Sunday, November 3, 2019




সম্পাদকের কথা

দীর্ঘ উৎসব শেষে আবার ফেরা নিত্য জীবনে। আসলে স্থায়ী নয় কিছুই জীবন প্রবাহ ছাড়া। তাই আবারও শুরু দৈনন্দিনতা। 
উৎসবের আবহে যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য দেখেছি তা যদি সারা বছর ধরে পারি, তবে নিজেরাই লাভবান হব। 
খারাপ লাগে এই আনন্দঘন মুহূর্তেও পরিবেশ নিয়ে আমাদের উদাসীনতা। দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দূষণের সম্মুখীন। জানিনা কবে আমাদের বোধ জাগবে, কবে আমরা বুঝতে শিখব। 
তবু হেমন্তের এই সময়ে, নবান্নের এই দেশে একটিই আশা যে, একদিন সুদিন আসবে।     


 মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা 
হসপিটাল রোড 
কোচবিহার 
ইমেল  ঠিকানা- mujnaisahityopotrika@gmail.com
প্রকাশক- রীনা সাহা 


সম্পাদনা, অলংকরণ ও বিন্যাস- শৌভিক রায় 



কবিতা


 শুভ দীপাবলী 
              
রাণা চ্যাটার্জী 


আলোর রোশনে মুখরিত সব
   কানে তালা লেগে স্তব্ধতা,
পূজা প্যান্ডেলে,ছাদ ক্যান্ডেলে
     শুভ দীপাবলি মুগ্ধতা।

কতকিছু বাজি কিনতেও রাজি 
তবু মানিয়েছে চড়কি-তুবড়িতে,
উঁচু আবাসনের ছোড়া রকেটে 
    ধরেছে আগুন ঝুপড়িতে।

আঁধার আকাশ ভরেছে ফানুসে
  সাত রাঙা আলো রঙ মশাল,
অনলাইন ছাড়,কার দরকার
     তবু হতাশায় নাজেহাল।

উৎসব প্রাণে মজেছে বাঙালী
   কত শত পূজা,ভুরিভোজ।
   শুধু খাই খাই যা কিছু পাই,
জীবন মহানন্দে কাটুক রোজ।
           

   মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬



সম্পাদকের কথা

দীর্ঘ উৎসব শেষে আবার ফেরা নিত্য জীবনে। আসলে স্থায়ী নয় কিছুই জীবন প্রবাহ ছাড়া। তাই আবারও শুরু দৈনন্দিনতা। 
উৎসবের আবহে যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য দেখেছি তা যদি সারা বছর ধরে পারি, তবে নিজেরাই লাভবান হব। 
খারাপ লাগে এই আনন্দঘন মুহূর্তেও পরিবেশ নিয়ে আমাদের উদাসীনতা। দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দূষণের সম্মুখীন। জানিনা কবে আমাদের বোধ জাগবে, কবে আমরা বুঝতে শিখব। 
তবু হেমন্তের এই সময়ে, নবান্নের এই দেশে একটিই আশা যে, একদিন সুদিন আসবে।     


 মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা 
হসপিটাল রোড 
কোচবিহার 
ইমেল  ঠিকানা- mujnaisahityopotrika@gmail.com
প্রকাশক- রীনা সাহা 


সম্পাদনা, অলংকরণ ও বিন্যাস- শৌভিক রায় 



কবিতা

রাত্রি 

দীপ্তিমান মোদক 


অল্প আলোর গলিটাতে,বাবুদের আনাগোনা। 
রাত্রি ওখানেই থাকে।
শরীরটাকে বিলিয়ে দেয়,ইচ্ছে ছাড়া। 
বিনিময়ে আসে মোটা অংকের টাকা
উপায় নেই....     
ঘরে দুটো জীবন্ত লাশ।
রাত্রির চোখে পৃথিবী সমান স্বপ্ন, 
কিন্তু ভোরের বিষন্নতা থেকে রাতের ক্লান্তির ছাপ
ঐ পর্যন্তই তার জীবন। 
শরীর যতবার ভোগ হয়েছে ততবার, 
বুকের ভেতরের মাংসপিণ্ডটাতে ছুরির আঘাত লেগেছে। 
যে নাকি বাধ্য হয়ে শাড়ির আঁচল নামিয়ে রাখে,
সে প্রতিরাতে স্বপ্ন দেখে
মাথায় ঘোমটা দিয়ে সাঁঝবাতির। 
স্বপ্নটাও দেখা পূরণ হয় না,কে যেন আবার
দরজায় কড়া নাড়ে..... 

মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬                                



সম্পাদকের কথা

দীর্ঘ উৎসব শেষে আবার ফেরা নিত্য জীবনে। আসলে স্থায়ী নয় কিছুই জীবন প্রবাহ ছাড়া। তাই আবারও শুরু দৈনন্দিনতা। 
উৎসবের আবহে যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য দেখেছি তা যদি সারা বছর ধরে পারি, তবে নিজেরাই লাভবান হব। 
খারাপ লাগে এই আনন্দঘন মুহূর্তেও পরিবেশ নিয়ে আমাদের উদাসীনতা। দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দূষণের সম্মুখীন। জানিনা কবে আমাদের বোধ জাগবে, কবে আমরা বুঝতে শিখব। 
তবু হেমন্তের এই সময়ে, নবান্নের এই দেশে একটিই আশা যে, একদিন সুদিন আসবে।     


 মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা 
হসপিটাল রোড 
কোচবিহার 
ইমেল  ঠিকানা- mujnaisahityopotrika@gmail.com
প্রকাশক- রীনা সাহা 


সম্পাদনা, অলংকরণ ও বিন্যাস- শৌভিক রায় 



কবিতা


ক্ষত

তাপসী লাহা


সমস্ত স্বরের ভেতর থেকে একশো এক নিবিড়া,

উকুনের মত দাপিয়ে বেড়ানো

রি রি করে ওঠা অসন্তোষেরা ঘায়ের কলোনী, ক্ষত দগদগে

মাত্রা ছাড়ালে সংক্রমণের পরিভাষা
তামজ নৃত্যের অহংকার,

   মৃৎ শিল্পরা নান্দনিক শ্রেষ্ঠ
    তবু ভেঙে যায়

প্রশ্ন অহরহ আঁচড়ায়,
ওরা কি কালের নিদেন পায়!
পরিধির ভেতর থেকে একাকার বিন্দুরা বৃন্তচ্যুত হয়
নাম  ও গন্ধজাত সবকটা পার্শ্বটান পাখনার মত
মীনজলে সাঁতরায়।


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬



সম্পাদকের কথা

দীর্ঘ উৎসব শেষে আবার ফেরা নিত্য জীবনে। আসলে স্থায়ী নয় কিছুই জীবন প্রবাহ ছাড়া। তাই আবারও শুরু দৈনন্দিনতা। 
উৎসবের আবহে যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য দেখেছি তা যদি সারা বছর ধরে পারি, তবে নিজেরাই লাভবান হব। 
খারাপ লাগে এই আনন্দঘন মুহূর্তেও পরিবেশ নিয়ে আমাদের উদাসীনতা। দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দূষণের সম্মুখীন। জানিনা কবে আমাদের বোধ জাগবে, কবে আমরা বুঝতে শিখব। 
তবু হেমন্তের এই সময়ে, নবান্নের এই দেশে একটিই আশা যে, একদিন সুদিন আসবে।     


 মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা 
হসপিটাল রোড 
কোচবিহার 
ইমেল  ঠিকানা- mujnaisahityopotrika@gmail.com
প্রকাশক- রীনা সাহা 


সম্পাদনা, অলংকরণ ও বিন্যাস- শৌভিক রায় 



কবিতা

সুতো
       মৌসুমী চৌধুরী


এক পশলা নেমে আসতেই
ভেসে যায় তট, সুনামি অভিমান।

যাপনে ট্রাফিকজ্যাম, পুলিশ, পার্কিং,
কচি কচি গলার কলকাকলি, 
বায়না এগরোল, ফুচকা, চুরমুর...

নিয়ন-আলোয় ছন্দিতা-মহানগর
গোধূলির আকাশে এক টুকরো বিষাদ।
মনের শেষ সুতোটুকুও খুলে দিলাম তোমায়
উড়ে যাওয়া রঙিন ঘুড়িটির পায়।


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬






সম্পাদকের কথা

দীর্ঘ উৎসব শেষে আবার ফেরা নিত্য জীবনে। আসলে স্থায়ী নয় কিছুই জীবন প্রবাহ ছাড়া। তাই আবারও শুরু দৈনন্দিনতা। 
উৎসবের আবহে যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য দেখেছি তা যদি সারা বছর ধরে পারি, তবে নিজেরাই লাভবান হব। 
খারাপ লাগে এই আনন্দঘন মুহূর্তেও পরিবেশ নিয়ে আমাদের উদাসীনতা। দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দূষণের সম্মুখীন। জানিনা কবে আমাদের বোধ জাগবে, কবে আমরা বুঝতে শিখব। 
তবু হেমন্তের এই সময়ে, নবান্নের এই দেশে একটিই আশা যে, একদিন সুদিন আসবে।     


 মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা 
হসপিটাল রোড 
কোচবিহার 
ইমেল  ঠিকানা- mujnaisahityopotrika@gmail.com
প্রকাশক- রীনা সাহা 


সম্পাদনা, অলংকরণ ও বিন্যাস- শৌভিক রায় 



কবিতা

১টা রহস্যময় চতুর্ভুজের সঙ্গম 




সংখ্যাগুলো বিলিয়ে দিলেই অবশেষ
অবশিষ্ট শূন্য থেকে অসীম
অতএব
যথেচ্ছ ওম নিয়ে ফেরা যাক

শূন্যাঙ্ক পেরিয়ে সৌরযানের সিঁড়ি
আর পৃথিবীরূপী গোপন ক্লিভেজ্
সুতরাং
তীব্রতর তড়িৎপ্রশ্ন বিদ্ধ করে স্পর্শের আগেই

হাতড়াই আদরের ধোঁয়া
গলনশীল পরমাণু পুড়ে যাবে বলেই
তবুও বৃত্তশীল
পাখি ও পথ বড়ো এলোমেলো 

