Thursday, December 4, 2025


 

শীত জন্ম!

পার্থ সারথী নন্দী 

সে সব ঢের আগের কথা! শীত তখনো সুদূরের রূপকথা হয়ে যায়নি,কার্তিক শেষ থেকে অঘ্রাণ শুরুর মধ্যেই সদ্য ডানা মেলত প্রখর উত্তুরে হাওয়া! ছোট্ট বেলার বরফ বুড়োর গল্প তো জানাইছিল রাশিয়ান রূপকথার কল্যাণে! সেই বরফ বুড়োই  আমাদের ডুয়ার্সের মাঠ , নদী,প্রান্তর কে নির্ঘাত একটু ছুঁয়ে দিত! বরফ সাদা কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে আমাদের এই ছোট গঞ্জ গুলিতে একটা হিমেল বাতাস নেমে এসে কনকনে শীতের পূর্বাভাস দিত সকালে বিকেলে! ঠামা জানাতেন শীতবুড়ির মনোগত অভিপ্রায়,' পোলাগো সাথে পারি আর না পারি/ বুড়ো বুড়ির ভাঙবো জারিজুরি!' প্রাক গ্লোবাল ওয়ার্মিং জগতে আমাদের শীত যাপনের সেই জমিয়ে শুরু !

জমিয়ে শীত বলতেই কতগুলো চেনা নাম,অনুষঙ্গ বারেবারে চেতনে অবচেতনে ভেসে আসে! উকিলকাকু ! বাবার বয়েসী মানুষটির হরবখত কাঁধে বহু পুরোনো, ছেঁড়া শাল জড়ানো থাকতো! মানুষটা আসলেই তখন হাতে ঝুলোনো নধর লাউ কিংবা কাগজে জড়ানো কিছু লাফা কিংবা পালং শাক! উকিল কাকু জন্ম কুঁড়ে! নয়মাসে  ছয় মাসে হয়ত আসবেন! সারাদিন আমাদের বাড়িতে জন খাটবেন, কিন্তু মজুরিটা কোনো বড় বিষয় নয় ওর কাছে! দুবেলা অনেক দিন গরম ভাত জোটেনি ! লবণ দিয়ে আজন্ম এক থালা খেয়ে বেঁচে থাকা হত দরিদ্র মানুষটির কাছে ধোঁয়া ওঠা ফেনা ভাত, একটু ঘি, আলুসেদ্ধ অমৃতবৎ! তবে কাজে উকিল কাকু একেবারেই নবডঙ্কা ! সারাদিনে শুধু হয়ত সুপুরীর খোল গুলো একপাশে সরিয়ে রাখলো কিংবা গোয়াল টা ঝাঁট দিতেই সূর্য পাটে বসতে চলল! উকিলের কুখ্যাত আলসেমি নিয়ে মা ঠাকুমা দের অভিযোগ প্রচুর!দু চারজন মুনিশ, যারা গায়েগতরে খাটতে পারে,একবেলায় সব সুপুরি পেড়ে দিতে পারে,নারকেল গাছের গোড়া কুপিয়ে খোল দিয়ে,জঞ্জাল উঠোন সাফ সুতরো করে দিতে পারে চক্ষের নিমিষে , যেমন সর্দার কিংবা বলা( বলরাম), তেমন কর্ম তৎপর লোক এই ধান ঝাড়াই,মাড়াই এর ভরা মরশুমে আর পাবেন কোথায়! অগত্যা উকিলেই ভরসা করতে হয়! আকর্ণ  বিস্তৃত হাসি দিয়ে সেই মানুষটি আমাদের দাওয়াতে আবার এসে বসে! আগের সব মান অভিমান ভুলে গিয়ে! তাঁর প্রতি ওঠা অভিযোগ এক মুহূর্তে নস্যাৎ করে দিয়ে! ' কাকু তুমি এত ঢিলেমি কর কেনো? সর্দার কত তাড়াতাড়ি সব কাজ সেরে ফেলে,দেখতে পাও না?' রিনরিনে গলায় প্রশ্ন করতেই উকিলের এক গাল হাসি! ' বাপই, মোর সাত জনমে কেউ গতর খাটায় খায় নাই! ওই সর্দার মোর ঘরত আগে জন খাটিছে! আর এলায় মোর কপাল খান !' উকিল কাকুর শব্দহীন হাসিতে কান্নার রেনু ঝরে পড়ত, হয়ত!শুনতে পেতাম না ওই বয়সে! তবে আমাদের সাথে শীতের মতোই ওর নিবিড় সম্পর্ক! ঠামা বলতেন,উকিল কাকু বাবার ছোটকালের বন্ধু! ছাড়ান কাটান অসম্ভব! ওই পুরাতন ভৃত্যের মতোই রুক্ষ , রিক্ত দিনের মতোই ফাটা ,নগ্ন পায়ে ধুলো, হাঁটুর উপর নোংরা সাবেকি ধুতি নিয়ে প্রতিবার শীতের ঠিক শুরুতেই উকিল কাকুর আগমন ! হয়ত এরপর আবার তারও শীত ঘুম চলবে দীর্ঘকাল!

