অণুগল্প
প্রত্যাবর্তন
বেলা দে
ভিসা হাতে আসতেই উৎফুল্ল দুই ভাইবোন পাওলো আর রুশো। বিদেশিনীর গর্ভজাত হলেও ওরা বঙ্গসন্তান,ডাক্তার অরুণাভ সান্যাল কলকাতায় ডাক্তারি পাশ করে উচ্চশিক্ষায় গিয়েছিল পশ্চিম জার্মানে, সেখানেই বিয়ে করে জার্মানকন্যা সিলভিয়াকে। বিদেশিনী বলে ক্ষোভ নেই শাশুড়িমায়ের, বরং খুব মনোহারী মেয়েটা,অরুনাভ একমাত্র ছেলে স্বর্ণব্যবসায়ী অমিতেষ সান্যালের। মস্ত শোরুম গড়িয়াহাটে, অক্ষতৃতীয়ায় প্রতিষ্ঠিত রাধামাধবের পূজো হয়, ছেলে আসে সপরিবারে। সিলভিয়া অত্যন্ত নিষ্ঠাভরে শাশুড়িমায়ের সাথে পূজো করে। ছেলেবেলায় হোস্টেলজীবন তাকে অসহায় করে দিয়েছিল, শাশুড়িমা তার জীবনপথে পাথেয়। বঙ্গসংস্কৃতি, সংস্কার সম্বন্ধে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল সে, এসময়টায় উৎসবমুখর বাংলা ১লা থেকে অক্ষয়তৃতীয়া ২৫শে বৈশাখ পর্যন্ত, বড় টানে শিশুদুটিকে। ঠাম্মির হাতের রান্নাগুলিও খুব মুখোরোচক, দাদুন ওদের নাম দিয়েছে রাইমনি আর ভোলানাথ। বাড়ির নাম " রাইভোলা ম্যানসন " এরমধ্যে করোনাভাইরাসের প্রকোপ , ওদের ফেরার টিকিট ক্যান্সেল। চিন্তিত ছেলেকে বাবা আশাস দেন তুই একজন কৃতি ডাক্তার, তোকে এদেশের খুব প্রয়োজন, স্বদেশের প্রতি তোর কোনো দায়বদ্ধতা নেই, আমি কি তোকে এই শিক্ষাই দিয়েছি? তিরের ফলার মতো বিঁধল কথাগুলো ছেলের বুকে। সহমত সিলভিয়ারও, এছাড়াও দুজন প্রবীণ মানুষকে ছেড়ে কিভাবেই যায়, কন্যার মতন বুকে টেনে নিয়েছে যারা। মায়ের মন্তব্যে একরাশ কালো মেঘ সরে গিয়ে রোদ ঝলমল ক'রে ওঠে শিশুমনে, দাদুন-ঠাম্মির সাথে এই ভারতবর্ষে থাকবে বলে, জাপটে ধরে ওদের।
No comments:
Post a Comment