জোড়াচুম্বক পার হলেই আয়নাআবেশ
কতোটা মেনে নিয়েছি শীতলতাময়
আকাশী আঁচল ছিঁড়ে তবুও বাজি রাখি
মৃত স্মৃতিকোষ রাখবো না বেঁধে


শব্দরূপ : রাহুল গাঙ্গুলী



মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬




সম্পাদকের কথা

দীর্ঘ উৎসব শেষে আবার ফেরা নিত্য জীবনে। আসলে স্থায়ী নয় কিছুই জীবন প্রবাহ ছাড়া। তাই আবারও শুরু দৈনন্দিনতা। 
উৎসবের আবহে যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য দেখেছি তা যদি সারা বছর ধরে পারি, তবে নিজেরাই লাভবান হব। 
খারাপ লাগে এই আনন্দঘন মুহূর্তেও পরিবেশ নিয়ে আমাদের উদাসীনতা। দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দূষণের সম্মুখীন। জানিনা কবে আমাদের বোধ জাগবে, কবে আমরা বুঝতে শিখব। 
তবু হেমন্তের এই সময়ে, নবান্নের এই দেশে একটিই আশা যে, একদিন সুদিন আসবে।     


 মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা 
হসপিটাল রোড 
কোচবিহার 
ইমেল  ঠিকানা- mujnaisahityopotrika@gmail.com
প্রকাশক- রীনা সাহা 


সম্পাদনা, অলংকরণ ও বিন্যাস- শৌভিক রায় 



কবিতা



নবান্ন

সুবীর সিনহা রায় 


হিম হিম কুয়াশা,আঘন বাতাসে আনন্দ নাচে
আমনগন্ধ আকুল, হেমন্তিমাঠে ফসলের বান
অমৃতশালী কপিলভোগ কালিজিরা নেত্রমালী --
রাশি রাশি ধান ভূলক্ষ্মিদান গোলা ভরে ওঠে
উলুধ্বনি শাঁখ বাজে মঙ্গলঘটভরা ধানেশ্রী বরণ ;
উৎসব আয়োজন বাংলার ঘরে ঘরে,
এস মাগো বস ঘরে ঠাঁই,ক্ষুধার অন্ন হয়ে সম্বছর, প্রার্থনা এই
রোগশোক দূর কর সন্ততিজন সুখে যেন থাকে --
নূতন ধানে নবান্ন নিবেদন উপাচার সমারোহ ! 

ধানভানা গান ঢেকির সুরে তালে
জগজন মাতে আনন্দ উচ্ছাসে
অন্নদাত্রী-আরাধন ভক্তিতে, আশিশ মাগে 
 শ্রদ্ধার্ঘ দিয়ে পিতৃপুরুষের কাছে, অক্ষয়ধন 
সুস্থ জীবন সুখশান্তি সংসারে রাখ অটুট,, 

খুশির উৎযাপন  নবান্ন বিতরণ ঘরে ঘরে 
পরস্পরে জাতপাত দূরে ভায়ে ভায়ে কোলাকুলি
প্রীতি বিনিময় আপামরজনে আনন্দমুখর উৎসব... 

আছে কি আজ সেদিনের আনন্দ সমারোহ
মেতে ওঠে কি ধনী নির্ধন খুশির নবান্ন উৎসবে
অনাহার চারদিকে দারিদ্র্য দলিত, চাষার লাঞ্ছনা, 
'নবান্ন' শাসন কঠিন কৃষক খামারে আত্মঘাত
ক্ষুধার সূচক নামে শূন্য ক্রমাঙ্ক ধরে, কী করে 

নবান্ন পরব আসে !!   



 মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬




সম্পাদকের কথা

দীর্ঘ উৎসব শেষে আবার ফেরা নিত্য জীবনে। আসলে স্থায়ী নয় কিছুই জীবন প্রবাহ ছাড়া। তাই আবারও শুরু দৈনন্দিনতা। 
উৎসবের আবহে যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য দেখেছি তা যদি সারা বছর ধরে পারি, তবে নিজেরাই লাভবান হব। 
খারাপ লাগে এই আনন্দঘন মুহূর্তেও পরিবেশ নিয়ে আমাদের উদাসীনতা। দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দূষণের সম্মুখীন। জানিনা কবে আমাদের বোধ জাগবে, কবে আমরা বুঝতে শিখব। 
তবু হেমন্তের এই সময়ে, নবান্নের এই দেশে একটিই আশা যে, একদিন সুদিন আসবে।     


 মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা 
হসপিটাল রোড 
কোচবিহার 
ইমেল  ঠিকানা- mujnaisahityopotrika@gmail.com
প্রকাশক- রীনা সাহা 


