বর্ষ শেষ? নাকি শুরু নতুন দিন?
অণু গল্প
আজ নির্মলা মেয়ের সাথে তাঁর নতুন বাড়িতে এল। তাঁর নিজের বাড়ি। মেয়ে আত্মজার দৌলতে অবশেষে নিজের একটা ঘর পেলো জীবনের এই গোধূলি বেলায়। এই আনন্দ সে রাখবে কোথায় বুঝে পায় না। একটা ঘরের জন্য একসময় কম আকুল তো হয়নি সে। ভালোবাসার মানুষটির হাত ধরে সেই কবে তাঁর পুরুলিয়ার ঘর ছেড়েছিল, সেও নিজের একটা ঘর বাঁধবার আশায়। তখন কি ভেবেছিল সেই ভালোবাসার মানুষটিই শুধুমাত্র কিছু অর্থের লোভে তাঁকে এই পাঁকে ঠেলে দেবে .....কেনো যে মানুষ চিনতে ভুল করেছিল, আজও আত্মদগ্ধ হয় সে। বিগত পঁচিশ বছরের দমবন্ধ করা প্রতিটা রাত আর হতাশায় ভরা প্রতিটা দিন তাঁর কেটেছে লখনৌ-এর এই পতিতাপল্লীতে। গুমোট দরজার অন্দরে একটু ঠান্ডা বাতাস বয়ে আসতো আত্মজার 'মা' ডাকে। চারদেওয়ালের জমাট অন্ধকারে আশার আলোর রেখা উদ্ভাসিত হতো যখন দুদিকে বিনুনি দুলিয়ে আত্মজা স্কুল থেকে ফিরে এসে সারাদিনের গল্প শোনাতো। সেই ভালোবাসার মানুষটি জানেনি সে স্ত্রীর সাথে সন্তানকেও বিক্রি করেছিল। এই পতিতাপল্লীতে আসবার দিন কয়েক পরেই নির্মলা বুঝতে পেরেছিল সে সন্তানসম্ভবা। সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে গিয়েও নির্মলা তাঁর আত্মজাকে রক্ষা করেছে। আত্মজা ছোটবেলা থেকেই খুব সংবেদনশীল। মাকে কোনোদিন এমন কোনো প্রশ্ন করেনি যাতে মা কষ্ট পায়। মায়ের একটা নিজের বাড়ির ইচ্ছে, সেই ইচ্ছেকেই নিজের লক্ষ্য তৈরী করে এগিয়ে গেছে আত্মজা। এখন সে একজন রেভেনিউ অফিসার। চাকরি পেয়ে প্রথমেই লোন নিয়ে বাড়ি তৈরী করেছে আত্মজা, তাঁর নতুন বাড়ির আজ গৃহপ্রবেশ, বাড়ির নাম 'নির্মলা ভবন'।
No comments:
Post a Comment