সত্যি মাঝে মাঝে মনে হয় সেই সব শীত দিন যেন বহু জন্ম আগের!কালীপুজোর বাজির কড়া গন্ধের আধিপত্য সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাওয়া বাতাসে সূর্যের সেই প্রখরতা অনেকটাই উধাও! কার্তিক গড়াতে তখন লেপ, কাঁথা,কম্বল আলমারি বা সিন্দুক থেকে বের হয়ে গেছে! কালীপুজো পেরোতেই হয়ত ঝপ করে দুদিনের অকাল বর্ষণ! ব্যস দুয়ারে ডুয়ার্সের সেই বিখ্যাত শীত! অবশ্য ততদিনে মা ঠাকুমার বিছানায় রোদে বেশ করে সাঁতলানো লেপ ,কম্বল গুছিয়ে রাখা! শুধু পাটভাঙ্গা শাড়ির মত শরীরে ওম ছড়াবার অপেক্ষায়!বাতাস জুড়ে গুড়ি গুড়ি হিম প্রতাপ! সকালের সেই প্রবল প্রতাপশালী  জ্বলজ্বল করা রোদের কড়া চোখ এখন কুয়াশায় বেশ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে! সকালে উঠলে এখন পায়ে মোজা,আর গায়ে সোয়েটার, গলায় জড়াতে হচ্ছে মাফলার! অনেকের মাথায় চড়ছে টুপি বা মাঙ্কি ক্যাপ! উঠোনে কিংবা টিনের চালে পাতলা কাপড় মেলে দিয়ে ঠামা  মুসুর কিংবা কলাই ডালের  বড়ি নিয়মিত শুকোতে দিচ্ছে! আমাদের উপর দায়িত্ব বর্তেছে  কাকের দলের উপর নজর রাখা! তাঁরা সব তক্কে তক্কে আছে! একটু অন্যমনস্ক হলেই, ঝপাৎ! ব্যস অত কষ্ট করে ডাল ফেটিয়ে  বড়ি গুলির দফা রফা! রোয়া ওঠা রোদের  মায়া জড়ানো উষ্ণতায  শুকচ্ছে আচার- জলপাই কিংবা তেঁতুলের! জিভ দিয়ে জল গড়ালেও কিচ্ছু করবার জো টি নেই! ভালো করে শুকিয়ে গেলে আঠালো, রসালো, ঝাল ঝাল টক টক  সে যে কি স্বর্গীয় মিশ্রণ হয়ে দাঁড়াবে,ভাবতেই হাত নিশপিশ করে, জিভ লকলক করে ওঠে! হায়! আমাদেরকেই ( উজ্জ্বল,আমি কিংবা দাদা) লাঠি হাতে দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ত্রস্ত চোখে! এত কষ্ট করে আচার রক্ষা করবার পর যখন সেগুলো বোয়ামজাত হবে,তখন কি আর সেগুলোকে বাগানো যাবে! মানে সেগুলো তো তখন নাগালের বাইরে মিটসেফের বেশ উঁচু তাকে চালান হয়ে যাবে! 

