দেশনায়ক নেতাজী
মিত্রা রায় চৌধুরী
অনেকদিন বন্ধ থাকা জালনার কপাট গেল খুলে অন্ধকার ঘরে আলোর রশ্মি প্রবেশ করলো। বিচ্ছুরিত আলোর রেখা দেওয়ালে এঁকে দিল স্বাধীনতার ছবি। আমরা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম।কে দেখালো আমাদের এই স্বপ্ন?
বিবেকানন্দর ভাবধারায় অনুপ্রাণিত এক ভারত সন্তান,তিনি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। জানুয়ারি মাস পড়লেই আমাদের ভীষণভাবে মনে পড়ে যায় দুটো তারিখ ২৩ শে জানুয়ারি আর ২৬ শে জানুয়ারি। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নেতা ভগৎ সিং এর ভাষায় "বঙাল কি শের "এই দিনেই পৃথিবীতে পদার্পণ করেছিলেন।২৩শে জানুয়ারির ভোর মানে অনেক স্মৃতি আর এক অদ্ভুত অনুভূতি। ছোট থেকেই তিনি দেশাত্ম বোধে উদ্বুদ্ধ ছিলেন। ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার জন্য নেতাজী প্রভূত চেষ্টা করেছিলেন। ভারতবাসীদের বলেছিলেন "তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।" তার ডাকে সাড়া দিয়ে অনেক যুবক এগিয়ে এসেছিল। সুভাষচন্দ্র বসু একজন ব্যতিক্রমী বহুমাত্রিক উদ্দীপক চরিত্র। শুধুমাত্র বিপ্লবী বললে তার সঠিক মূল্যায়ন হয় না। তিনি চিন্তাবিদ,দার্শনিক,সংগঠক। কূটনীতিক ও রাষ্ট্রভাবনার এক রূপকার। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তার ধারণা ছিল খুবই স্বচ্ছ। কোন রকম আপোষে তিনি রাজি ছিলেন না, তৎকালীন বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের সাথে তার বিরোধ বাধে, তাই তিনি নিজের পথে আলাদা ভাবে একা অগ্রসর হন। নেতাজি উপলব্ধি করেছিলেন ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার জন্য সশস্ত্র বিপ্লব দরকার তার জন্য দরকার সংগঠিত প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী। তাই সুভাষ কে বেছে নিতে হয়েছিল অজ্ঞাতবাসের অনিশ্চিত পথ।শক্তিশালী ব্রিটিশ দের বিরুদ্ধে লড়তে হলে দরকার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সেনা বাহিনী। আর তার জন্য নিতে হবে বৈদেশিক সাহার্য্য। সেই উদেশ্য নিয়ে তিনি গোপনে ভারত ছেড়ে ছিলেন কারণ বিরুদ্ধ শক্তি তাকে বাঁধা দিয়েছিল।
No comments:
Post a Comment