Friday, May 1, 2026


 

অণুগল্প 

মায়ার বাঁধন 
মধুমিতা দে রায়


     একলা ঘরে হতাশাগ্রস্থ হয়ে ঘুমের ওষুধের শিশিটা হাতে নেয় সমীরন। মিমির শেষ মুহূর্তের 'বাবা' বলে চিৎকারটা এখনো কানে বাজে, আর যে সহ্য হয় না...। মিমি আর সুজয়াকে ছাড়া বাঁচবার কথা ভাবতেই পারে না সমীরন। 

সমীরন আর সুজয়া ওঁদের বাড়ির নাম রেখেছিল 'ভালোবাসার বাড়ি'। যেদিন প্রথম মিমির জন্মের কথা ডাক্তারবাবু জানায়, আনন্দের সীমা ছিল না ওঁদের। লাদাখে বেড়াতে যাওয়া নিয়ে কতো খুশী ছিল সুজয়া আর মিমি। কিন্তু কে জানতো সবকিছু এভাবে এলোমেলো হয়ে যাবে। পাহাড়ের গা বেয়ে বাসটা যখন গড়িয়ে পড়ে কোনোমতে জানালার ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতে পেরেছিল সমীরন, কিন্তু বাঁচাতে পারেনি মিমি আর সুজয়াকে। ওঁদের মৃত্যুর জন্য প্রতিনিয়ত নিজেকে দায়ী করে, আত্মদগ্ধ হয়...স্বার্থপর মনে হয় নিজেকে, শুধু নিজের জীবন বাঁচানোর চিন্তাই করেছে। 

    ওঁদের 'ভালোবাসার বাড়ি'তে সমীরন আজ একা। এই একাকিত্ব কুড়েকুড়ে খায় ওঁকে। তাও রাজা আছে বলে। মিমির আবদারেই রাজাকে এবাড়িতে নিয়ে আসা। সারাদিন রাজা মিমির পিছুপিছু ঘুরে বেড়াতো।

    সুজয়া আর মিমি ছাড়া এই দীর্ঘ জীবন কল্পনা করতে পারে না সমীরন.... ঘুমের ওষুধের শিশি আর জলের গ্লাসটা হাতে নেয় .... এমন সময় রাজা এসে গা ঘষতে থাকে ওর পায়ে, অবোধ চোখে তাকিয়ে থাকে। বেচারার খিদে পেয়েছে হয়তো...। মিমিকে ছাড়া ও যে বড় কষ্টে আছে। সত্যিই বড় স্বার্থপর সমীরন, আজও শুধু নিজের কথাই ভাবছে। ওঁর অবর্তমানে রাজার কী হবে, তা একবারও ভেবে দেখেনি। গ্লাসটা আর ওষুধগুলো রেখে সমীরন আদর করে হাত বুলিয়ে দেয় রাজার পশমি শরীরে।

No comments:

Post a Comment