স্বাধীনতা দিবস
বেলা দে
তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া ছোট্ট সানি স্বাধীনতার অর্থ জানে না, তবে জানার চেষ্টা অপরিসীম, মায়ের কাছে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জানতে চায় এবং জেনেছেও। বিপ্লবীদের কথা অনেক শুনেছে, চোখের জলে বালিশ ভিজে গেছে যেদিন কিশোর খুদিরামের ফাঁসির ঘটনা জানতে পারে। ওর মা মালতী বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে দুটি পেট চালায়।বাবা করোনাকালে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলে মা বহু কষ্টে সংসারটা টেনে নেয় উপরন্তু সানির লেখাপড়া। বড় সমঝদার ছেলে সে। খুব দাবিদাবা নেই মায়ের কাছে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মায়ের পড়াশোনা, মা কাজের মানুষ, রাতে সময় নিয়ে ওকে পড়ায়। আজ ১৫ই আগষ্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস, বড় দিদিমণির ভাষণ রীতিমতো গায়ে কাটা দিচ্ছিল। চোখের সামনে ভেসে আসে ছবির মতন বিপ্লবীদের লড়াই করে আনা স্বাধীনতার সে দিনগুলি। গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে বড়দি বলেন, "তেরঙ্গা পতাকা আর জাতীয় সংগীতকে তোমরা সম্মান করবে, আমাদের দেশের সম্পদ এদুটো। সবসময় মর্যাদা রক্ষা করবে স্বদেশের অর্থাৎ নিজেদের দেশেরজাতীয় পতাকার।" ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে মা মালতী কাজের বাড়িতে গেছে। ছুটি হলে ঘরের চাবি মায়ের থেকে আনতে চৌধুরী বাড়ির দিকে এগিয়ে চলেছে, প্রচন্ড জোরে হাওয়া বইছে। দুদ্দাড় ছোটে সানি। সেই বাড়ির সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়ালো, ছাদে টাঙানো জাতীয় পতাকাটি লাঠিসমেত খুলে আসছে নীচের দিকে, মাটি ছোঁয়ার আগেই বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে গিয়ে বুকে জাপটে নেয়, পতাকার অসম্মান হতে দেয় না। স্বাধীনতার প্রতীকী চিহ্ন বুকে তুলে নিয়েছে দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা, চৌধুরী বাড়ির সদস্যরা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ মহান কাজের জন্য পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করে ছোট্ট সানিকে।

No comments:
Post a Comment