিনটিকে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসাবে পালন করা হয়।এই দিন টি সম্পূর্ণ রূপে সংবিধান স্বীকৃত।
জেনে নেওয়া দরকার এই দিনটির গুরুত্ব কি?আমরা জানি ১৯৪৭ সালের আগে ভারত বর্ষ ছিল ব্রিটিশদের অধীনে।সমগ্র ভারত বাসী ছিল তাদের গোলাম। তবে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ব্রিটিশদের দোষ দিলে চলবে না। এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, মুষ্টিমেয় কিছু ব্রিটিশরা ব্যবসা করতে এসে কিভাবে সমগ্র ভারতবর্ষে প্রায় ২০০ বছর রাজত্ব করে গেল? ভুলে গেলে চলবে না সেই সময় একশ্রেণীর জনগণ শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে ব্রিটিশদের জামাই আদর করে ভারতবর্ষে শাসন ও শোষণ করতে সাহায্য করেছিল।অর্থ, সম্পদের সাথে সাথে রায় বাহাদুর খেতাব অর্জন করেছিল। তাঁরা চেয়েছিল ব্রিটিশরা রাজত্ব করুক, আমরা তো বেশ আছি পায়ের উপর পা তুলে।অন্যের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাওয়ার মজাটাই ছিল একেবারে ই অন্যরকম।সার্থকেন্দ্রিক কিছু মানুষের লোভ লালসা ভারতবর্ষের ভাগ্য লক্ষী অচিরেই অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল। আর দেশমাতার অপমান লাঞ্ছনা গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরেই অপর শ্রেণীর নিঃস্বার্থ সন্তানরা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে দেশকে স্বাধীন করার সংকল্প নিয়েছিল। স্বাধীনতা আনতে গিয়ে ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী,বাঘাযতীন,বিনয়,বাদল,দীনে শ,মাস্টারদা সূর্যসেনদের ফাঁসি কাঠে ঝুলতে হয়েছিল।কেউবা নির্দ্বিধায় ব্রিটিশদের হাতে নিজেদেরকে সমর্পণ করবে না বলে মুখে তুলে নিয়েছিলেন পটাশিয়াম সায়ানাইড।তরুণদের তাজা তাজা রক্তে দেশের মাটি লাল হয়ে উঠেছিল। জালিয়ান ওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড এর মত অমানবিক,বর্বর হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ফাঁসির নির্ধারিত সময়ের আগেই ভগৎ সিংদের ফাঁসি কাঠে ঝোলানো হয়েছিল। চন্দ্রশেখর আজাদদের মত বিপ্লবীদের ধরতে ব্রিটিশদের লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।তাদেরকে সন্ত্রাসবাদি উগ্রবাদী আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।বহু বিপ্লবী দ্বীপে নির্বাসিত হয়েছিলেন।আবার অনেকেই সুখ স্বাচ্ছন্দ ত্যাগ করে দেশ ছাড়া হয়েছিলেন। জেলে বন্দিদের প্রতি চলতো অকথ্য অত্যাচার।সবার ভাগ্যে গান্ধীজীর মত,জেলের মধ্যে দুটো কামরা বরাদ্দ থাকত না,দুধ,ফলমূল, ঘি দেওয়া হত না, বা জহরলাল নেহেরুর মত জেলে থেকে আগুনে ঝলসানো মাংস,বাটার রুটি দেওয়া হত না।ফলের জুসও জুটত না। বহু বিপ্লবীদের দিয়ে খাটনির কাজ করানো হতো, আর খাবার দেওয়া হতো খুবই নিম্নমানের, কখনো বা জুটত বাসি খাবার।
সাঁওতাল, সিপাহী, নীল,কৃষক বিদ্রোহ গুলোকে প্রতিহত করতে অকাতরে লাঠিচার্জ করতেন এমনকি কখনো কখনো নির্দ্বিধায় গুলি চালিয়েছেন।তাতে বহু আন্দোলনকারী মারা গিয়েছেন,আহত হয়েছেন। শুধুমাত্র পুরুষরা নন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন নারীরা। বাংলার প্রথম রাজবন্দী ননীবালা দেবী,প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বীণা দাস,মাতঙ্গিনী হাজরারা অকথ্য অত্যাচার সহ্য করেছেন।কেউবা গুলি খেয়েছেন।তাই স্বাধীনতা কিন্তু অহিংসা, সততা কিংবা চরকা কেটে আসেনি।স্বাধীনতা হল বহু বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ এর ফলাফল।