সম্পাদনা, অলংকরণ ও বিন্যাস- শৌভিক রায় 



প্রবন্ধ

গ্রামের হাতে দূষণের ভবিষ্যত 

         সুশান্ত পাল 


দিগন্ত বিস্তৃত ধানের ক্ষেতের সবুজ বাহার, জল ফড়িং আর প্রজাপতির মেলা গ্রামের মহিমা টিকিয়ে রাখতে বদ্ধ পরিকর। কিন্তু কীটনাশকের উগ্রগন্ধ আমায় মনে করায় বীভৎস বিভিশিকার আভাস। রাখালের গরুর পালের খুঁড়ের শব্দ আমায় শান্তি দেয়, তবে নদীর মাঝে গোস্নান বড্ড মনখারাপ করে দেয়। খেজুর গাছের রসের হাঁড়ি মন ভালো করে এক নিমেষে কিন্তু ঐযে শৌচকর্ম ঝোপের পাশে। পুকুরে রুই, কাতলা, মাগুর, সিঙ্গি তবে ঐযে মাছের পেটে পার্থেনিয়াম আর পারদের স্তর। 
মানুষজাতি অগ্রগতির শিহরে, একবিংশ শতকের স্বর্ণ দাঁড় খুলে যাওয়ার দুই দশক তবে পুরোটা সাফল্য নাকি সাফল্যর পিছনে লুকিয়ে আছে একটা কালো অধ্যায়। প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানব জাতি, নাকি মানব জাতির বিরুদ্ধে প্রকৃতির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তা নির্ণয় করা বেশ শক্ত। শহুরে সমাজকে প্রকৃতি বহু পূর্বেই দেখিয়েছে দূষণের অধ্যায়। কিন্তু শহর আর গ্রামের মেলবন্ধন দীর্ঘ যুগ ব্যাপী, তাই দূষণ ধীরে ধীরে ব্যাপ্তি লাভ করছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। গ্রাম ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দূষণের প্রাণকেন্দ্র।

গ্রাম্য দূষণের প্রকৃতি কিছু এই রূপ.. অশিক্ষিত কৃষক শ্রেণীর কিছু অবহেলা, কিছু লোভ গ্রামের নদী, মাটি, জল, বায়ু এক এক করে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। উচ্চ ফলনের তাগিদে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার, কীটনাশক বিষিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতি,মানুষের শরীরে বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করছে অবিরত। খাদ্য শৃঙ্খল বিনষ্ট, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য হারিয়ে মানুষ এক অজানা অতল বিপদের সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ কঠিন রোগ ব্যাধির শিকার গ্রাম থেকে গ্রামান্তর। অরণ্য ধ্বংস করে চাষের জমি তৈরী ভবিষ্যতে ভোগাবে বিশ্ববাসীকে।  
পাখির সংখ্যা ইতি পূর্বেই কমেছে যথেষ্ট, জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত।  সাপের সংখ্যা লোপ পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। কীট পতঙ্গ বেড়ে গেছে বহুগুন। খরা, বন্যা ভারসাম্য হারিয়েছে। তাপমাত্রা উর্দ্ধগামী সঙ্গে সমুদ্রের স্তর বাড়ছে। গ্রাম্য প্রকৃতি আজ ছন্নছাড়া।  

দূষণের আতুর ঘর হয়ে উঠছে সুজলা সুফলা গ্রামগুলি। শিক্ষিত সমাজ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে উদ্যোগী হলে ভবিষৎ প্রজন্মকে একটু সুন্দর গ্রাম উপহার দেওয়া কঠিন ব্যাপার নয়। তবে এর জন্য চাই সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা। গ্রাম শহরে একটাই জনমত হোক দূষণ মুক্ত সমাজ, দূষণ মুক্ত দেশ। 




আধুনিক সভ্যতা ধ্বংসের মূল কারণ হতে পারে প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য