আমার ছোটবেলায় শীতদুপুরের একটা ভীষণ প্রিয় অভ্যেস ছিল ( এখনো আছে) লুকিয়ে রান্নাঘরে অভিযান! মা তখন স্কুলে,দেবী পিসি হয়ত কল পাড়ে বাসন মাজছে! এদিকে মিটসেফে ঢাকা দেওয়া আমার ভীষণ প্রিয় জ্বাল দিয়ে যাওয়া পায়েস কিংবা  গত কাল সন্ধ্যার সুজি! যখন ছোট জানালার ফাঁক দিয়ে আলো আঁধারির খুনসুটি চলছে ঠান্ডা মেঝেয়,আমি পা টিপে টিপে মিট সেফ খুলতেই চমক! কোনটা ছেড়ে কোনটা খাই! কাকিমা গত রাত্রে গোটা কতক পাটি সাপটা দিয়ে গেছেন, ক্ষীরের! আমাদের বাড়িতে চিরকাল নারকেল পুর দিয়ে পাটি সাপটা হয়! কিন্তু আমার বরাবর ঘন জ্বাল দিয়ে তোলা ক্ষীরের পুর দিয়ে পাটি সাপটা বড্ড পছন্দের! মা বাড়ি ফিরলে উত্তম মধ্যম হবে জেনেও দুটো পাটিসাপটা বেমালুম মুখে চালান করে দেই! তারপর নজরে সুজি! সকালে গরম সুজির থেকেও এখন ঠান্ডা হয়ে যাবার পর এই বিকেলে তাঁর ওপর বেশ ভরাট একখানা সরের পুরু স্তর পড়ে  গেছে! চামচ দিয়ে তুললে আমার জিভ দিয়ে রীতিমত জল গড়ায়!  একটা জামবাটি ভর্তি পায়েস রয়েছে,কিন্তু সেটা চিনির ! আমার গুড়ের পায়েস অনেক বেশি পছন্দের! মা ফিরবার সময় ঢাকেশ্বরী থেকে আমার জন্য দুটো বলেন গুড়ের সন্দেশ আনবে জানি! আমার গুড়ের পায়েসের প্রতি হ্যাংলাপনা কাকিমার (উজ্জ্বলের মা ) বিলক্ষণ জানা আছে! হয়ত এই বিকেল গড়ালেই আমার ডাক পড়বে! কাকিমা পরিপাটি করে আসন পেতে পেটুক আমাকে পাটি সাপটা দেবেন,বাটিতে গুড়ের পায়েস! আমি জাস্ট ঠিক করে উঠতে পারি না, কোনটা আগে মুখে তুলবো! দুটোই ফাটাফাটি!সে সময় শীত বিকেলে আঁধার আমাদের পেছনের কাঁঠাল, আম বাগানে সাপটে নেমে এসেছে! কাকিমার বারান্দায় আসর জমে গেছে! সোনার মা, নান্টুর মা , বাপীর মা,কখনও অভির মা! সঙ্গে টলোমলো পায়ে সদ্য হাঁটতে শেখা অভি কিংবা তাতন! আরেকটু পরেই টিভি খুলেই  বাংলা নেটওয়ার্কে সিরিয়াল কিংবা চিত্রহার! কিংবা অভির আধো আধো গলায় উচ্চারিত ' গব্বর ' ( খবর )! কাকিমার হাত তখন উলকাটায় দ্রুত ঘুরছে! উজ্জ্বলের জন্য বুনতে বসা সোয়েটারের পুট মেলাচ্ছেন! তাতন কিংবা অভির কচি গলায় এলোমেলো আবৃত্তি! সম্পর্কের উষ্ণতা! সেই আধো সন্ধ্যায় শীত জন্মে সম্পর্কের বুনন বড্ড গাঢ়!