স্বাধীনতা লাভের পর,ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ নাম হল সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র ভারত।ভারতে সাধারণতন্ত্র দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয় ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি ভারত শাসনের জন্য ১৯৩৫ সালের ভারত সরকার আইনের পরিবর্তে ভারতীয় সংবিধান কার্যকরী হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করে।এটি ভারতের একটি জাতীয় দিবস।১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় গণপরিষদ সংবিধান কার্যকরী হলে ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।২৬ জানুয়ারি দিনটিকে মহাত্মা গান্ধী নাম দিয়েছিলেন, 'স্বতন্ত্রতা সংকল্প দিবস'। ১৯২৯ সালের বছর শেষে জহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে পূর্ণ স্বরাজ আনার শপথ নেওয়া হয়। এরপরেই ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি দিনটিকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।পরে ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে ভারত এবং ওই দিনটি স্বাধীনতা দিবসের মর্যাদা পায়।স্বাধীনতা দিবসের প্রায় আড়াই বছর পর তৈরি হয়েছিল দেশের সংবিধান। ১৯৪৭ সালে ড. বি আর আম্বেডকরের নেতৃত্বে গঠিত হয় খসড়া কমিটি। ১৯৪৭ সালে ৪ নভেম্বর ড: বি আর আম্বেদকরের নেতৃত্বাধীন খসড়া কমিটি প্রথম ভারতীয় সংবিধানের খসড়া জমা দিয়েছিল। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়। এই সূত্র ধরেই ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
দেশের এক শ্রেণীর নিঃস্বার্থ সন্তানরা নিজেদের জীবন দিয়ে ভারতবর্ষের ভাগ্যলিপি রচনা করেছিলেন।অথচ স্বাধীনতা লাভের পর বহু বিপ্লবীরা যথাযথ মর্যাদা পায় এই ভারতবর্ষে। বর্তমানে চোরেদের নাম ইতিহাসের পাতায় উঠলেও,বহু বিপ্লবীদের আত্মকাহিনী ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়নি।তৎকালীন কিছু রাজনৈতিক নেতাদের আঙ্গুলি হেলনে বহু বিপ্লবীদের নাম ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পরে দেশের সরকার বিপ্লবীদের খোঁজখবর নেননি,পায় নি,ন্যূনতম সরকারি ভাতা। কেউবা হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন কেউবা ভিক্ষা করতে করতে অনেক অভিমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। যে দেশে নেতাজিদের মতো মহান দেশপ্রেমিকরা স্বাধীনতা আনতে গিয়ে জীবনের অমূল্য সময় নষ্ট করেছেন,সেই দেশে বিপ্লবীদের মর্যাদা না দেওয়া হলেও বহিরাগত রোহিঙ্গা,সন্ত্রাসবাদিদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।রাজ্যের লাগাম উঠছে অযোগ্য নেতাদের হাতে।
যার কারণে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে অন্য দেশের পতাকা লাগিয়ে ভারত মূর্দাবাদ স্লোগান দেয়।এর থেকে চরম লজ্জার বোধ হয় আর কিছুই নয়।যাঁরা স্বপ্ন দেখতেন:_ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা,অথচ মৃত্যুর পরে এই দেশের মাটিতে তাদের ঠাঁই হয়নি।ইতিহাসের পাতায় বহু বিপ্লবীদের বিজয় গাঁথা স্থান পায় নি,বিপ্লবীরা ভিক্ষা করেছেন সেই দেশে কোটি টাকা খরচ করে প্রজাতন্ত্র দিবস পালন উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইতিহাস হল মানব সভ্যতার কাছে জীবন্ত দলিল।প্রাচীন ইতিহাস বলছে ভারত বর্ষ ছিল প্রাচুর্য্য, ঐশ্বর্য,অর্থ, ধন সম্পদ খনিজ সম্পদ, কৃষিজ সম্প দে পরিপূর্ন এক উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় দেশ। এই দেশের ধন-সম্পদের লোভে একে একে বিভিন্ন বৈদেশিকশক্তির আগমন ঘটেছে।৭১২ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম বর্বর আরব দের আগমন ঘটেছিল। শুরু হয়েছিল লুটপাটের খেলা।সেই সংবাদ কানে কানে পৌঁছে যায় বহু দেশের লুটেরাদের কানে। এরপর একে একে শক,হুন, পাঠান,মুঘল,তুর্কি,তুঘলঘ, খলজি সহ বিভিন্ন ডাকাত দল ভারতবর্ষের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে লুটপাট করেছিল দেশের অর্থ সম্পদ। শুধু তাই নয় ফরাসির ডাচ বণিকদের সঙ্গে সঙ্গে এ দেশে উপস্থিত হয় ইংরেজরা। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে থেকে শুরু করে প্রায় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এই ভারতবর্ষের অর্থ বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে মজবুত করেছিল। ভারতবর্ষের জিনিস ধন সম্পদে ভারতীয়দের অধিকার ছিল সেই সম্পদ ব্রিটিশদের সন্তানদের মুখে সোনার চামচ তুলে দিলো। আর এই ভারতের সন্তানরা জন্মগ্রহণ করছে মাথায় ঋণের বোঝা নিয়ে। এর দায় কি শুধুমাত্র বৈদেশিক শক্তিদের? ভারতবর্ষে কি তৎকালীন সময়ে কোন শক্তিশালী বংশধর ছিল না তা আটকানোর জন্য? নিশ্চয়ই ছিল কিন্তু তারা পারেনি শুধুমাত্র ভারতীয়দের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য। অথচ সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসে একজন মানুষ কলঙ্কিত চরিত্র অপবাদ নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে। তার নাম হলো মীরজাফর। অথচ এই ভারতবর্ষে হাজার হাজার মীরজাফর ছিল। ব্রিটিশের সময় বহু স্বার্থপর রাজনৈতিক চরিত্রের ব্যক্তিত্ব ছিলেন যারা শুধুমাত্র নিজেদের কথা এবং নিজেদের পরিবারের কথা ভাবতেন। তার কারণে ব্রিটিশদের জামাই আদর করে এই দেশে ধন সম্পদ লুটপাট করতে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছিলেন। তার বিনিময়ে সে সমস্ত রাজনৈতিক মির্জাফররা পেতেন অর্থ আর খেতাব। ভেবে দেখেছেন কেউ স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল দেশে ও বিশ্বাসঘাতক বনাম নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমীদের আত্ম বলিদান। তৎকালীন এক শ্রেণীর রাজনৈতিক মীরজাফরদের সহযোগিতা ও যোগ্য সঙ্গ না থাকলে কখনোই ব্রিটিশরা এ দেশে তাদের নোঙ্গর গা ড়তে পারতেন না। ভারতবর্ষকে স্বাধীন করতে লক্ষ লক্ষ দেশপ্রেমিক মৃত্যু কে স্বেচ্ছায় আত্মবরণ করেছিল তার একমাত্র কারণ ছিল দেশের মানুষ যাতে স্বাধীন মুক্ত সূর্য দেখতে পায়। দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ যাতে উজ্জ্বল হয়। অথচ স্বাধীনতার পরে আমরা দেশ সেবার নামে দেশীয় লুটেরাদের লুটপাটের খেলা চলছে স্বাধীনতার পরথেকে। সেই সঙ্গে দেখছি রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার।দেশীয় রাজনৈতিক নেতারা বংশ পরাক্রমে যুগের পর যুগ দেশের জনসম্পদ দুই হাত দিয়ে লুটছে। জনগণের টাকায় দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করছে সমস্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে আর ব্যাংকে বেড়ে চলেছে শূন্যের পর শূন্যের অংক। আর রাজনৈতিক ক্ষমতা অপব্যবহার করে দেশের আইন ব্যবস্থাকে পকেটে পড়ে সাহায্যে শেখের মত দাগি ক্রিমিনাল রা অপরাধ করেও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়।আর যারা ভোট দিয়ে ভাবেন এই বুঝি আমাদের ভাগ্যের আকাশে নতুন সূর্যের উদয় হবে তারা দেশের উন্নয়নের স্বার্থে হাড়হিম করা পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করেও কর পরিষেবা দিয়ে যান তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন আর দেশের ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়। রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য টাকা কোটি কোটি অপচয় করা হচ্ছে সেই সঙ্গে যথেচ্ছ সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন।তাদের সন্তান পরিবারের লোকজনেরা মহাসম্ভব ভোগ করেন। রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে অযোগ্য ব্যক্তিরা দখল করে নেয়। দেশের টাকায় চলছে মহাভুরিভোজ অথচ এই দেশ দিন দিন দারিদ্র্যের চরম সীমায় পৌঁছাচ্ছে। বেড়ে চলেছে শিশু নারীর শ্রমিকের সংখ্যা। লকডাউনের পর থেকে চরণে পৌঁছেছে কর্মহীনদের সংখ্যা।শিক্ষিত বেকার যুবকদের হাহাকার বেড়ে চলেছে। শিক্ষিত যুবকরা সঠিক কর্মের অভাবে মানসিক বিকার গ্রস্ত হয়ে পড়ছে।নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।দুর্নীতির পথ বেছে নিচ্ছে হাতে তুলে নিচ্ছে বন্দুক,অস্ত্র,বোমা,গুলি। বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে একশ্রীর রাজনৈতিক নেতারা তাদেরকে ঠেলে দিচ্ছে দুর্নীতির পথে। সস্তা তারে শিক্ষিত বেকারদের জীবন বিকিয়ে যাচ্ছে। আর যারা নিজেদের বিবেককে বিক্রি করতে চায় না তাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে।রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে চলছে জমি দখলদারি,উচ্ছেদ। সিন্ডিকেট ব্যবসা রমরমে চলছে। সে সমস্ত দখলদারি জমিতে বড় বড় বিল্ডিং ফ্ল্যাট বানিয়ে ব্যবসা চলছে। আর তাতে বেড়েই চলেছে ফুটপাত বাসি, নিরন্ন,আশ্রয়হীন,বিবস্ত্র মানুষের সংখ্যা। দেশের উলঙ্গ শিশুরা কনকনে ঠান্ডায় মাঝ রাতে চন্দ্র অভিযান সাফল্যের আলোতে নিজেদের শরীর গরম করতে চায়। ঠিক যেন গোপাল ভাঁড়ের তালগাছে র উপরে ভাতের হাড়ি বেঁধে নিচে আগুন জ্বালিয়ে ভাত রান্না করার গল্পের মত করুন দৃশ্য ধরা পড়ে। তিলোত্তমা কলকাতার,শিয়ালদা হাওড়া সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কনকনে ঠান্ডায় মাঝ রাতে গরম কাপড় জামা পরে হেঁটে পায়চারি করে দেখলেই দেশের চরম দুর্দশার মানচিত্রটা আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।ফুটপাত,ঝুপড়ি,বস্তি এলাকাগুলোতে লক্ষ লক্ষ বয়স্ক বৃদ্ধ বাবা মায়েরা ছোট ছোট শিশুরা অভুক্ত পেটে স্বাধীন খোলা আকাশের নিচে প্লাস্টিক গায়ে জড়িয়ে কীভাবে ঠান্ডায় কাঁপছে।কোটি কোটি টাকা অপচয় করে জি-টুয়েন্টি সম্মেলন,স্বাধীনতা, প্রজাতন্ত্র,দিবস পালনে মহা ভুরিভোজ হয় সেই দেশের অর্ধেকেরও বেশি জনগণ অনাহারে আধপেটা খেয়ে ওস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাত কাটায়। অথচ এসব নিয়ে যাদের ভাবার কথা তারা নিশ্চিন্তে ঘুমায় মহা অট্টালিকার আড়ম্বরে। এদেশে ছোট ছোট শিশুদের ভবিষ্যৎ চুরির সঙ্গে সঙ্গে তাদের মুখের অন্ন ও চুরি যায় এর থেকে লজ্জার কিছু হতে পারে? দেশের নেতা-মন্ত্রীরা সমস্ত চিন্তা ছেড়ে এতটা উঁচুতে তাদের বিবেক বসবাস করে যে তাতে কর্মহীন শিক্ষিত,বেকার,অনাহারে আধপেটা অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা বিকলাঙ্গ শিশুদের কান্না হাহাকার,চিৎকার, তাদের কানে পৌঁছায় না। আর এইসব দেখার জন্যই কি নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিকা রা অকাতরে তাঁদের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে স্বাধীনতা লাভের জন্য? এদেশে ভোট আসে,কালের নিয়মে পালাবদলের খেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেশের লাগাম হাতে নেয়।কোটি কোটি টাকা খরচ হয় রাজনৈতিক নির্বাচনে। তাতে একশ্রেণীর গুন্ডাবাজ খুনি দাগি আসামে অযোগ্য বর্বররা নেতা থেকে মন্ত্রী হয়। তাদের কোটি কোটি টাকা ব্যাংক ব্যালেন্স হয়। কুঁড়েঘর অট্টালিকায় পরিণত হয়। আর জীবন বলিদান দিতে হয় সাধারণ নিরীহ জনগণকে। সেই সমস্ত অযোগ্য নেতা-মন্ত্রী রা সাধারণ জনগণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে বলা ভালো তাদেরকে ঠকিয়ে নিজেদের সন্তানদের মুখে তুলে দেয় রাজভোগ,পোলাও,বিরিয়ানি দুধের গ্লাস। গুন্ডা মস্তান খুনি দাগে আসামিরা যখন নেতা মন্ত্রী হয়ে যায় তাদের সন্তানরা নামিদামি স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়।আর ভোট দাতাদের সন্তানরা নামমাত্র স্কুলেও পড়ার সুযোগ পায় না।
এক শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রীদের হায়নার থাবা থেকে বাঁচতে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে:_"হে ব্রিটিশ তোমরা ফিরে এসো/ পরাধীনতা আমার জন্মগত অধিকার/ এদেশের লাগাম আবার হাতে তুলে নাও"।
No comments:
Post a Comment