বটু কৃষ্ণ হালদার


পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ।পৃথিবীতে মানব সভ্যতা শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করে আসছে যুগের পর যুগ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত বিদ্যায় একধাপ উচুঁতে অবস্থান করেছে এই সভ্যতা।প্রতিনিয়ত মানুষ ছুটে চলেছে কিছু নতুন সৃষ্টির আশায়। বিমুখ করেনি বিজ্ঞানীরা।তাই বিশ্ব আজ তালুবন্দি।যে কোন সমস্যার  সমাধানের সূত্র বের করে বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ দিয়ে চলেছে।কিন্তু প্রশ্ন একটাই সত্যি কি সব সমস্যার সমাধান সূত্র বের করতে সক্ষম হয়েছে?এত কিছুর পরেও কোন না কোন দিক দিয়ে আমরা অসহায় বোধ করছি প্রতিনিয়ত।
প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে বহু যুগ আগে উন্নত এক নগর কেন্দ্রিক সভ্যতার কথা জানা যায়। সে সভ্যতার নাম হরপ্পা সভ্যতা। সভ্যতাটি ধ্বংস হয়ে যায়। এ থেকে প্রমাণ হয় উত্থান আছে যার পতন নিশ্চিত। কিন্তু প্রশ্ন হল সেই সভ্যতার ধ্বংসের কারণ যদি আমরা নিজেরাই হই তাহলে কেমন হবে ব্যাপারটা। এই অত্যাধুনিক সভ্যতার যুগে ও পৃথিবীর বয়স যত বাড়ছে ততোই অমীমাংসিত সমস্যার সম্মুখীন হয়ে চলেছি আপনার। এ সমস্যার সমাধান বের করতে আমাদের অনেক জটিল বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।এ পৃথিবীতে বিজ্ঞান সত্যিই আশীর্বাদ,কিন্তু দিন দিন সেই আশীর্বাদ অভিশাপে পর্যন্ত হচ্ছে।অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বিদ্যার চাপে পৃথিবীর জীবন নাভিশ্বাস হয়ে উঠছে আর তার জন্য দায়ী আমরা নিজেরাই।দুনিয়ার মানুষ জীবনধারণের তাগিদে পরিস্থিতি চাপে অনেক ভারী দ্রব্য বহন করে নিয়ে চলে কিন্তু একটা বাজারের ব্যাগ হাতে নেবার সময় হয়ে ওঠে না অনেকেরই,তার বিকল্প হিসাবে আসে প্লাস্টিকের ব্যাগ। প্লাস্টিকের ব্যাগ বোতল কিংবা যাবতীয় জিনিসপত্র আছে পৃথিবীর ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসেবে রচনা করতে পারে নতুন ইতিহাস। বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশগুলি নিজেদের অস্তিত্ব টুকু বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াসে হাত মেলাচ্ছে বারবার। খুঁজে বেড়াচ্ছে সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়। যে সমস্যা প্রতিনিয়তঃ পৃথিবী দরজায় কড়া নাড়ছে তা হলো "জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা"।
জলবায়ু পরিবর্তনের একাধিক কারণ আমাদের সামনে আসছে। প্রকৃতি নয় এজন্য বেশি তাই মানব সভ্যতা।মানব সভ্যতা দূষণের অন্যতম কারণ হলো প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য। সবার প্রথমে আমাদের জানতে হবে প্লাস্টিক কি? প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ তৈরি হয় মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে। যেমন তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কে ব্যবহার করে। ভূগর্ভস্থ থেকে খনিজ পদার্থ নিষ্কাশন করার সময় বিপুল পরিমাণে দূষিত পদার্থের নির্গমন ঘটে। উল্লেখযোগ্য পদার্থ গুলি হল কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড,ওজন,বেনজিন এবং মিথেন।এর সবকটা পদার্থ গ্রীনহাউস প্রক্রিয়ার জন্য দায়ী। এই গ্রীনহাউজ প্রক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। যার ফলে বেড়ে চলেছে AC-এর চাহিদা।এই গ্রীনহাউজ প্রক্রিয়ার ফলে হিমালয়ের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাবে। তার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের থেকে নিচে অবস্থানরত দেশগুলোর প্রায় অনেক অঞ্চল সমুদ্রের তলদেশে বিলীন হয়ে যাবে সেটা কিন্তু নিশ্চিত। আবার  প্লাস্টিকের বোতল কিংবা দৈনন্দিন জীবনে সৌন্দর্যয়নের জন্যে ব্যবহৃত সবই পদার্থ বিষাক্ত পয়জন। বিশ্ব সৌন্দর্যায়নের মধ্যে লুকিয়ে আছে মৃত্যু পুরীর রহস্য।যে সমস্ত প্লাস্টিকের বোতল গুলো ব্যবহার করি তার মূল উপাদান পলিইথিলিন।একটি গবেষণায় দেখা যায় এক আউন্স পরিমাণ পলিইথিলিন প্রস্তুত করতে প্রায় পাঁচ আউন্স পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে। যার মানে হল যতটা প্লাস্টিক দ্রব্য ব্যবহার করছি তার থেকে বহু গুণ বেশি দূষিত  ছড়াচ্ছি পরিবেশে। আবার শিল্পোন্নত দেশগুলোতে বাজার জাতকরণের জন্য প্লাস্টিকের চাহিদা ব্যাপক। বাবুল শিল্পোন্নয়নের নামে কি পরিমান পরিবেশ দূষণ করে চলেছে এই 
সমস্ত দেশগুলো?
এ প্লাস্টিক শুধুমাত্র মানবজীবনে নয় এমনকি সামুদ্রিক প্রাণীদের জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ। প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক জীব বিলুপ্ত হচ্ছে। ২০১০ সালের ১৯ শে এপ্রিল"দ্য সিটল স টাইমস" নামক দৈনিক একটি খবর খুব সারা জায়গায়। শীতল সমুদ্র সৈকতে মৃত পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি বিশাল আকৃতি তিমিকে।পরে মৃত্যুর কারণ নিয়ে গবেষণায় দেখা যায়সেই তিমির মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো পাকস্থলীতে উপস্থিত ও বহুজাতিক প্লাস্টিক দ্রব্য। এমনিভাবে জলজ প্রাণীর মৃত্যু খবর সুখদায়ক নয়। এমন বহু জলজ প্রাণীর মৃত্যু সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে বারবার। এরপর জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরা হয় সেখানে বলা হয় প্রতি বছর প্রায় ৮০০ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী সমুদ্রের বর্জ্য পদার্থ দ্বারা আক্রান্ত হন। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য যা নিতান্তই আমাদের দায়বদ্ধতা।তাই আসুন সবাই মিলে প্লাস্টিক মুক্ত সমাজ গড়ার শপথ গ্রহণ করি। তা না হলে যে সুন্দর পৃথিবী কে বাসযোগ্য গড়ে তোলার অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলাম, সেই পৃথিবীতে খুঁড়তে হবে কফিনের গর্ত।


