শেষ থেকেই শুরু
কবিতা বণিক
চারাগাছ অঙ্কুরিত হয় একটা বীজকে ধ্বংস করে। সৃজন, পালন ও ধ্বংস্। এটি মহাবিশ্বের চিরন্তন চক্র। এটি জীবের কর্মফল ভোগ এবং মোক্ষ লাভের সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি, স্হিতি, লয় চলছে। কোন সৃজনই চিরন্তন নয়। মহাপ্রলয়ের সময় ব্রহ্মার ও মৃত্যু ঘটে। অর্থাৎ জন্ম হলে তার বিনাশ হবেই। একঘেয়েমি চলে আসে, ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যায়, তাই তো নুতনের সৃষ্টি। সৃষ্টির সাথে সাথে তার ওপর সময় প্রভাব বিস্তার করে, তার আয়ূ নষ্ট করে। লয় বা ধ্বংসের মাধ্যমেই পুরোন ক্ষয়ে যাওয়া জিনিস থেকে নুতন ভাবে সৃষ্টির পথে এগিয়ে যায়।
আমরা গল্প,কাহিনীর শুরু করি, মাঝে কত কথা, জটিলতা, বিপদ তারপর শেষ হয়। সবটাই একসাথে উপলব্ধি করি। শুরু হয়েছিল বলেই তো তার শেষ হল। এই শেষের মধ্যও লুকিয়ে থাকে কোন নুতন সম্ভাবনা, নুতন রচনা, নুতন গল্প। জীবনের ধারা এমনি বয়ে চলে। কবির কথায়। “ তোমার হল শুরু আমার হল সারা। তোমায় আমায় মিলে এমনি বহে ধারা।” বাড়িতে কোন অতি বৃদ্ধের মৃত্যু এবং নবজাতকের আগমন। এখানে শেষ বা মৃত্যু যেমন কাম্য, একেই বলে ধ্বংস। ভারসাম্য বজায় রাখতে ও ধ্বংসের প্রয়োজন। খাদ্য-খাদক সম্পর্কে ও জানি এতে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকে। পচা কাঠেও অঙ্কুরোদগম হয়। এখানে ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টি। ধ্বংস আপাত দৃষ্টিতে যন্ত্রণা দায়ক হলেও সৃষ্টির আনন্দে ভরপুর থাকে। যত প্রলয়, মহাপ্রলয়, যুদ্ধ হয়েছে তা সবই শান্তি ও নুতনের সূচনার জন্য। মধু- কৈটভ, মহিষাসুর, শুম্ভ- নিশুম্ভ, হিরণ্যকশিপু, শিশুপাল, জরাসন্ধ, কংস, দুর্যোধন, দুঃশাসন, ( কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের প্রয়োজন ছিল অন্যায়, পাপ থেকে সমাজকে রক্ষার জন্য।) সব ধ্বংস না হলে শান্তি অর্থাৎ প্রহ্লাদ, ধ্রুব, শ্রীকৃষ্ণ, পরীক্ষিত ইত্যাদি তাদের শুভ চেতনার প্রতিষ্ঠা হত না। এই চক্রাকারে আবর্তিত সৃষ্টি, স্হিতি ও লয় সবটাই একে অপরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। শুরু হলে তার শেষ হবে আবার এই শেষ থেকেই নুতনের শুরু হয়।
No comments:
Post a Comment