Thursday, December 4, 2025


 

 শীতের চিঠি

 মিত্রা তোমাকে

   চিত্রা পাল 


মিত্রা,

তোমার চিঠি পেয়েছি। তুমি হঠাত্‌ এমন চিঠি লিখবে, লিখে আবার আগের দিনের মতো ডাকে পাঠাবে তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। কেননা এখন সবাই চলভাষ নির্ভর। চিঠি ব্যাপারটাই অতীতের,স্বপ্নের।তবু স্বপ্ন কখনও কখনও সত্যি হয়,তেমন করে এ স্বপ্নও সত্যি হলো বোধ হয়।তুমি লিখেছো, পশ্চিমের মরু অঞ্চল থেকে সদ্য কোলকাতায় এসেছো। জানতে চেয়েছো, এই শীতে এখানে কেমন আছি। সত্যি কথা বলতে গেলে বলতে হয় এই শীতে আমি ভালোই আছি আর ভালোই থাকি।এই তো সবে দুর্গাপুজো গেলো। কালীপুজোর আলোর রোশনাই শেষ হলো। এবার শীত আসার পালা। আমাদের এই উত্তরবঙ্গে কালীপুজোর পরে গোপাষ্টমির অনুষ্ঠানের পরেই যেন ঝপ করে শীত এসে পড়ে,মেল ট্রেনের স্টেশনের মতো।  এদিকে দিনের বেলাও খুব ছোট হয়ে যায়। শহর ছাড়িয়ে একটু গ্রামের দিকে গেলেই দেখা যাবে, বাড়ির আঙ্গিনায় বা উঠোনে পাকা ধানের গাদা। যাদের ধান কোটার ছাম আছে, তারা ছামে ধান কুটে কিছুটা চাল বানায়। তবে এখন আর কেউ ওভাবে চাল কোটে না,  সবাই মেশিনেই চাল করে আনে। সর্ষে ক্ষেত ফুলে ফুলে আলোয় ঝলমল। শীতের সকালে   আকাশ  খবর দিলো,আজ তোমাদের একটা ভালো উপহার দেবো, উত্তর দিকে সকালে দেখো, পেয়ে যাবে।কিন্তু উপহার আসে না। হঠাত্‌ একদিন তাকিয়ে দেখি, চা বাগান ছাড়িয়ে ওই উত্তর সীমানা জুড়ে সপারিষদ হিমালয় বিরাজমান, সঙ্গে রাজাধিরাজ কাঞ্চনজঙ্ঘা। কি অপরূপ শোভা তার কি বিচিত্র  সাজ, ক্ষণে ক্ষণে বদলায় তার রঙের  বাহার। এমন উপহার পেয়ে আমরা বিস্মিত, আনন্দিত তো বটেই।ক্রমে ক্রমে শীত বাড়তে থাকে, তার সঙ্গে সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে পোশাকের। মাথা থেকে পা অব্দি  এমন মোড়া যে মানুষ চেনা দায়। তার মধ্যে একদিন খবর পাওয়া গেলো, যে দার্জিলিং এ তুষার পাত শুরু হয়েছে। আমরা চললাম দার্জিলিং এ তুষারপাত উপভোগ করতে। এমন শীতে সকালে উঠতেই ইচ্ছা করে না। তবু কাঁচের জানলার ওপারে যখন ঝুর ঝুর করে বরফ পড়ে চারদিক আচ্ছন্ন করে ফেললো সে এক দেখার দৃশ্য। সমস্ত তুষারের আচ্ছাদনে ঢাকা।এই শীত যে কতখানি,তোমরা দক্ষিণে বসে ভাবতেই পারবে না। রাস্তায় বরফ, জল একেবারে ঠান্ডা বরফ।বরফের রাস্তা পেরিয়ে এলাম টাইগার হিল পাহাড়ে। সূর্যের আলো এতো ঠান্ডা কখনো পাইনি। তুষারশুভ্র বরফের চূড়া লাল, পরে সোনালী হয়ে রজত শুভ্র হয়ে যাওয়ায় এক অপার্থিব পরিবেশ। আবার স্তূপিকৃত বরফের ওপর দিয়ে ফেরা এক অনন্য অনুভূতি। এসব আমাদের উত্তরের শীতেরই একেবারে নিজস্ব। একবার শীতে চলে এসো।শীত পাবে, তবে বরফ পাবে কিনা তা আবহাওয়াই বলতে পারবে। শুভেচ্ছা সহ-       


No comments:

Post a Comment