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬




সম্পাদকের কথা

দীর্ঘ উৎসব শেষে আবার ফেরা নিত্য জীবনে। আসলে স্থায়ী নয় কিছুই জীবন প্রবাহ ছাড়া। তাই আবারও শুরু দৈনন্দিনতা। 
উৎসবের আবহে যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য দেখেছি তা যদি সারা বছর ধরে পারি, তবে নিজেরাই লাভবান হব। 
খারাপ লাগে এই আনন্দঘন মুহূর্তেও পরিবেশ নিয়ে আমাদের উদাসীনতা। দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দূষণের সম্মুখীন। জানিনা কবে আমাদের বোধ জাগবে, কবে আমরা বুঝতে শিখব। 
তবু হেমন্তের এই সময়ে, নবান্নের এই দেশে একটিই আশা যে, একদিন সুদিন আসবে।     


 মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা 
হসপিটাল রোড 
কোচবিহার 
ইমেল  ঠিকানা- mujnaisahityopotrika@gmail.com
প্রকাশক- রীনা সাহা 


সম্পাদনা, অলংকরণ ও বিন্যাস- শৌভিক রায় 



 কোনো এক কার্তিকের নবান্নের দেশে...


 ঋতুবদলের পালাকার
     কুমকুম ঘোষ

- ঈষৎ হাস্য করে , কনে দেখা আলোর  মোহ ঝেরে ফেল, দেখা-না- দেখার বিপন্নতা দূরে সরিয়ে রেখে;  টলমল পায়ে  আঁধার নেমে এলো নিমতলা স্ট্রিটে র কোণাকুণি। রাস্তাটা সোজা চলে যাচ্ছে শ্মশানে র দিকে। এখানেই একদিন শ্রাবণের বাইশে' বৃষ্টি থমকে দাঁড়িয়েছিল, নতজানু মেঘ প্রসারিত ডানায় উদ্বিগ্ন ও ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল যাবতীয় বিস্ময় ঝেরে ফেলে। 

সে কোন বিগত শতকের কথকতা: সে সব ই ভুলে গেছে এ শহর।
ঋতুবদলের কাহিনী এখানে গা-ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে ফুটপাতে, নিত্য পসারিনীর সস্তা লিপস্টিকে আর ঝিকিমিকি শাড়িতে।

এখন ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে  সন্ধ্যে নামে যেন থিয়েটারের সামনের কার্টেন টা পড়ার মত; দর্শকদের হাততালি আরো কিছুটা সময় তাড়িয়ে তাড়িয়ে দেখতে চায় যেন কুশীলবরা; অভিনন্দন গ্রহণ কোরে, পর্দা নামার ঠিক আগে। তেমনি ভাবে নদীর ওপারে তখন ফিরোজা- লাল আকাশ দিনের সব মোহ ত্যজ্য করে  আলোর পর্দা নামিয়ে ফেলে ধীরগতিতে।

এবার নামলো বুঝি আঁধার, হৃদয়ে অথবা গোপনে।

রাস্তাটা মোড় নেয় ডানদিকে।ঢোড়া সাপের মত এলিয়ে পড়ে থাকা ট্রামরাস্তায় কচিৎ ঘটর ঘটর আওয়াজ শোনা যায়।  অযথা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সময়, পেছন ফিরে চলে যায়।
পাতা ঝরার সময় এখন। শহরের পেটে রুজির ধান্দায় ঢুকে পরার পর দৈবাৎ কেউ মুখ তুলে তাকায় ফুটপাতের কদম গাছটার দিকে। বাতাস তবু শিরশিরিয়ে উঠে কাঁপন ধরায় পাতায় পাতায়।

এ শহরে প্রকৃতির উদ্ঘাটন উদযাপিত হয় না নাগরিক হৃদয়ে, শুধু দু একটা বেয়ারা ছোকরা কখনও রঙ তুলি গিটারে ঝরে পড়া পাতার বেদনাকে সময়ের হাতে সঁপে দেয় কচ্চিৎ কদাচিৎ রবীন্দ্র সদনে অথবা নন্দনে।

সে এক সময় ছিল, দাবি ছিল হৃদয়ের কোণে কয়েকটি তরুণের; বাসনার কপোতাক্ষ নদে ডিঙা বেয়ে পাড়ি দেবে উজানে;  ক্ষয়াটে চাঁদের জ্যোৎস্না দিয়ে ভাত মেখে খাবে তারা:  সাধ ছিল ফুটপাতের পাথর স্বর্গের সুধা দিয়ে ধুয়ে দেবে বলে ;  কৃত্তিকা নক্ষত্রের আলো দু মুঠোয় ধরে জোনাকি ওড়ানোর বাসনা ছিল আমরণ।তারা জেনেছিল ফুটপাতের অন্দরে  হাইড্রেন্টের যাবতীয় কার্যকলাপের বাইরেও একটা শহরের রূপকথা  আটকে ছিল কয়েক শতাব্দী ধরে। কথা ও রূপের স্রোতে ভেসে যেতে যেতে প্রতিদিন ভোরে কুয়াশার সর মেখে ফিরে যেত তারা ধান‌ বোনার আশ্বাস বুকে নিয়ে, ফিরে যেত যে যার নিশ্চিত ঘেরাটোপে।

