রম্য গল্প
বেঁচে গেছি
প্রদীপ কুমার দে
গরম খুন্তির বারি,পাছায় ফচাং করে বসিয়ে দিল আমার এককালের হৃদয় হরণকারিণী বর্তমানের রণচন্ডী স্ত্রী দুলালি। প্রচন্ড রেগে আমার দিকে ধাবিত হয়ে হাতের খুন্তি আমার পেছনে বসিয়ে দিতেই আমি কঁকিয়ে উঠলাম,
-- ওরে বাপরে! মরেই গেলুম যে রে ...
লাল চোখে আমার চুলের মুঠো ধরে রামখিস্তি চালাল সে,
-- মেরে মেরে হাড্ডি চুন চুন করে দেবো ....
আমার দোষ এমন কিছুই নয়। পাশের বাড়ির উঠতি কিশোরীর সাথে আমি একটু হেসেখেলে কথা বলেছিলাম। আর একটু ইচ্ছে হয়েছিল তাই তো...
-- কি করছিলে ওই বাচ্চা মেয়েটাকে নিয়ে?
-- ছিঃ ছিঃ কি সব বলো? এই সূর্যালোক আর ওই মেয়েটার সাথে কি করব?
-- তোমাকে আমার বিশ্বাস নেই। তুমি মেয়ে পাইলেই হল। আচ্ছা কিছু যখন করোনি তখন ওর বাচ্চার বাপের নামটি বলে ফেলো দেখি?
-- দেখো কান্ড! তুমি আবার কিছু বলে দিও না যেন। ও তো রণাদার মেয়ে। ওই জানে ....
-- বুঝতে পারলাম। ওই যে সুনীর কথা বলছো, কিছুদিন আগে যে বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল সেটি কে ছিল?
-- না না, ওটা কিন্তু আমার ছিল না। ওটা সেই সুজনদার ছিল।
-- তবে রে হারামী তুই সব জানিস? তোর ছিল না? তুই কি করে বুঝলি?
-- মাইরি বলছি। আমার নয়। সুনী জানে ওটা ওই সুজনেরই।
ব্যাস হয়ে গেল। সব টেনে বার করে নিল মুখ থেকে। তারপর শুরু হল বেদম মার। কেলিয়ে কেলিয়ে আমায় দফারফা এক করে ছেড়ে দিল। এক সপ্তাহ খাওয়া দাওয়াতেই টাইট দিয়ে দিয়েছিল।
বেঁচে গেলাম শুধু সুনী আমাকে বাঁচিয়ে দিল তাই। সুনী একটু টাল ছিল। আমারও কাজ ছিল। একটু আধতু ফস্টিনস্টি করেওছিলাম। বাচ্চাটা কার কে জানে?
আমি বেঁচে গেছিলাম ওর দাদা ডাকে। আর ওটা ওই সুজনের বাচ্চা বলে স্বীকার করে নেওয়ায়। তবে পরে শুনেছি সুজনের বাড়িতে গিয়ে ওর বউকে আবার আমার বাচ্চা বলেই ওকেও এই একইভাবে বাঁচিয়েছিল।
যাকগে আমি বেঁচে গেছি এটাই বড় কথা।
-------------
স্ত্রী নয়তো একেবারে গরম ইস্ত্রি! এই ইস্ত্রিটাই যে আমার বুকের উপর চেপে রয়েছে কিন্তু কাউকে কিচ্ছুটি বলতে পারছিনা, ভাবতে পারছেন বিবাহের ভবিষ্যৎ কি?
ওরে আমার স্ত্রী দুলালি,
তুই আমারও জান নিলি ?
প্রাক বিবাহ বা প্রেম খুবই মোলায়েম, মন আর শরীর ছুঁকছুঁক করে। কখন কথা হবে কখন জাপটা জাপটি হবে, একটু আনন্দ আর অনেকটাই খরচ। আরে তখন কি আর খরচের কথা প্রশয় পায় তখন শুধুই এক অজানা নারীর সুখে ভাসার চিন্তা।
এখন বুঝতে পারি ঈশ্বরের কি দান। নারীর সৃষ্টি পুরুষের মরণ। দগ্ধ হওয়া! নারীর হাতে দগ্ধে দগ্ধে মরা। আমি এখন সুযোগ খুঁজি। কি করে ওরে জব্দ করা যায়? কেবলই এই চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়।
চিন্তা করছি এইসব। এমন সময় স্ত্রী দৌড়ে এল, ভাল করে কথা বলল,
-- এই আজ আমায় একবার বাবার কাছে নিয়ে যাবে?