হিমাঙ্কের গল্প তখনো আমাদের অজানা! সকালে লেপ থেকে মুখ সরাতে টের পেতাম না বেলা চড়ছে কিনা! জানালা দিয়ে মুখ বাড়াতে দেখি আশেপাশে কোত্থাও যেনো কিছু নেই, প্রায় পুরোটা যেন সাদা চাদরে ঢেকে গিয়েছে! বাড়ি, মাঠ,রাস্তা, নয়ানজুলি কুয়াশায় সব জড়াজড়ি করে অদৃশ্য হয়ে গেছে! বারবার চোখ কচলেও কই কিছুই তো চোখে পড়ে না! ঠিক বাড়ির সামনে অত বড় পাহাড়ের মত দাঁড়িয়ে থাকা  বট পাকুড়ের গাছ,সেটাও যেন উধাও! আজ তবে কিসের স্কুল? মা কে অবিশ্যি কথাটা বলতে সাহসে কুলোয় না! মাস্টার মশাই এই কুয়াশা ঠেলে নিশ্চয়ই আসবেন না! কিশোর রবির নীলমণি মাস্টার যেমন, আমারও তেমনি পুটনদার আসা না আসা নিয়ে মনে আশা নিরাশার দ্বন্দ্ব চলে!  আজ কি আর সূর্যের মুখ আদৌ দেখা যাবে? কত বেলা হলো? ঘড়িতে চোখ যেতেই চমকাই! প্রায় সাড়ে আটটা! আকাশের মুখ দেখে কিছুতেই ভোর ছ টা র বেশি বলা যাচ্ছে না! আমি গুটিসুটি উঠোনে দাঁড়াতেই  নাকে একটা সুবাস ঝাপটা মারে! পাশের বাড়ির নারুকাকুদের সবেধন নীলমণি খেজুর গাছে রস বুড়ো এই ভোরে চড়ে বসেছে! গত কাল ঝুলিয়ে রাখা রসের হাঁড়ি নামিয়েছে, ম ম করছে চারিদিক! সোনা,নান্টু সবাই চলে এসেছে গ্লাস হাতে! আমিও আর দেরি করি কেন? এক ছুটে ঝাপসা ওই এক চিলতে খোলা জমিতে ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে রসের হাঁড়ির দিকে তৃষ্ণার্ত নয়নে তাকিয়ে থাকি! একে একে গ্লাস ভরে ওঠে টাটকা খেজুর রসে! যেমন সুবাস,তেমনি স্বাদ! আর তেমনি ঠান্ডা! অমৃতের স্বাদ পাই মনে হয়! না খেলে কি আফসোস ! আর একটু দেরিতে উঠলেই মিস করে যেতাম!