শুধু, অনিশ্চিত যাপনের ওম গায়ে মেখে  সেদিনের যাবতীয় বাসনার কুয়াশা ছেঁড়া কমলা রোদ‌ শুষে নিয়ে এক প্রৌঢ় আজো নিশ্চিন্তে হেঁটে যায়, মৃত সব নক্ষত্রের সাথে।

আজও ধানের গল্প নবান্নের আশ্বাস বুকে জেগে থাকে।


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬




সম্পাদকের কথা

দীর্ঘ উৎসব শেষে আবার ফেরা নিত্য জীবনে। আসলে স্থায়ী নয় কিছুই জীবন প্রবাহ ছাড়া। তাই আবারও শুরু দৈনন্দিনতা। 
উৎসবের আবহে যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য দেখেছি তা যদি সারা বছর ধরে পারি, তবে নিজেরাই লাভবান হব। 
খারাপ লাগে এই আনন্দঘন মুহূর্তেও পরিবেশ নিয়ে আমাদের উদাসীনতা। দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দূষণের সম্মুখীন। জানিনা কবে আমাদের বোধ জাগবে, কবে আমরা বুঝতে শিখব। 
তবু হেমন্তের এই সময়ে, নবান্নের এই দেশে একটিই আশা যে, একদিন সুদিন আসবে।     


 মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা 
হসপিটাল রোড 
কোচবিহার 
ইমেল  ঠিকানা- mujnaisahityopotrika@gmail.com
প্রকাশক- রীনা সাহা 
সম্পাদনা, অলংকরণ ও বিন্যাস- শৌভিক রায় 





ব্যক্তিগত গদ্য


 হেমন্ত বাতুলতা 
            
 শ্যামলী সেনগুপ্ত
 
     


কিছুদিনের জন্য একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে হয়ে ছিল৷খুব মশার উৎপাত৷মশারি টাঙানোর জন্য ঘরের দেওয়ালে পেরেক পোঁতার দরকার৷ মিস্তিরি এলো,তুরপুন চালিয়ে দেয়াল ফুটো করার প্রস্তুতি চললো৷চেয়ারে বসে সেদিকেই তাকিয়ে ছিলাম৷প্লাগ পয়েন্ট থেকে তার ছড়িয়ে আছে মেঝের ওপরে,খসে পড়ছে চুনসুরকিবালির মিশ্রণ৷একঘেয়ে দাঁত শিরশিরানি শব্দের সঙ্গে সহবাসের সময়পঞ্জী সামান্য হলেও আমার মনশ্চক্ষে তৈরি হলো অন্য রূপ৷ততক্ষণে মেঝের ওপর জমে উঠেছে অষ্টগন্ধার ছোট্ট ঢিপি ...মানে ঐরকম একটা বোধ হল৷তুরপুন ঘুরে চলেছে আর একটা অদ্ভুত শব্দের অনুরণন আমার মাথা জুড়ে , সেই শব্দে কেমন যেন ঘোরলাগা ভাব৷ ছিদ্রগুলি চক্রাকার৷ ঐ চক্রের দিকে তাকিয়ে আছি আর চোখের সামনে ভিড় করছে কুলকুন্ডলিনী,ষট্‌চক্র,ইড়া,পিঙ্গলা৷ কিরকির শব্দ, যেন কুন্ডলিনীর ঘুম ভাঙিয়ে মেরুদন্ড ধরে তাকে উপরে ওঠানো হচ্ছে ৷ কুন্ডলিনী কি রূপক! আর ঐ যে তারটি তুরপুনের প্রান্তে লাগানো ওটাই কি সুষুম্নাকাণ্ড! ছোটবেলা জেঁকে বসে৷ কালী ঠাকুরের রক্ত পানের দৃশ্যে দুই দিকে দুটি লাল নলী,যা গিয়ে ঠেকেছে মুখ গহ্বরে, মনে হতো ঐ দুটিই বোধহয় ইড়া পিঙ্গলা! আরও আগে ইড়াপিঙ্গলা শুনলেই ভাবতাম ডাকিনী-যোগিনী৷মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে এসব দেখতে দেখতে স্নায়বিক উত্তেজনা হতো প্রখর,তৈরি হতো illusion, রাতে স্বপ্নের ঘোরে অদ্ভুত সব অবয়ব ভিড় করতো৷ ছোটবেলায় এমন illusion হতো হেমন্তের ফসলক্ষেত দেখলে৷দূর থেকে মনে হতো সোনার মাঠ, রাশি রাশি সোনা! সোনা সম্পর্কে তেমন লোভ গজায়নি তখনও,সোনার মূল্যায়নও শেখা হয় নি বরং তুলনাত্মক ছিলো সোভিয়েত দেশের পাতায় দেখা ইউক্রেনের গমক্ষেত৷একটা সামনে একটা মনে, অসম্ভব সুন্দর চিত্র যেন দুটোই দেখছি৷ শেষে এমন হতো সামনে ধান না গম সেটাই বুঝতে পারতাম না৷ এটাও ঠিক ওটাও ঠিক৷চোখের সামনে যেটা দেখছি সবসময় সেটা ঠিক ঐ জিনিসটা না ও হতে পারে৷ কুন্ডলিনী আর মূলাধারচক্রের স্বরূপ যেন তাদের দরজাগুলো খুলতে লাগলো এতদিন পরে কালীপার্কের ঐ ফ্ল্যাটবাড়ির ঘরটিতে। 




