ভয় পাবেনা কেউ
মনোরঞ্জন ঘোষাল
জানালার ধারে আনমনে বসে লিখছি। হটাত কানে ভেসে এল পাতার খসখস শব্দ! কেউ যেন হেঁটে
চলেছে। ঠিক জানালার পাশ দিয়ে!
জানালা বন্ধ। তাড়াতাড়ি তা খুলে একবার উঁকি মেরে দেখলুম, কেউ কোথাও নেই।
তাজ্জব ব্যাপার! দিনের বেলায় এমন ভূতুড়ে কাণ্ড।
ভয় লাগছে না, জাগছে বিস্ময়!
আজকেই পাড়ার একজন মারা গেছে। মাঝে মধ্যে সে এই পথেই বাগানের দিকে যেত। তবে কি……!
ধ্যেত ! কি সব আজে বাজে ভাবছি। ও সব আবার কিছু হয় নাকি?
তা হলে এটা কি? ……
বিজ্ঞান অপবিজ্ঞান কেমন যেন সব গুলিয়ে যাচ্ছে। বাস্তব আর অবাস্তব আলাদা করতে পারছি না। দর্শন ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যতা কার উপরে আঙুল তুলে প্রশ্ন করব? মনের মধ্যে এমন নানান সতেরো প্রশ্ন এসে হাজির হচ্ছে। কিছুতেই তাদের সমাধান করতে পারছি না।
অনেকটা সময় আমাকে ওই ঘটনা বিচলিত করে রাখল। তার পর আমি ও সব ভুলে আবার নিজের কাজে মনোযোগ দেব ঠিক করেছি।
কানে ভেসে এল ফিসফিসানি আওয়াজ! ভাঙা ভাঙা গলায় কে যেন বলছে-
কি…রে কা…কা লে…খা প…ড়া ক…র…ছি…স?
শব্দ গুলো যেন কোন গভীর গহ্বর থেকে হালকা ঢাকনা খুলে বেরিয়ে এল। যেন বহু কষ্টে সে বেরিয়ে আসছে অন্দর থেকে।
শুনে আমি তো পাথর। হাত পা যেন নড়তে চাইছে না। ভয়ে অস্ফুত স্বরে মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল একটা শব্দ- ভূত। ভূত। ভূত।
আমার মনে হল আমি, চিৎকার করে বলছি, কিন্তু কানে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।
মুখের উপরে কে যেন অদৃশ্য হাত দিয়ে চেপে ধরেছে। শব্দ বের হতে দিচ্ছে না। আমিও প্রাণপণে শব্দ বের করার চেষ্টা করছি। যেন কি অসম্ভব শক্তি , আমি কিছুতেই তার সঙ্গে পেরে উঠতে পারছি না।
দু জনের কি বিশাল ধস্তাধস্তি। তার পরের কিছু আর মনে নেই।
বলল, নাকি লেখার বিছানায় পড়ে গোঁ গোঁ করছিলাম। সবাই ধরে ঘরে বিছানায় শুইয়ে দিয়েছিল। ঘণ্টা খানেক পর নাকে গোটা হলুদ পোড়া শোঁকাতে তবে চাঙ্গা হয়ে উঠি।
No comments:
Post a Comment