যেন অন্য জন্মের কুয়াশার গল্প মনে হয় আজকাল! হেমন্তের শেষ বেলায় হাওয়ায় সেই ফিসফিসিয়ে মিলিয়ে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস ঘুরে বেড়ায় কোথায়? ভোরের একটা উত্তুরে মৃদু চাপড় আলতো স্বরে জানাত,আসন্ন শীতের আগমনী ! ব্যস, কার্তিক মাসেই কম্বল, কাঁথা, আলোয়ান, মাফলার সমস্ত উঠোনে বা রোয়াকে উষ্ণ রোদে তাতিয়ে নেওয়া ! আর কদিন পর যে কুয়াশা পড়ে যাবে চরাচরে, দিগন্ত জুড়ে! মন কেমন উথাল দিয়ে ওঠে! বাজারে নতুন সবজি, আলু সুন্দরী নতুন নতুন রূপে! তখন বর্ধমানের সেই বিখ্যাত চন্দ্রমুখী আলুর রমরমা বাজার! সেদ্ধ হলে তুলতুলে মাখনের মত গলে যাচ্ছে! বেগুন এরপরই খুব সস্তা হয়ে যাবে! শীতালি  বেগুন!ভাজা হলে ঠিকঠাক, উপরের আস্তরণটা আলগা  হয়ে যাচ্ছে; ভেতরের অংশ এত এতটাই নরম , সেগুলো মুখে দিতে না দিতেই গলে যাচ্ছে গলায়! বেগুন তো না বিনয়ের অবতার! টোস্কা দেওয়ানীর বাগানের নিজে হাতে তোলা বেগুন! পোকা তাড়াতে তখন হুঁকোর  জল ছিটিয়ে দিত দেওয়ানী! সাদা সিম, পুরোট বাঁধা কপি, ধবধবে ফুলকপি , টমেটো সমস্ত নিয়ে জমাট ধূপগুড়ি মোড়ের বাজার! সবজি আসবে বড় ডোবা থেকে টাটকা গেরস্থের লাউ, গুয়াবরনগর থেকে দেশী ছোট আলুর বস্তা, রাইচাঙ্গা থেকে নতুন আলু কিংবা ওলকপি! বড় পাইকার তখনও মোড়ের বাজারে পা ফেলেনি!  বাজারে ঘুরতে মন না চাইলে রাজাদের বাড়ির পাশ দিয়ে ইতিউতি এগোলেই মরা মুজনাই নদীর ওপারে নৃপেণ মিত্র কলোনী! সেখানে দেবু, লিটনদের বাড়িতে নতুন কোপানো জমিতে পালং, লাল শাক ফনফন করে বেড়ে উঠেছে! খেতে শুয়ে থাকা টাটকা মটর শুটির তাজা সুবাস ! যতদূর তাকাই হরিদ্রা বর্ণে ক্ষেত আলো হয়ে আছে সরিষার ফুলে! ইচ্ছে করলেই মুঠোয় উঠে আসবে মটর শুটি কিংবা  সরিষার ফুল! তবু দক্ষিনে মুজনাই থেকে হু হু বাতাস বাউল মনটাকে কেমন  শেকড় শুদ্ধু নাড়িয়ে দেয় শীত মুখী শুরুর বিকেলগুলোয়! রাংতা মোড়া রোদ চাড় হীন আলস্যে ঝিমিয়ে থাকে শৈশব থেকে দেখা বুড়ো শিমুল গাছের গায়ে! রোদ মরে  আসছে! কিছুক্ষণ পর গাছের মগডালে উড়ে আসবে রাজ্যের শকুন! ওদের গেরস্থালির সময় রাতে! শীত জন্মের আরো একটি দিন ফুরোবে নিছক অবহেলায়! এখানে সারি বাঁধা পুরোনো খেজুর গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সামনে তাকালে নতুন নদীর একটু আভাস মেলে! আমায় শীতের বেলা শেষের এই বিস্তৃত নদীচর বড্ড টানে! এক পাশে কুলঝোপ, অগোছালো মরে যাওয়া কাশবন, চরের মাঝে মাঝে কাদায় পা গেঁথে যাচ্ছে! জল শুকিয়ে সরে গেলেও নিদর্শনরেখে গেছে!নদীর কাছাকাছি দাঁড়িয়ে বড্ড লোভ হয় কোন পূর্ণিমা জ্যোস্না ফিনফিনে চাঁদের আলোয়নদীর চিকচিকে বালুচরেবেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে যেতে! সেই অবেলায় মনে হত হয়ত শীত জন্মের কোনো এক লগ্নে আমার সে সুযোগ আসতেও পারে! যাই হোক এখন দ্রুত আলোমরে যাচ্ছে!আমার পাতলা শার্টে ঠাণ্ডার প্রকোপ সইছে না! ঝুপ করে অন্ধকার ঢেকে দেবে চরাচর! ধুলো মাখা পথে পা বাড়িয়ে দেবুদের বাড়িকে পেছনে রেখে, ফেরার পথ ধরি! রবিশস্যের গন্ধে ম ম করা ক্ষেত পড়ে থাকে পেছনে, ঔদাসীন্য মাখা! শীত জন্মের ধরন বড় বেখাপ্পা! আবাহন থাকেনা, বিসর্জনও না! শুধু দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া থাকে, থাকে রিক্ততা, আর চাপা দীর্ঘশ্বাস!

No comments:

Post a Comment