Sunday, September 1, 2024
শহর
অর্ধেক বয়সের নিজের সঙ্গে কথোপকথন:১
লিপিকর
অর্ধেক: শহর ছেড়ে চল্লুম, বুঝলে! সারা সপ্তাহ হোস্টেলের ঘ্যাঁট গিলে একটা গাঁয়ে ক্লাস করা … খুব মিস করি মহানগরের সিনেমা, অনুষ্ঠান, রেস্তোরা, লাইব্রেরিগুলো, কে জানে আবার কবে বইমেলা বা ফিল্ম ফেস্ট-এ আসতে পারবো! এত পড়াশুনো করার কোনো মানে আছে কিনা কে জানে!
আমি: আমিও মিস করি … এই শহর, বা বলা ভালো, এই শহরে বাস করা কিছু প্রিয় মানুষকে। কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান বা জায়গা অতটা আর টানে না, যতটা ওই মানুষগুলোর সাহচর্য্য জড়িয়ে থাকে ভাবনাকে।
অর্ধেক: তবে পরীক্ষা না থাকলে প্রতি উইকেন্ডেই আসব, আসতেই হবে। নইলে হাঁপিয়ে মরে যাবো ওই কালচার-হীন গরু চরা ক্যামপাসে। তুমি কতদিন বাদে বাদে আসো?
আমি: গত বছরখানেকে মোটামুটি ২-৩ মাসে একবার এসেছি, কখনো আরও বেশী।
অর্ধেক: বলো কি? তুমি এবছর দুর্গাপুজো বা ক্রিস্টমাসের সময়ে এখানে আসো নি?
আমি: না: দুবারই অফিসে কাজের চাপ মারাত্মক ছিল এমন নয়, ঘোরতরভাবে চাইলে ছুটি ম্যানেজ করা যেত না তাও নয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই দুটো সময়ের কোনোবারই আসা হয় নি।
অর্ধেক: আমিও পুজোর সময়ে এই শহরকে খুব একটা পছন্দ করি না। ভিড়ভাট্টা, মাইকের উপদ্রব, চাঁদার উৎপাত। ম্যাডক্সের মামনিদের আড্ডায় আমার আর ইহজীবনে কলার তোলা হলো না। আচ্ছা, তুমি ফিল্ম ফেস্টের সময়ে এখানে ছিলে?
আমি: ছিলুম, ভেবেওছি, সিনেমা দেখতে বেরোবো, তারপরে কোথা দিয়ে দিনের পরে চলে গিয়েছে দিন, একটাও সিনেমা শেষ অব্দি দেখে ওঠা হয় নি! একজন ছোট্ট মানুষের সঙ্গে অননুযোগে সময় কেটেছে দিব্যি।
অর্ধেক:সেকী! বইমেলার সময়ে তো এখানে ছিলে জানি, তখন নিশ্চয়ই অনেক দিন গিয়েছো?
আমি: না: একদিনই মাত্র গিয়েছিলুম, ঘণ্টা দেড়েক ছিলুম, তার মধ্যেই মনে হচ্ছিলো, এসে আর কীই বা হবে, আর কোথায়ই বা যাবো। বেশ বোরিং আর ক্লান্ত লাগছিলো।
অর্ধেক: ধু-উ-উ-র! ফিল্ম ফেস্টে যাও না, বইমেলায় একদিন, মাথার চুলও তো দেখছি পাকছে, তুমি গুরু বুড়ো হয়ে যাচ্ছো!
আমি: হুঁ , আজকাল মাঝে মাঝে নিজের বা সবার ভ্যালু সিস্টেম নিয়েও চিন্তা ভাবনা করে ফেলি, তারপর নিজেই অবাক হয়ে যাই।
অর্ধেক: পু-উ-রো গোল্লায় গেছো। বুড্ঢা একটা। হোপলেস, জরদগব, বেকার। আমি কক্ষনো তোমার মতো হব না।
আমি: (নিশ্বাস ফেলে) বেকার হতে বেশি বাকী আর নেই। তবে বাকিগুলো পুরোপুরি ঠিক। আমিও কী আর আমার মত হতে চেয়েছিলুম?
