Sunday, February 1, 2026


 

মুক্তগদ্য 


বসন্তের শেষ প্রহর

আরাত্রিকা বন্দ্যেোপাধ্যায়
 
বসন্তের বিদায়বেলা সবসময়ই একটু বিষণ্ণ, অনেকটা প্রিয় বন্ধুর চলে যাওয়ার মতো। বসন্তের শেষ প্রহর মানেই এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ। একদিকে ঝরা পাতার বিদায়-সংগীত, অন্যদিকে বৈশাখের রুদ্ররূপের পদধ্বনি। গাছের তলায় তখন শুকনো পাতার স্তূপ, আর বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক দীর্ঘশ্বাস। সেই যে ফাল্গুনের শুরুতে পলাশ আর শিমুলের আগুন লেগেছিল, চৈত্র শেষের এই বেলায় তারা এখন মলিন, ধুলোমাখা রাস্তার এক কোণে পড়ে থাকা স্মৃতির মতো।

এই সময়ে দুপুরের রোদটা আর আগের মতো মায়াবী থাকে না, তাতে মিশে থাকে এক প্রখর তৃষ্ণা। জানলার পর্দা সরিয়ে তাকালে দেখা যায়, মাঠের ধারের শিরীষ গাছটা তার শেষ কটি পাতা ঝরিয়ে দিয়ে আগামীর প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। কোকিলের ডাকও যেন এই সময় একটু ক্লান্ত শোনায়—সেই আকুল করা কুহুতান এখন যেন বিদায়ের সুরে বাজছে। বসন্তের শেষ প্রহর আমাদের শেখায় যে, যা কিছু সুন্দর, তার শেষটুকুও মর্যাদার সাথে মেনে নিতে হয়।

বিকেলের আকাশটা এই সময় বড্ড ছটফটে হয়ে ওঠে। নীল আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা কমে গিয়ে সেখানে ধূলিধূসর একটা আস্তরণ জমা হয়। অথচ এই ধূসরতার মাঝেই লুকিয়ে থাকে নতুন শুরুর ইঙ্গিত। বসন্ত চলে যায় তার সবটুকু রঙ আর সুগন্ধ উজাড় করে দিয়ে, রেখে যায় শুধু আগামীর কালবৈশাখীর জন্য এক উন্মুখ প্রতীক্ষা। দিনশেষে যখন গোধূলির আলো মিলিয়ে যায়, তখন মনের কোণে একটাই কথা প্রতিধ্বনিত হয়—"আবার আসিব ফিরে।"

No comments:

Post a Comment