Friday, May 1, 2026


 

অণুগল্প 

হৃদ

সোমা দাশ 

মন্দিরের পুকুরঘাটের সিঁড়িতে জলে পা ডুবিয়ে বসে আছে ছিদাম দুচোখে সমুদ্দুর

প্রভুআজ বিশ বচ্ছর তোমার চরণে এসেছিকিন্তু আজও পুরোপুরি তোমার হতে পারলাম না ছিদামের বন্ধ চোখের পাতায় স্পষ্ট ফুটে ওঠে তার গ্রাম গুঞ্জরিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠ বোশেখের তপ্ত দুপুরে মাঠের ধারের আম গাছের ডালে বসে দুই কিশোর-কিশোরী পাকা আম খাচ্ছে সে আর রাইকিশোরী ছিদামের মন তখন থেকেই রাই-এর কাছে বাঁধা পড়ে গেছে। কিন্তু আরেকটু বড় হয়ে রাই আবার তার মন সঁপে দিল পাশের গ্রামের কলেজ পড়ুয়া সমীরদা কে। সেই সম্পর্ক পোক্ত না হতেই রাই-এর বাবা তার বিয়ে দিয়ে দিল গাঁয়ের মহাজন আধবুড়ো দোজবরে শ্রীনিবাসের সাথে সেই রাতেই ছিদাম ঘর ছাড়ে বুড়ি পিসি ছাড়া বাড়িতে তার কেউ ছিলনা পালিয়ে এ গ্রাম সে শহর করে শেষে ভাসতে ভাসতে সে এসে ঠেকে বৃন্দাবনের এই আশ্রমে

 

মন্দিরে ভক্তরা ভক্তিগান গাইছে। হঠাৎ সুরেলা গলায় গান ভেসে আসে তোমায় হৃদ মাঝারে রাখব’ … এদেশে বাংলা গান?’ কৌতুহলী হয় ছিদাম দেখে পুকুরে নেমে আসছে এক বোষ্টুমী চোখ খুলেই তার চোখে চোখ পড়ল ছিদামের এ কেএই মুখের আদল যে তার বড় চেনা সেই চোখ - একটুও পাল্টায়নি ‘কিশোরী তুই? তোর সাথে এভাবে দেখা হওয়াও কি আমার কপালে ছিল? এজন্যই কি রাধাগোবিন্দ আমাকে আর কোথাও যেতে দেননি?’  

ছিদামের চোখের পুষ্করিনী জল থৈথৈ রাইকিশোরীর চোখেও বাষ্প

No comments:

Post a Comment