রাষ্ট্র শহর জীবন ও বসরাই গোলাপ
সন্তোষ ভট্টাচার্য
একটা রাষ্ট্রকে পিঠে করে নিয়ে উড়ে যাচ্ছে নক্ষত্র
শতাব্দী ছাড়িয়ে তার ঘুমের ভিতর অরাজকতা
উটের মুখ থেকে ধ্বনিত হচ্ছে নিচারের নৈরাজ্যবাদ
দেহতত্বের সমুদ্র সুড়ঙ্গে দরজা খুলছে পলাতক পরাজয়
খুব ভোরে কুৎসিত শহর প্রসব করছে পিঙ্গল হরিণী
হত্যার পূর্ব মুহূর্তে মহৎ ভবিষ্যত যার ভাগ্যে লেখা ছিল
জীবন লুকিয়ে আছে বাঘের খাঁচায় স্পর্শ পেলে ফেটে যাবে
এই রাষ্ট্র, শহর, জীবনকে রাইসিন আর নাক্স ভমিকা দাও
বাঁচতে বাঁচতে মরবে অথবা মরতে মরতে বেঁচে যাবে
এখানে একটা সূর্য কোটি কোটি মৃত্যুকে দেখেছে
কিন্তু কোটি কোটি মৃত্যু একটা সূর্যকেও দেখতে পায় নি
অল্প আলোতে ধুলিস্যাৎ কর জীবন যেখানে প্রাণ নেই
ইরেজার দিয়ে মুছে দাও শহর যেখানে জীবন নেই
গুঁড়িয়ে ফেল রাষ্ট্র মধ্যবর্তী দ্রাঘিমা, বসাও বসরাই গোলাপ চারা
শান্ত এক শান্তিতে অল্প পাওয়ারের ব্লু লাইট সারারাত জ্বলবে
শহুরে জীবন
মজনু মিয়া
অনুভবে
কেতকী বসু
নতুন শাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্য এলো না
আমাকে পুরানো সেই শাড়িটা দাও,
যেখানে অজস্র দাগ আর মলিনতার চিহ্ন লেগে আছে।
আমার গোপন যৌবনের প্রথম প্রেমের বেদনা,
জমা হয়ে আছে স্তরে স্তরে,
সেই কাপড়ে আমাকে জড়িয়ে নাও।
রাতের অন্ধকার যখন গোটা শহরকে নিশ্চুপ করে দেয়
সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ,
আমি তখন পুরানো কাপড়ে নগ্নতা ঢাকি আড়ালে।
সস্তা প্রেমে বাহারি দুনিয়ায় বিজ্ঞাপনের ভিড়ে
জ্বলন্ত ঠোঁটে সিগারেট আর মিথ্যের সাজে,
আমি লজ্জায় মুখ ঢাকি পুরানো পরিধানে।
পুরানো কাপড়ে উত্তাপ খুঁজি ইথারে মিশে যাওয়া প্রেমে।
আমাকে ভালোবাসায় সেই কাপড় এনে দাও।
হাতুড়ির খুট খাট
অলকানন্দা দে
তোমাকে শোনাব প্রেমের কবিতা হে তিমির,
তেমন রাত্রি আর আসবে না।
অশান্ত নীহারিকা ক্ষতবিক্ষত অরুন্ধতী হতভাগা আকাশটার গায়ে।
অকরুণ আঁধারে ক্ষয়ে গেছে প্রেম, বলে না একটিও কথা।
হাতুড়ির শব্দে রাত্রিরা মুখ গুঁজে পড়ে থাকে।
বারোমাস চলে মৃত নগরী বোনা।
জোনাকিরা গেছে সহমরণে জোৎস্নার সাথে।
গাছ নেই ছায়া নেই ক্লান্ত হলুদ পাখি কার্নিশে কাঁপে।
বিমনা সে, ভাবে কোথায় পৃথিবী, ক্ষেত মাঠ ঘাস!
দৃশ্যের ক্ষুধায় কেঁদে ভাসে শুধু গরম বাতাসে।
রাতের কোলে নেই রাতচরা।
অনুরাধা রোহিণী যেন গত জন্মের মুহুর্তে ভেসে থাকা আলো।
ধনপতির হাতে গড়া এটা যে শ্মশানের দেশ।
উপরে আকাশ দেখি না। দেখি শুধু কুহকের আলো।
সারি সারি অপ্রেম অনুপ্রেরণার গলা টেপে।
সব শিশুকে প্রবীণ করে কংক্রিট কঙ্কাল।
এ কি পৃথিবী! নিরাশার হিসাব ডিঙিয়ে উঠে যায় ফ্লাইওভার। মিলিত হয় তাদের সমাজে।
আর একটিবার ওড়ার মতো একটুও আকাশ বেঁচে নেই ঘুড়ির জীবনে।১৭
কোনটা পূর্ব ঠিক করে দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
তিমিরহননে কোরাসে মত্ত হাতুড়ি স্মরণীয় শতক এনেছে।
এখানে জীবন নিতান্ত পরিমেয়, কিচ্ছু করার নেই।
বিচারের বাণী
বদল
মিষ্টু সরকার
এবার তো জাগ মা
কনক চক্রবর্তী



















