"স্নিগ্ধতা -রুক্ষতা " --বৈপরীত্য নিয়েই অনন্য... .......
গৌতমেন্দু নন্দী
শরতের নীল আকাশে বর্ষা মেঘের লুকোচুরি খেলা চলতে চলতেই সোনালী হেমন্তের হঠাৎ আগমন । এই হেমন্তেই ডুয়ার্সের নির্মেঘ আকাশের কোলে কখন যেন উন্মোচিত হয় "স্লিপিং বুদ্ধ"----ডুয়ার্সের সড়ক পথে চলতে চলতে কিংবা বহুতল ভবনের ছাদ থেকে সকালের রৌদ্রস্নাত নির্মেঘ আকাশের কোলে বিস্তীর্ণ পরিসর জুড়ে দৃশ্যমানহোতে থাকে সেই "স্লিপিং বুদ্ধ" ----তুষার শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা !!চরাচরে র্শীত আগমনের নিঃশব্দ ঘোষণা এইভাবেই যেন শুরু হয়ে যায়।
ক্যালেন্ডারের পাতায় তখনও হেমন্তের উজ্জ্বল উপস্থিতি। বাতাসে "নাতিশীতোষ্ণতা" র পাল্লায় তখন ভারী হোতে শুরু করেছে শীতল অনুভূতি। আনুষ্ঠানিক ভাবে শীতের আগমন না হলেও মধ্য হেমন্তে এইভাবেই যেন শীতের শুরুর শুরু হয়ে যায়।
হেমন্তের ভোরের আলোয় শিশির স্নাত হয়ে মাটির বুকে বিদায়বেলায় আলপনা দেয় ঝরে পড়া শিউলির দল----
"শীতের বনে কোন্ সে কঠিন আসবে ব'লে
শিউলিগুলি ভয়ে মলিন বনের কোলে...."
শীত আর রোদের যুগলবন্দী, স্নিগ্ধতা আর রুক্ষতার বৈপরীত্য নিয়ে শীত আসে ঘরে বাইরে-- নদী, অরণ্যে, মাঠে, প্রান্তরে।
কমলা-হলুদ রং এর রোদ্দুরে পিঠ রেখে উন্মুক্ত বাড়ির ছাদে কমলা লেবুর কোয়া ছাড়াতে ছাড়াতেই অনুভূত হয় শীতের আমেজ।
বাজারে টাটকা শাকসবজির রং যেন বিরাট ক্যানভাসে আঁকা জলরং এর কোন আকর্ষণীয় "স্টিল লাইফ"!
দৃশ্য এবং "বোধ"---দুটোতেই তার উজ্জ্বল আবির্ভাব ঘটে।----ভোরের কুয়াশা আর সকালের প্রথম রোদের স্নিগ্ধতা, মধ্যাহ্নের নিরুত্তাপ রোদ, স্বল্পায়ু বিকেলে সান্ধ্য-শীতল আগ্রাসন এবং নৈঃশব্দ্য রাতে
লেপ-কম্বলের কাঙ্ক্ষিত ওমের স্পর্শ সুখে নিশীথ রাত্রি যাপন----।
সুখ আর আলস্যের আড়মোড়া ভেঙে শুরু হওয়া প্রতিটি সকালে শীতলতা আর উষ্ণতা যেন পরস্পরের পরিপূরক। রোদ ছাড়া শীত যেমন আদরণীয় নয় তেমনি শীত বাদ দিলে রোদ্দুরও অসহনীয়। তাই শীত সার্থক হয়ে ওঠে উষ্ণতার স্পর্শে। শীতের সেই "ওম" নিয়েই সার্থক হয়ে ওঠে শীতকাল। যতোই "শীত বুড়ি" বলা হোক না কেন আসলে "শীত" হোল রোমান্স ও তারুণ্যের প্রতীক---চির রোমান্টিক!
দার্জিলিং এর "গ্লেনারিস" বা "ক্যাভেন্টাস"এর উন্মুক্ত পরিসরে দাঁড়িয়ে শীতের চাদর মুড়ি দিয়ে তুষারস্নাত দূর পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাকা, বা হিমাচলের কুফরিতে প্রথম শীতে মৃদু তুষারপাতে স্নাত হওয়া কিংবা কাশ্মীরের ডাল লেকে শীতের সূচনায় হাউসবোটের পাটাতনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ "আইসফল"এর সম্মুখীন হওয়া --- কোন "শীত বুড়ি"র উপাখ্যান হোতে পারে না,বড়ং অনায়াসে কোন চূড়ান্ত রোমান্টিসিজমের উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে যায় !
আবার কোন কবির কলমেও এইভাবে শীত আসে
---------" শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা আমি তিনমাস ঘুমিয়ে থাকব---প্রতি সন্ধ্যায় কে যেন ইয়ার্কি করে ব্যাঙের রক্ত ঢুকিয়ে দেয় আমার শরীরে -----
আমি চুপ করে বসে থাকি---অন্ধকারে নীল ফানুস উড়িয়ে দেয় কারা, সারারাত বাজি পোড়ায় হৈ হল্লা --
তারপর হঠাৎ
সব মোমবাতি ভোজবাতির মতো নিবে যায় একসঙ্গে ---উৎসবের দিন হাওয়ার মতো অন্যদিকে ছুটে যায়, বাঁশির শব্দ আর কানে আসে না......
.............আমার ভালো লাগে না ---শীতকাল
কবে আসবে সুপর্ণা আমি তিনমাস ঘুমিয়ে থাকবে....."
"শীতের হাওয়ায় লাগল নাচন
আমলকীর এই ডালে ডালে
পাতাগুলি শিরশিরিয়ে ঝরিয়ে দিল তালে তালে.…."
------এই রুক্ষতার মাঝেও শীতের স্নিগ্ধরূপ কিন্তু পরিস্ফুট ।




No comments:
Post a Comment