শীতের আমেজ
শুভেন্দু নন্দী
প্রকৃতি বিভিন্ন রং, রূপ, স্বাদ, রস নিয়ে আসেন এই বিরাট ধরণীতলে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরত, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত -এই ঋতুগুলোর বিভিন্ন সময়ে আগমনের কারণে কখনও রুদ্র রূপ, কখনও শীত বা ঠান্ডার মেজাজ, কখনও প্রবল ঝড় বৃষ্টি, নিম্ন চাপ, হিমেল আবহাওয়া, আবার হালকা ঠান্ডা ও গরমের মিশ্র অনুভূতি দারুনভাবে প্রকট হয়ে পড়ে। সূর্যের বেশ কিছুটা সময় দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে, আবার উত্তর গোলার্ধর দিকে ধাবমানের ব্যাপারটা ঘটে। ফলে তাপমাত্রার পারদ দারুনভাবে উপরে ও নীচে ওঠানামা করে থাকে। সমতল শহরে ও শৈল শহরে উষ্ণতার ভীষণ হেরফের লক্ষ্য করা যায়।। শরত কালের স্নিগ্ধ শান্ত রূপ, আকাশে ভেসে বেড়ানো শ্বেতশুভ্র পেঁজা তুলোর মত মেঘ, সোনালী রৌদ্র -বাসী হলুদের মতো মিঠে, চারিদিকে হাওয়ায় দোদুল্যমান কাশ ফুলের সৌন্দর্য, শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো, হেমন্তে শিশির ভেজা শিউলি ফুলের সুবাস আর বসন্তের রক্ত রাঙা শিমুল ও পলাশের মাঝে দোলের আবির ও রংএ মনে হিল্লোল জাগানো। তবে এর মাঝে শীত ঋতুর আগমন যেন অন্য মাত্রা নিয়ে আসে। সকালে মেঘ রৌদ্রের লুকোচুরি খেলা, কুয়াশা, আবার কখনোও মেঘলা আকাশ, ঠান্ডার আমেজ, তাপমাত্রার পারদ নিম্ন মুখী হওয়া, হালকা রোদে গা মেখে নেওয়া, আবার শৈত্য প্রবাহে শীতকে জব্দ করার রকমারি শীতবস্ত্র তো হাতের কাছেই আছে, বাক্স বন্দী, আলমারি বন্দী হয়ে। কম্বল, লেপ গায়ে নিয়ে গরম উপভোগ করার একটা আলাদা মজা আছে। ঘন্টায় ঘন্টায় চা -কফি। খেজুরের রস, নলেন গুড়ের সন্দেশ কিংবা সিজনাল ফল কমলালেবু খেতে খেতে গরম উপভোগ করা। কোট -প্যান্ট,সোয়েটার, জ্যাকেট,পুলভার, আলোয়ান, বাঁদরী টুপি, মাফলার, স্ল্যাক্স, নাইলন ও পশমি হাত -পা মোজা,শাল, কটন ও পশমি কম্বল- ভাদ্র মাসের সূর্যের গন গনে তাপে সেগুলো বের করে আবার নতুন করে সূর্যের তাপ দগ্ধ করা হয়, যাতে ভেতরের ভ্যাপসা গন্ধ দুরীভূত হয়।ঠান্ডা যত বাড়ে, দেহের ওজনও তত বৃদ্ধি পায়। উচ্চ মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, ধনীদের ক্রয় ক্ষমতার নাগালে। এগুলো কিন্তু নিঃস্ব ও প্রান্তিক গোষ্ঠীভুক্ত দের সামর্থ্যর এক্কেবারে বাইরে। কাগজ, খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে বাধ্য হয়। সহৃদয় সংস্থা থেকে যদিও এই সব নিরন্ন, নিঃস্ব, গরিব দুঃখীদের শীতকালীন মরসুমে কম্বল ইত্যাদি প্রদানের ব্যবস্থা থাকে, তবু সেটা যেন লটারীতে টাকা পাওয়ার মতো ব্যাপার। পৌষে কনকনে ঠান্ডা। তার মধ্যে বাঙালী দের ঘরে ঘরে পৌষ-পার্বন আর পিঠে, পুলি জম্পেশ করে খাওয়ার মধ্যে বিরাট আনন্দ। আর এই ঠান্ডায় ঘরে কিংবা বাইরে বনভোজনের মতো আড্ডায় মেতে ওঠা, ফরেস্টে ও খোলা মাঠে রান্না বান্না আর পড়ন্ত বিকেলে মিঠে বাসি হলুদের মতো রোদে বন্ধুবান্ধব্দের নিয়ে বসে খাওয়া ও শীত নিবারণের তৃপ্তির আমেজ অন্য মাত্রা বহন করে।
No comments:
Post a Comment