-- তোমার বাবাকে আমার পছন্দ হয় না। বাজে লোক ....
-- ধ্যামনা একটা। বদমাশ। মেরে তক্তা বানিয়ে দেব, যদি আর একবারও আমার বাপের নামে গালি দিবি। এবার শোন মিনসে, আমার বাবা নয় সবার বাবা তারকেশ্বর তারকভোলার কথা বলছি রে ...
ভয়ে সিঁটিয়ে গেলাম। মার খাওয়ার থেকে তারকেশ্বর নিয়ে যাওয়াই ভাল।
-- ওহঃ তাই বলো, তা চলো,
বেরিয়ে পড়লাম। লোকাল ট্রেনে টিকিট কেটে চড়েই আমার বুদ্ধিমতী স্ত্রী নিজে বসেই ওর রুমাল দিয়ে আমার একটা সিট দখল করল আর আমাকে প্ল্যাটফর্ম থেকে ঝালমুড়ি কিনে আনার নির্দেশ জারি করল, আমি ঝামেলায় পড়লাম আবার ট্রেন থেকে নেমে দৌড়ে স্ত্রীর আদেশ মানতে গেলাম, আদরের দুলালি যে ঝালমুড়ি খেতে চেয়েছে।
ঝালমুড়ি কিনে ট্রেনে চড়ে দেখি ঝামেলা। আমার সিটে ফেলে রাখা রুমাল সরিয়ে এক পাক্কা লোক বসতে চাইছে আর আমার রাগী স্ত্রী তাকে ধমকাচ্ছে এই বলে যে এখানে একজন আছে। আমি উঠেই লোকটাকে ধমকে সরিয়ে দিলাম,
-- আমি রুমাল দিয়ে সিট রিজার্ভ করে রেখেছি যে ....
বলেই আমি ওনাকে অবজ্ঞা করে রুমাল তুলে সিটে বসে পড়লাম। কারোর কিছুই বলার নেই। লোকটি কারোর কোন সাপোর্ট পেল না।
আমার স্ত্রী একগাল হেসে আমাকে কনুইয়ের গোঁতা মেরে জানিয়ে দিল দেখেছো আমার বুদ্ধি? তোমার ঘঠেতো আর বুদ্ধি নাই।
লোকটি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে কটমট করে চেয়ে রইল। ভয় পেয়ে গেলাম।
আমি চোখ বুঁজে ঘুমানোর ভাণ করলাম। স্ত্রী সারারাস্তা ট্রেনে বসে মোবাইলে ভিডিও দেখল। তারকেশ্বর স্টেশন এসে গেল। স্ত্রী আমায় টান মেরে তুলল। আমি উঠেছি আর দুলালি উঠতে যাবে দাঁড়িয়ে থাকা সেই লোকটি ঠিক সেই মুহূর্তে অকস্মাৎ একটা রুমাল আমার স্ত্রীর গায়ে ফেলে দিল। ব্যাপারখানা কি হল?
স্টেশন এসে গেছে, আমি নামতে চাইলে ওই লোকটি স্ত্রীকে আটকে দিল,
-- আমি রুমাল ফেলে আপনার স্ত্রীকে রিজার্ভ করে রেখেছি, ও এখন আমার।
প্রথমে রেগে গেলাম। প্রতিবাদে চেঁচামেচি করতে গিয়েও থেমে গেলাম।
আমি চমকে উঠলাম। এবার মিনিটে আমার বুদ্ধি কাজ করে গেল, যাক এবার উচিত ব্যবস্থা হয়েছে। একেবারে হাতেনাতে ফল।
ট্রেনের অন্য প্যাসেঞ্জাররা অবশ্যই সবাই ওই লোকটিকেই সাপোর্ট করে দিল।
লোকটি জানাল,
-- আপনি এখন আমার। আমার সাথেই যাবেন আমার স্ত্রী হয়েই .....
এতদিন পর দেখলাম স্ত্রীর অবস্থা সঙ্গীন। ভয়ে মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। আমি তো এরকমই কিছু একটা চাইছিলাম। খুব ভাল হল। এনজয় করছি। কিন্তু পারলুম কই?
স্ত্রী আমাকে চেপে ধরে কাঁদো কাঁদো মুখে জানাল,
-- ওগো কিছু একটা করো, আমি ওর সাথে যাব না।
লোকটি এবার হেসে ফেলল,
-- ভয় পেলেন? না ভয় নেই। মজা করলাম মাত্র।
বুঝলাম। আমার মতো আর কেউই এইরকম বোকা স্বামী হতে চাইবে না।
No comments:
Post a Comment