                                               (২)
       

দক্ষিণ ২৪ পরগণার গড়িয়া৷ ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে কয়েক পা হাঁটলেই ৪৫/বি বাস টার্মিনাস ৷ ছাতেরও ছাত থাকে, সেখানে উঠলে দেখা যায় ঝমঝম করে মেট্রোরেল চলে যাওয়ার আলো আলো খোপ৷ চারিদিকের আলোর তীব্রতায় অন্ধকার স্থায়ী হয় না বেশিক্ষণ,বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা মেট্রোরেলের শব্দ কানে যায়৷ এমন অবস্থানে একদিন রাতে শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিলাম৷ হঠাৎই চোখ চলে যায় বিপরীত দেওয়ালে ঝোলানো ক্যালেন্ডারের মা -কালীর ছবিতে৷ ধক্ করে ওঠে বুকের ভেতরে৷ ছেলের অফিস রাতে৷ আমি একা টু বি এইচ কে ফ্ল্যাটে৷অনেক চেষ্টা করি চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার, অনেক চেষ্টা করি চোখ বন্ধ করতে৷পারছিলাম না৷মা-কালীর নরমুন্ড মালাটি কেমন খলবল করছে৷,জবার মালা থেকে ঝলসে উঠছে আগুনের গোলক৷খাঁড়ার রক্তের দাগ থেকে কি গড়িয়ে পড়ল দু'ফোঁটা রক্ত! Is there any body there?নাহ্! কোনও স্বর বেরলো না৷ আমার শরীর অবশ, হাত-পা নাড়াতে পারছি না, চোখের পাতা বন্ধ করতে পারছি না৷মনে হচ্ছিল সমস্ত শরীরে টপ টপ করে রক্তের ফোঁটা ঝরে পড়ছে, উষ্ণ আঁশটে গন্ধযুক্ত৷ হঠাৎই স্পাইনালকর্ডের নীচের দিক থেকে এক তীব্র অনুভূতি! খ্যাটাশ শব্দে ব্রহ্মতালু ফুঁড়ে কিছু বেরিয়ে গেল যেন আর মুহূর্তেই চোখের একেবারে সামনে কালো কুচকুচে একটি মুখ,লাল জবার মতো চোখ,বিশাল জিভ...আমি ভয় পেয়েছিলাম খুব৷ এই কি মূলাধারচক্র , সমস্ত যুক্তি দিয়েও যার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না৷ আসলে শতদলচক্র কে নিয়ন্ত্রণ করবেই বা কে!সে তো টিমলিডার , হাইপোথ্যালামাস৷ গোটা শরীরকে চালনা করে যে শতদলচক্র, সেদিন কি সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তা! ডোপামিন আর সেরাটোনিন কি ভারসাম্যের সূক্ষ্মতা অতিক্রম করেছিল সেদিন৷ জানি না৷ তবে এটুকু জানি হেমন্তের অপরাহ্ন থেকে তারা আমাকে ঘিরে রাখে,তারা আসলে নেই কিন্তু স্পষ্ট অনুভব করি তাদের অস্তিত্ব ৷সন্ধ্যায় যখন ক্ষেত থেকে চাষীরা ঘরে ফেরে, যখন শহরের বাতিওয়ালারা ট্রান্সফর্মারে যাদুকাঠি ছুঁইয়ে জ্বেলে দেয় আলো, তখন তাদের জন্য আমিও জ্বেলে দিই তেল জড়ানো সলতেগুলি,জ্বলে ওঠে প্রদীপ,তাদের পথ দেখায়,তৈরি করে আলোর সরণী ৷
                         



                                            (৩)
    


হেমন্ত নবান্নের মাস৷হেমন্ত মানে চাষীর ঘরে সোনা কিন্তু হেমন্ত আমাকে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যায় পেছনে, স্রোতের উৎসমুখে৷ নবান্নের চালমাখা রেখে আসি ছাদের আলসের এক কোণে,অপেক্ষায় থাকি ওরা আসবে বায়স রূপে, ঠোঁটে তুলে নেবে চালের নতুন স্বাদ,ঘাড় কাত করে টলটলে দৃষ্টি ছুঁড়ে দেবে, পরিতৃপ্ত ডানায় আমি ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান শুনি...বড় মধুর, বড় মায়াময় সেই ধ্বনি ৷


মুজনাই সাহিত্য পত্রিকা অনলাইন কার্তিক সংখ্যা ১৪২৬